• লা লিগা
  • " />

     

    মেসির দলবদল: পিএসজি-বার্সা-মেসির কার কী লাভ, কী ক্ষতি

    মেসির দলবদল: পিএসজি-বার্সা-মেসির কার কী লাভ, কী ক্ষতি    

    লিওনেল মেসি এখন আর বার্সেলোনার নন, পিএসজির। খুব সম্ভবত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় দলবদলের পর এখন মেসি তাকাচ্ছেন পিএসজিতে তার নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে। আর মেসি-অধ্যায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বার্সাকেও এখন তাকাতে হচ্ছে সামনে। মেসির পিএসজিতে আসায় কার লাভ আর কার ক্ষতি হলো। সেই অংকটা একটু মেলানো যাক...

    মেসি কী পেলেন?

    লিওনেল মেসির একটা ‘প্রজেক্ট’ দরকার ছিল, গত বছর বার বার যেটা বলেছিলেন। ম্যান সিটি হতে পারত সবদিক দিয়ে তার আদর্শ প্রজেক্ট, তবে পিএসজি একদিক দিয়ে তার জন্য শাপেবর হতে পারে। কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পর মেসির ট্রফি কেবিনেটে একটা বড় শিরোপাই বাকি আছে, সেটা হচ্ছে বিশ্বকাপ। কাকতালীয়ভাবে মেসি যে ক্লাবে যাচ্ছেন, তাদের কাতারি মালিকরাই আবার ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক। পিএসজিতে মেসি সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রতিভাবান স্কোয়াড পাচ্ছেন। এটি এমন একটি দল, মৌসুম শুরুর আগেই যাদের ফ্রেঞ্চ লিগের শিরোপা দিয়ে দেওয়া যায়। ঘরোয়া শিরোপায় পিএসজি ছাড়া বাকিদের কেউ জিতলে সেটা হবে বিশাল অঘটন। মেসির সামনে তাই সুযোগ আছে ঘরোয়া লিগে কিছুটা চাপমুক্ত হয়ে খেলার, যে সুযোগ বার্সায় তিনি কখনোই পাননি। এমনকি গত মৌসুমেও লিগে তাকে টানা খেলে যেতে হয়েছিল। বিশ্বকাপের আগে পিএসজির হয়ে অন্তত ঘরোয়া লিগের ম্যাচগুলোতে কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পেতেও পারেন মেসি। যেটা হয়তো ২০২২ বিশ্বকাপের আগে তাকে শারীরিকভাবে চাঙা রাখতে সাহায্য করবে। আর মেসির বয়সও বিশ্বকাপের সময় ৩৫ হয়ে যাবে, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। আগের মতো টাকা ধকল নিতে পারবেন কি না, সেটাও প্রশ্ন।

    কী হারাতে পারেন?

    পিএসজিতে আসার পরেই মেসি বলেছেন, এই ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাটাই তার লক্ষ্য। মেসি জানেন, বা ফুটবলবিশ্বের সবাই জানে, পিএসজির লক্ষ্যই হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। মেসিকে পাওয়ার পর সেটা না পেলে হবে নিদারুণ ব্যর্থতা। গত কয়েক বছর ধরে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে পিএসজি, একবার ফাইনালে উঠলেও শিরোপা পায়নি। কিন্তু এবার সেটা না পেলে মেসির দিকেই আঙুল উঠবে বেশি, যেটা তিনি ভালোভাবেই জানেন। এমনকি ফাইনালে একটা ম্যাচেও যে কোনো কিছুই হতে পারে, কিন্তু সেখানে হেরে গেলেও মেসির দিকে আঙুল তাক করার লোকের অভাব হবে না।

    পিএসজির লাভ?

    পিএসজির জন্য মেসিকে নেওয়াটা প্রায় সব দিক দিয়েই উইন-উইন সিচুয়েশন। নেইমার-এমবাপে থাকার পরও মেসির মতো একজন গ্লোবাল সুপারস্টার দরকার ছিল তাদের। যে জন্য মেসি-রোনালদো পিএসজিতে যাওয়া নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে বার বার। এবার মেসিকে দলে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে তাই হাতছাড়া করেনি তারা। সামনের বিশ্বকাপ কাতারে, সেটার জন্যও মেসির চেয়ে বড় বিজ্ঞাপন আর কে হতে পারে? কাতারি নাসের আল খেলাইফি সেদিক দিয়েও লাভবান হতে পারেন। মেসি আসায় এর মধ্যেই পিএসজির সোশাল মিডিয়ায় লাইক, রিঅ্যাকশন নিকট অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে, মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে সব জার্সি। ফ্রি ট্রান্সফারে এমন একজন খেলোয়াড় পাওয়াটাই তো ভাগ্যের ব্যাপার। আর বেতনও যে খুব বেশি দিতে হচ্ছে সেটাও নয়। সবচেয়ে বড় কথা, যে চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য পিএসজির হাহাকার, সেটা আসতে পারে মেসির হাত ধরেই। কোনো কারণে যদি এমবাপে রিয়ালেও চলে যায়, সেদিক দিয়েও পিএসজি আগের চেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে থাকবে।

    পিএসজির ক্ষতি?

    ক্ষতি বলতে পিএসজির কিছুই নেই, শুধু একটা ব্যাপারেই একটু দুশ্চিন্তা থাকতে পারে তাদের। এই মৌসুমেই পিএসজি এর মধ্যেই দলে এনেছে ডোনারূমা, ভিনালদাম, রামোস, হাকিমিদের। তার আগে নেইমার-এমবাপেসহ বাকিদেরও মোটামুটি চড়া বেতনই ছিল। এত বেতন গিয়ে পিএসজি কীভাবে ইউয়েফার আর্থিক স্বচ্ছতা নীতি বা ফিন্যান্সিয়াল পাওয়ার প্লে লঙ্ঘন করছে না সেই প্রশ্ন উঠছে প্রতিনিয়তই। শোনা যাচ্ছে, পিএসজিকে দশ জনের মতো খেলোয়াড় ছেড়ে দিতে হতে পারে। কোভিডের পর সেই খেলোয়াড়েরা বেশি বেতন ছেড়ে ক্লাব ছাড়তে চাইবেন কি না সেটাও প্রশ্ন।

    বার্সা কী হারাল?

    মেসি চলে যাওয়ার পর বার্সা কী হারাল, সেটা আসলে বলারও দরকার নেই। যে ক্লাবের প্রতীক হয়ে গিয়েছিলেন ২১ বছর ধরে, তার চেয়েও বড় কথা গত মৌসুমেও যিনি ছিলেন ক্লাবের সেরা খেলোয়াড়, তিনি যাওয়ার পর বার্সা মাঠে কতটা কী করতে পারবে সেটা নিয়ে সংশয় আর প্রশ্ন অনেক। গত মৌসুমেও লিগে বার্সা তিনে ছিল, চ্যাম্পিয়নস লিগে তো অনেক দিন ধরেই সাফল্যের দেখা নেই তাদের। রোনাল্ড কোমানের দ্বিতীয় মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মেসি হতে পারতেন মূল অস্ত্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বার্সার ইতিহাসের সফলতম খেলোয়াড়কে ছাড়াই নতুন মৌসুমের জন্য পরিকল্পনা করতে হচ্ছে, তাও একেবারে শেষ মুহূর্তে।

    বার্সা কি কিছু পেল?

    বার্সেলোনা যদিও বলেছে, মেসিকে ধরে রাখার জন্য তারা সম্ভাব্য সব চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে আর্থিক অবস্থা যে এতোটা খারাপ হবে সেটা কি ক্লাব আগে থেকে জানত না? এজন্যই গুঞ্জন আছে লাপোর্তা জেনেশুনেই ছেড়ে দিয়েছেন মেসিকে। ৫০ শতাংশ বেতন কমানোর পরেও মেসি ছিলেন ক্লাবের শীর্ষ বেতনভোগীদের একজন। বার্সার এখন যে অবস্থা, তাতে তাদের বেতন কাঠামো ভেঙেচুরে নতুন করে গড়া ছাড়া আর বিকল্প নেই। মেসি থাকলে সেই কাজ হতো কঠিন। এখনকার খেলোয়াড়দের উচ্চ বেতনের একটা বড় কারণও মেসির রেকর্ডগড়া সব চুক্তি। সেই হিসেবে মেসি চলে যাওয়ায় এখন শক্ত কিছু পদক্ষেপও নিতে পারবে বার্সা। সাময়িকভাবে তাদের হয়তো ক্ষতি হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেটা দরকারি ছিল- লাপোর্তা এমন কিছু ভেবে থাকলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন