• টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল ২০২১
  • " />

     

    আলো-আঁধারের লুকোচুরির দিনে কোহলিতে ভর করে এগুচ্ছে ভারত

    আলো-আঁধারের লুকোচুরির দিনে কোহলিতে ভর করে এগুচ্ছে ভারত    

    ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল, সাউদাম্পটন 
    ২য় দিন, স্টাম্পস 
    ভারত ১ম ইনিংস ১৪৬/৩, ৬৪.৩ ওভার (কোহলি ৪৪*, রোহিত ৩৪, রাহানে ২৯*, গিল ২৮, জেমিসন ১/১৪, ওয়াগন্যার ১/২৮, বোল্ট ১/৩২) 


    যদি আগেরদিনের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে কন্ডিশনের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে খেলার জন্য- বলতেই হবে। বৃষ্টি সেভাবে না থাকলেও আলোকস্বল্পতা ছিলই, শুরু থেকেই ছিল ফ্লাডলাইট। একটা পর্যায়ে গিয়ে কন্ডিশনকে আর উপযুক্ত মনে করেননি আম্পায়াররা, বারকয়েক এমন হওয়ার পর তৃতীয় সেশনে হতে পেরেছে মাত্র ৯.১ ওভার। এর আগে যা হলো, তাতে নিজেদের পারফরম্যান্সে বেশি খুশি হওয়ার কথা ভারতেরই। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষ করেছে তারা ৩ উইকেট হারিয়ে ১২০ রানে, অবিচ্ছিন্ন আছে অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে আজিঙ্কা রাহানের জুটি। আর নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে পরের দুই সেশনে বোলিংয়ে আরও বেশি ধারাবাহিকতা আসলেও প্রথম সেশনে কন্ডিশনের সুবিধা আদায় করতে না পারার ব্যাপারটি খোঁচাতে পারে তাদের। 

    কোহলিকেও শেষ পর্যন্ত টলাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। রোহিত শর্মা ও শুবমান গিলের ভাল একটা শুরুর পর দ্রুত উইকেট হারালেও কোহলি ঝুলে আছেন, ১২৪ বলে ৪৪ রানের ইনিংসে তার একটি বাউন্ডারির সংখ্যাই বলে দেয়- ব্যাটিংয়ে ভিন্ন অ্যাপ্রোচ নিয়ে নেমেছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত সোজা ব্যাটে সেভাবে খেলেননি, যেটিও স্বভাববিরুদ্ধ তার। শেষ সেশনেও যে তিনটি বাউন্ডারি এসেছে, তার সবই মেরেছেন রাহানে। ২০১৪ সালে ইংল্যান্ড-দুঃস্মৃতি ভুলে যে কোহলিকে দেখা গিয়েছিল, এবার আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আরেকজনের ইঙ্গিত মিলেছে প্রথম দিনে। তবে নিউজিল্যান্ডের জন্য এখনও আশার কথা, প্রায় পুরো দিনই মিলেছে মুভমেন্ট। অবশ্য তৃতীয় দিন গিয়ে কন্ডিশনের নাটকীয় পরিবর্তন হলে বদলে যাবে অনেক দৃশ্যপটই। 



    টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে মেঘাচ্ছন্ন কন্ডিশনে অল-পেস আক্রমণ নিয়ে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড, তবে কন্ডিশন আর ডিউক বলের সঙ্গে টিম সাউদি-ট্রেন্ট বোল্টের ওপেনিং জুটি যেমন মুখে জল আনার মতো হওয়ার কথা ছিল, ঠিক তেমন হয়নি। শুরুতে লাইন-লেংথ নিয়ে বেশ ভুগেছেন তারা, বিশেষ করে সাউদি। তারা হয় বেশি ফুললেংথে করেছেন, অথবা করেছেন শর্ট। সঙ্গে ছিল লেগসাইডঘেঁষা লাইনও। রোহিত ও গিল- দুজনই সামনে এসে খেলেছেন মুভমেন্ট নাকচ করতে, সফলও হয়েছেন। বেশ সতর্ক ছিলেন দুজন, তবে সুযোগ পেলেই খেলেছেন শট। ৬ষ্ঠ ওভারে গিয়ে হয়েছে প্রথম বাউন্ডারি- বোল্টের শর্ট বলে পুল করেছিলেন গিল। তবে ৮ম ওভারের মাঝে ইনিংসে ছিল তিনটি ট্রিপল। 

    গিল সোজা ব্যাটেও ছিলেন দারুণ। পুলের সঙ্গে স্ট্রেইট পাঞ্চেও মেরেছেন চার। রোহিত সময়ের সঙ্গে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, কলিন ডি গ্র্যান্ডোমকে দারুণ এক ড্রাইভে একটা চারও মেরেছিলেন। ততক্ষণে উইকেট পেতে বেশ মরিয়া হয়ে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড, ১৮তম ওভারে ডি গ্র্যান্ডোমের বলে রোহিতের বিপক্ষে একটা রিভিউও নিয়েছিলেন উইলিয়ামসন। তবে ইনসাইড-এজ ছিল তাতে, অন-ফিল্ডে মাইকেল গফের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেও তাই লাভ হয়নি তাদের। 

    অবশেষে নিউজিল্যান্ড ব্রেকথ্রুর দেখা পেয়েছে ২১তম ওভারে এসে। জেমিসনের মোটামুটি ফুললেংথ থেকে অ্যাওয়ে মুভমেন্টে বেরিয়ে যাওয়া বলে হাফ পুশ-হাফ ডিফেন্ড করতে গিয়ে শরীর থেকে দূরে শট খেলে ফেলেছিলেন রোহিত, তার এজ তৃতীয় স্লিপে ডানদিকে ডাইভ দিয়ে দারুণভাবে নিয়েছেন সাউদি। পরের উইকেটের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি নিউজিল্যান্ডকে। এতক্ষণ বোলিংয়ে আসার অপেক্ষায় থাকা ওয়াগন্যার ২৫তম ওভারে এসেই দারুণ সেট-আপে ফিরিয়েছেন গিলকে। প্রথম ভেতরের দিকে ঢুকিয়েছেন ডেলিভারি, এরপর মোটামুটি একই লাইন-লেংথ থেকে লাইন ধরে রাখা বলটায় শট খেলতে প্রলুব্ধ হয়ে ফাঁদে পড়েছেন গিল। নিজের শেষ টেস্টের প্রথম ক্যাচ নিয়ে বাকিটা সেরেছেন ওয়াটলিং। 

    পরের সেশনে লাইন-লেংথে উন্নতি হলেও নিউজিল্যান্ড শুধু পেয়েছিল চেতেশ্বর পুজারার উইকেটই। লাঞ্চের পর শুরুটা বেশ সতর্কই করেছিলেন কোহলি ও পুজারা। ওয়াগন্যারের সঙ্গে কলিন ডি গ্র্যান্ডোমকে এনেছিলেন উইলিয়ামসন। এখন পর্যন্ত প্রায় পুরোটা সময়ই মুভমেন্টের দেখা পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড পেসাররা। পুজারা অফ দ্য মার্কে গেছেন ৩৬তম ডেলিভারিতে গিয়ে, নিল ওয়াগন্যারকে কাট করে চার মেরে। এরপর আরেকটি মেরেছিলেন ড্রাইভ করে। এরপর ছিল টানা ডট। 

    শেষ পর্যন্ত ট্রেন্ট বোল্টের ক্ল্যাসিক বাঁহাতি পেসারের ডেলিভারিতে ফিরতে হয়েছে তাকে। গুডলেংথে পড়ে ভেতরের দিকে ঢোকা বল মিস করে গিয়েছিলেন এর আগে হেলমেটে আঘাত পাওয়া পুজারা, রিভিউ নিতে চাইলেও কোহলির সম্মতি পাননি। নিলে অবশ্য লাভও হতো না, বদলাতো না রিচার্ড ইলিংওর্থের সিদ্ধান্ত। 

    ইলিংওর্থ ও মাইকেল গফ- দুই অনফিল্ড আম্পায়ার এরপর ছিলেন আলোচনায়, বিরাট কোহলির একটা কট-বিহাইন্ডের আবেদনে। বোল্টের ডাউন দ্য লেগের বলে ব্যাট চালিয়েছিলেন কোহলি, ইলিংওর্থ বলটা ওয়াটলিংয়ের গ্লাভস পর্যন্ত ক্যারি করেছে কিনা- চেক করতে চেয়েছেন সেটি। টিভি আম্পায়ার এরপর দেখেছেন আল্ট্রা-এজ, যেখানে ছিল না কোনো স্পাইক। অবশ্য উইলিয়ামসন রিভিউ করতে চেয়েছিলেন, তবে প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, ক্যাচ ঠিকঠাক হয়েছে কিনা সেটি দেখতে হলে টিভি আম্পায়ার আগে ডেলিভারির বৈধতার সঙ্গে বল ব্যাটে লেগেছে কিনা চেক করবেন সেটিও। 

    এরপর অবশ্য সে অর্থে সুযোগ আসেনি, যদিও মাঝে মাঝেই মুভমেন্ট সাড়া জাগিয়েছে। তবে কোহলি তার ইনিংসে এখন পর্যন্ত আছেন বেশ দৃঢ়। ভাল শুরু করেছেন রাহানেও, তিনি অপরাজিত ২৯ রানে। অধিনায়কের সঙ্গে তার জুটি অবিচ্ছিন্ন ৫৮ রানে। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন