• লা লিগা
  • " />

     

    ভিএআর নাটকের জমজমাট ম্যাচে শেষ সময়ের গোলে আশা বাঁচিয়ে রাখল রিয়াল

    ভিএআর নাটকের জমজমাট ম্যাচে শেষ সময়ের গোলে আশা বাঁচিয়ে রাখল রিয়াল    

    শিরোপার সাথে ব্যবধানটা কি তাহলে কয়েক ইঞ্চি?

    কাসেমিরোকে জিজ্ঞেস করলে তাই বলবেন। শেষ মুহূর্তে তার শট কয়েক ইঞ্চি এদিক সেদিক হলেই জালে জড়িয়ে যেত। তাহলে জয় পেত রিয়াল, উঠে যেত শীর্ষে। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হয়েছে ম্যাচ, সেই গোলও রিয়াল পেয়েছে যোগ করা সময়ে এসে। হারতে হারতে বেঁচে গিয়ে এখনও টিকে আছে লা লিগার আশা। খুব সম্ভবত লা লিগার এই মৌসুমের সেরা ম্যাচগুলোর একটিতে এখনও তাই লা লিগা জমজমাট রইল।

    অথচ এই ম্যাচে কথা হতে পারত ভিএআর নিয়ে। যে সিদ্ধান্তটা থেকে ভিএআরের সিদ্ধান্ত বদলে সেভিয়ার পক্ষে পেনাল্টি হলো, সেটা রিয়ালের পক্ষে গেলে পেনাল্টি পেতে পারত তারাই। এমনকি কিক নেওয়ার জন্য বল হাতে দাঁড়িয়েও ছিলেন করিম বেনজেমা। কিন্তু সেটা আর হয়নি। ভিএআরে পেনাল্টি গেছে সেভিয়ার কাছেই, আর সেটা থেকে গোল করে দলকে মহামূল্যবান জয় এনে দিলেন ইভান রাকিতিচ। বার্সার সাবেক খেলোয়াড় পুরনো ক্লাবের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন, সেই সঙ্গে মনে হচ্ছিল প্রায় শেষ করে দিলেন রিয়ালের শিরোপা সম্ভাবনা। কিন্তু নাটকের আরও বাকি তখন।

    আজকের ম্যাচে জিতলে রিয়ালই চলে যেত লা লিগার শীর্ষে। ড্র যাওয়ায় এখন তাদের পয়েন্ট ৭৫, বার্সার সমান ও অ্যাটলেটিকোর চেয়ে ২ কম। রিয়ালের একটাই আশা, হেড টু হেড বার্সা-অ্যাটলেটিকোর চেয়ে ভালো। ওদিকে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে সেভিয়ার সুযোগও এখনও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।

    সেভিয়ার বিপক্ষে রিয়ালের রেকর্ডটা ছিল আসলে দুর্দান্ত, নিজেদের মাঠে শেষ ১১ ম্যাচ জিতেছিল ম্যাচপ্রতি ৩,৫ গোলেরও বেশি করে। আক্রমণ আর পালটা আক্রমণে ভরা ম্যাচে শুরুটা ভালো করেছিল সেভিয়া। কিন্তু রিয়াল প্রথম পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিল, ডান দিকে অদ্রিওজলার ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেড করে এগিয়ে দিয়েছিলেন বেনজেমা। কিন্তু ভিএআরে অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় গোল।

    সেভিয়া ওদিকে ২২ মিনিটে এগিয়ে যায়। দারুণ কিছু পাস বিনিময়ের পর ডান দিক থেকে ক্রস ভেসে আসে রিয়ালের বক্সে। রাকিতিচ দারুণ এক স্পট হেডে সুযোগ করে দিয়েছিলেন ফার্নান্দো রেগেসকে। এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ঠাণ্ডা মাথায় কাসেমিরোর ট্যাকল কাটালেন, এরপর পা বদল করে বল জড়িয়ে দিলেন জালে।

    রিয়াল এরপর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করতে থাকে। ভিনিসিয়াস, মদ্রিচরা চেষ্টা করতে থাকেন, কিন্তু গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়াস গোলের একদম কাছাকাছি গিয়েছিলেন, কিন্তু সহজ সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর আসেন্সিও নেমেই পেয়ে যান গোল। বেনজেমা বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর আসেন্সিও-কাসেমিরোর পা ঘুরে বল পান ক্রুস। তার মাপা পাস থেকে বাঁ পায়ের ফিনিশে নিয়ার পোস্টে বল জালে জড়িয়ে দেন আসেন্সিও, মাঠে নামার পরেই।

    এর পরেই আসে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত। বক্সে একটা হেড করার জন্য লাফিয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু মিলিতাও হ্যাণ্ডবলের সঙ্গে প্রতিপক্ষকে ধাক্কা দিয়েছিলেন বলে মনে হয়েছিল। রেফারি সেটা অগ্রাহ্য করেই খেলা চালিয়ে যান। ফিরতি প্রতি-আক্রমণ থেকে বেনজেমা বল ধরে যখন গোল করবেন, তাকে ফেলে দিলেন সেভিয়া গোলরক্ষক বনো। পেনাল্টির বাঁশি বাজালেন রেফারি, কার্ড দেখানোর অপেক্ষায়। কিন্তু ভিএআরে সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি পায় সেভিয়া।

    যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ মুহূর্তে টনি ক্রুসের শট ডিয়েগো কার্লোসের পায়ে লেগে দিকবদলে ঢুকে যায় জালে। প্রায় হারতে হারতে ড্র করে এক পয়েন্ট পেল রিয়াল। কিন্তু কাসেমিরো গোল পেয়ে গেলে লা লিগার ভাগ্য থাকত তাদের হাতেই।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন