• লা লিগা
  • " />

     

    আরও একবার বার্সাকে হারানোর পর লা লিগার শীর্ষে রিয়াল

    আরও একবার বার্সাকে হারানোর পর লা লিগার শীর্ষে রিয়াল    

    ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্ত। রিয়াল মাদ্রিদ এগিয়ে ২-১ গোলে। বার্সা গোলশোধের চেষ্টা করছে পড়িমড়ি করে। বক্সের ভেতর বল পেলেন মরিবো, দুর্দান্ত কন্ট্রোলের পর তার শট ফিরে এলো পোস্টে লেগে। এক পয়েন্ট পাওয়া হলো না বার্সার। রিয়াল জিতল ২-১ গোলে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম লা লিগার ডাবল হলো তাদের। ১৯৭৮ সালের পর ক্লাসিকোতে এই প্রথম জিতল টানা তিন ম্যাচ। আর সেই সঙ্গে সাময়িকভাবে বার্সা ও অ্যাটলেটিকোকে টপকে উঠে এলো লিগের শীর্ষে।

    এই ম্যাচের আগে সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে কাদিজের কাছে হেরেছিল বার্সা। রিয়ালও ছিল ভালো ফর্মে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারটা হলো বার্সারই। মেসি টানা সাত ক্লাসিকোতে গোল বা অ্যাসিস্টহীন রইলেন। কাছাকাছি গিয়েও গোল করতে বা করাতে পারেননি আজ।

    ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়ে যায়। বার্সেলোনা অনুমিতভাবেই বলের দখল বেশি নিতে চেয়েছে, মধ্যমাঠে বল ছিল তাদের পায়েই বেশি। রিয়াল মাদ্রিদ নিচে নেমে রক্ষণ করেছে, কিন্তু বার্সা ডিফেন্সে একজন বেশি নিয়েও ওয়ান অন ওয়ান মার্কিং করার চেষ্টা করেছে। আর সেটারই ফায়দা নিয়ে প্রতি আক্রমণে রিয়াল বার বার ভীতি ছড়িয়েছে।

    ম্যাচের প্রথম গোলটা পাওয়ার জন্য রিয়ালকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৩ মিনিট। মধ্যমাঠে বল পাওয়ার পর দারুণ এক দৌড়ে বার্সা রক্ষণকে এলোমেলো করে দিয়েছেন ফ্রেডি ভালভের্দে, এরপর বল বাড়িয়েছেন ডান দিকে। লুকাস ভাজকেজের নিচু ক্রসটা একভাবেই জালে ঢোকাতে পারতেন করিম বেনজেমা। ডান পায়ের ম্যাজিকাল ব্ল্যাকফ্লিকে জালে জড়িয়ে দিয়েছেন, ধরে রেখেছেন তার দুর্দান্ত গোলস্কোরিং ফর্ম।

    ২৮ মিনিটে রিয়ালের দ্বিতীয় গোলটা ছিল ভিনিসিয়াস জুনিয়রের অবদানে। আরেকটি দারুন দৌড়ের পর ভিনিসিয়াসকে বক্সের বাইরে ফেলে দিলেন রোনাল্ড আরাউহো, একটুর জন্য সেটা পেনাল্টি হয়নি। টনি ক্রুসের ফ্রিকিক বার্সার একজনের গায়ে লেগে দিকবদল করে, কিন্তু সেটা লাইন থেকেও হেড করে ফিরিয়ে দিতে পারেননি আলবা, জড়িয়ে দিয়েছেন জালে। দুই গোলের লিড নেওয়ার একটু পর তিন নম্বর গোলটাও রিয়াল পেয়েই যেত। এবার আরেকটি দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকের পর ভালভের্দের শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ফিরতি বলটা পেয়ে গিয়েছিলেন ভাজকেজ, কিন্তু তার শট ফিরিয়ে দেন টের স্টেগেন।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসেও রিয়ালের গোলে কোনো শট ছিল না বার্সার, ছিল না সেরকম কোনো পরিষ্কার সুযোগ। রিয়ালের রক্ষণে এসে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছিল মেসিদের চেষ্টা। প্রথমার্ধের একদম শেষ দিকে সবচেয়ে কাছাকাছি যায় বার্সা, মেসির কর্নার বুঝতে ভুল করেছিলেন কোর্তোয়া। কিন্তু তাকে ফাঁকি দিলেও বল ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ক্লাসিকোতে খরাটা কাটানোর সেবারই কাছাকাছি গিয়েছিলেন মেসি। খানিক পর অবশ্য আরেকটি কর্নার থেকে মেসির শট ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    দ্বিতীয়ার্ধে দেসের বদলে গ্রিজমান নামে, মাঠে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। রিয়ালের রক্ষণ একটু খেই হারাতে থাকে, সেই সুযোগই নিয়েছে বার্সা। ৬০ মিনিটে মেসির আরেকটি দারুণ পাস থেকে জর্দি আলবার ক্রসটা ডামি করেছিলেন গ্রিজমান, মেকশিফট রাইটব্যাক মিনগুয়েজা ডান পায়ে বলটা জড়িয়ে দেন জালে। এর পরেই ভিনিসিয়াস অন্তত দুবার গোল করতে পারতেন। একবার নিজে শট না করে বেনজেমাকে দিতে গিয়ে ক্লিয়ার করার সুযোগ করে দিয়েছেন বার্সাকে, আরেকবার হেডটা করতে পারেননি ঠিকঠাক।

    এরপর দুই দলই গোল করার অনেক সুযোগ পেয়েছিল। ম্যাচের শেষ দিকে ব্রাথওয়েটের একটা পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি, এরপর মার্সেলো নষ্ট করেন সহজ একটা সুযোগ। তার আগে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন কাসেমিরো। কিন্তু বৃষ্টিভেজা মাঠে কেউ আর গোলটা করতে পারেননি।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন