• লা লিগা
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    ভিয়ারিয়ালে আটকে গেল রিয়াল মাদ্রিদ

    ফুলটাইম
    ভিয়ারিয়াল ১-১ রিয়াল মাদ্রিদ


    আরও একবার পেনাল্টিতেই কপাল পুড়ল রিয়াল মাদ্রিদের। এবার অবশ্য একটি পেনাল্টিই হজম করতে হয়েছে জিনেদিন জিদানের দলকে। তবে তার হতাশা কম হওয়ার কথা নয়, ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ভিয়ারিয়ালকে বাক্সবন্দী করে রেখেও জয় পাওয়া হয়নি রিয়াল মাদ্রিদের। ৭৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে ড্র করেছে রামোস-বেনজেমাহীন রিয়াল। আগের ম্যাচে হারের পর এবার ড্র। ৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ থাকল পয়েন্ট টেবিলের চারে। আর রিয়ালকে আটকে দিয়ে উনাই এমেরির ভিয়ারিয়াল পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বর স্থানটা আরেকটু শক্ত করেছে।

    ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ৩ বার পেনাল্টিতে গোল হজম করার রাতে ভুলগুলো করেছিলেন রিয়ালের তিন ডিফেন্ডার। এবার পেনাল্টিটা দিয়েছেন থিবো কোর্তোয়া নিজেই। এগিয়ে গিয়ে স্যামুয়েল চুকুভেজাকে বক্সের ভেতর ডানদিকে ফেলে দিয়েছিলেন কোর্তোয়া। লক্ষ্য ছিল বল ধরা, কিন্তু বেলজিয়ান গোলরক্ষক পেয়েছেন চুকুভেজার পা। স্পট কিকটা অবশ্য কোর্তোয়া আন্দাজ করেছিলেন ঠিক দিকেই, তবে জেরার্ড মরেনো আরও বামদিকে নিচু শটে জালে বল জড়িয়ে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।


    পয়েন্ট হারানোর জন্য রিয়াল শুধু নিজেদেরই দুষতে পারে। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মারিয়ানো ডিয়াজ। দানি কারভাহালের ক্রস থেকে উড়ন্ত হেডারে মার্চের পর প্রথমবারের মতো গোল পেয়েছেন তিনি।

    এডেন হ্যাজার্ড, লুকাস ভাসকেজদের সঙ্গে আক্রমণভাগে ডিয়াজের সংযোজন ছিল চমক জাগানিয়া। গত বছর মে মাসে সবশেষ একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ডিয়াজ। এই নিয়ে সবশেষ ৭ বার একাদশে শুরু করে ৬ বারই তিনি গোল পেলেন। সার্জিও রামোস-করিম বেনজেমা ছিলেন না চোটের কারণে, কাসেমিরোও করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠেননি। সব মিলিয়ে বেশ কিছু সমস্যা রিয়ালে ছিল। কিন্তু ডিয়াজের গোলে দারুণ শুরুর পর সেগুলো কেটে যাওয়ার কথাও ছিল। 

    এই মৌসুমে একমাত্র বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচটা বাদ দিয়ে এমেরির ভিয়ারিয়াল ভালোই খেলছে। পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে তাদের অবস্থানও সেরকম ইঙ্গিতই দিয়েছে। তবে রিয়ালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে তারা একেবারেই হারিয়ে গেল। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আসলে তারা রিয়ালের ছায়াতেই ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ানো আর হয়নি রিয়ালের।

    প্রথমার্ধের মতো পরের অর্ধেও একই তালে খেলা চলছিল। প্রথমার্ধে দানি পারেহো একবার ভালো জায়গায় থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে ভিয়ারিয়াল সত্যিকার অর্থে প্রথম আক্রমণের সুযোগ পেয়েছিল টনি ক্রুসের একটি ভুল থেকে। কাসেমিরোর অনুপস্থিতিতে ক্রুস আর মদ্রিচ অনেকটা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকা পালন করছিলেন। মার্টিন ওডেগার্ড বেশিরভাগ সময়ে আক্রমণে থাকলেও নিচে নামছিলেন তিনিও। কিন্তু নিচ থেকে খেলা বিল্ড আপের সময় ক্রুসের একটি পাস ছিনিয়ে নিয়েই রিয়ালকে প্রথম ভয় পাইয়ে দিয়েছিল ভিয়ারিয়াল। পরে অবশ্য মরেনো গোলে শট করতে ব্যর্থ হন।

    ম্যাচের সময় ঘন্টাখানেক পেরিয়ে যাওয়ার পর তিনটি পরিবর্তন করেন এমেরি। ৬১ মিনিটে মাঠে নামেন চুকুভেজা, ইয়েরেমি পিনো ও পার্ভিস এস্তুপিনান। এই তিনজন ভিয়ারিয়ালের আক্রমণে গতি ফিরিয়ে আনেন। তাতে রিয়ালও চাপে পড়ে গিয়েছিল। এর ভেতর দানি পারেহোও একবার দারুণ এক সুযোগ পেয়েও বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বল মারেন বাইরে। তবে ৭৬ মিনিটের পেনাল্টিতে সে হতাশা ভুলেছেন পারেহো।

    শেষদিকে রিয়াল তেমন আর আক্রমণেই উঠতে পারেনি। ভিনিসিয়াস আর ইস্কোকে জিদান গোল হজমের আগেই নামিয়েছিলেন। পরে নামিয়েছিলেন মার্কো আসেনসিওকে। কিন্তু রিয়ালের শ্লথ আক্রমণভাগের চেহারা ফেরাতে পারেননি কেউই। উলটো রিয়াল থেকে ধারে খেলতে যাওয়া তাকেফুসো কুবো শেষদিকে সব আলো ছিনিয়ে নেওয়ার পায়তারা করেছিলেন। কিন্তু যোগ করা সময়ে তার শট ব্লক করে কারভাহাল দলকে রক্ষা করেছেন। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন