• লা লিগা
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    গোলের পর ম্যারাডোনার জার্সিতে মেসি

    ফুলটাইম 
    বার্সেলোনা ৪-০ ওসাসুনা 


    বক্সের বাইরে থেকে ছন্দ তুলে ডিফেন্ডারদের ছিটকে ফেললেন, বাম পায়ের শটে বল জড়ালেন জালে। লিওনেল মেসির এই রুপ এই মৌসুমে এতোদিন দেখা যায়নি। ওসাসুনার বিপক্ষে বার্সেলোনার চতুর্থ গোলটি করে মেসি চিরচেনা রূপে ফিরলেন ন্যু ক্যাম্পে। তবে গোল নয়, মেসির উদযাপন ছাপিয়ে গেল সবকিছু। সতীর্থদের আলিঙ্গন থেকে মুক্ত হওয়ার পর মেসি জার্সি খুলে ফেললেন। তার নিচে নিউওলস ওল্ড বয়েজের নাম্বার টেন জার্সি। যে জার্সিতে ডিয়েগো ম্যারাডোনা ক্যারিয়ারের শেষদিকে খেলেছিলেন নিউওয়েলসের হয়ে। দুই হাত উঁচু করে এরপর মেসি সেই গোল উৎসর্গ করলেন কিংবদন্তী ম্যারাডোনাকে।


    আর্জেন্টাইন ফুটবল ইশ্বরের জন্য তার উত্তরসূরী এই মুহুর্তটা জমিয়ে রেখেছিলেন বোধ হয়। দুইজনের ভেতর এমনিতেই অনেক মিল। ম্যারাডোনাও বার্সায় খেলেছেন, মেসির ক্যারিয়ারই শুরু হয়েছিল নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজে।  

    ম্যাচের শুরুটাও হয়েছিল আবেগঘন। তার সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা ন্যু ক্যাম্পে ম্যারাডোনাকে স্মরণ করেছে শ্রদ্ধাভরে। স্টেডিয়ামের পতাকা ছিল অর্ধনমিত, ম্যারাডোনার গায়ে চড়ানো বার্সার নাম্বার টেন জার্সিটিও আনা হয়েছিল গ্যালারিতে। নীরবতা পালনের সময় মেসি তখন নত মাথায় গভীর সমবেদনায় স্মরণ করেছেন ম্যারাডোনাকে। ম্যাচের শেষে মেসির গোল উদযাপন পূর্ণতা দিয়েছে সব আয়োজনের। 

    ওসাসুনার বিপক্ষে জয়েও অবশ্য নতুন শঙ্কা ভর করেছে বার্সায়। ডিফেন্ডার ক্লেমেন্ত ল্যাংলেট চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন দ্বিতীয়ার্ধে। জেরার্ড পিকে, রোনাল্ড আরাউহো, স্যামুয়েল উমতিতির পর তাই ল্যাংলেটও ছিটকে গেলেন। তবে তিনি কতোদিনের জন্য মাঠের বাইরে থাকবেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে যেভাবে ল্যাংলেট মাঠ ছেড়েছেন তা বার্সার জন্য ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে না। 

    ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গেও দূরত্ব কমিয়ে এনেছে। এক ম্যাচ বেশি খেলা রিয়ালের পয়েন্ট ১৭। 

    ল্যাংলেটের চোটে স্বস্তি উবে যাওয়ার আগে ন্যু ক্যাম্পে বার্সার প্রাপ্তিযোগ ছিল অনেক। আন্টোয়ান গ্রিযমান ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এক গোল করেছেন তিনি, করেছেন আরেক অ্যাসিস্টও। শুরুটা অবশ্য করেছিলেন মার্টিন ব্রাথওয়েট। জটলার ভেতর থেকে বল জালে ঠেলে দিয়ে ২৯ মিনিটে দলকে লিড এনে দিয়েছিলেন তিনি। 

    গ্রিযমান তার আগে থেকেই উজ্জ্বল ছিলেন। ম্যাচের দশম মিনিটে মেসি, গ্রিযমানের দারুণ সমন্বয়ের পর ফিলিপ কৌতিনহোর শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার হওয়ায় তখন এগিয়ে যেতে পারেনি বার্সা। এরপর গ্রিযমান দুইবার গোলে শট করে হতাশ হন। একবার ওসাসুনা গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন তার শট, আরেকবার কোণাকুণি শটে লক্ষ্য মিস করেছেন তিনি।

    বিরতির তিন মিনিট আগে বিস্ময়কর এক স্ট্রাইকে গোল পেয়ে যান গ্রিযমান। বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে জড়ান ফ্রেঞ্চম্যান।  ৫৭ মিনিটে গ্রিযমানের ক্রস থেকেই এক টোকায় তৃতীয় গোলটি করেন কৌতিনহো। 

    বদলি নেমে উসমান ডেম্বেলেও বল জালে জড়িয়েছলেন। তবে অফসাইডের কারণে আর গোল পাওয়া হয়নি তার। পরে ৭৩ মিনিটে মেসি সব আলো কেড়ে নেনে চিরচেনা ছন্দে গোল করে। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন