• ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২
  • " />

     

    ইংল্যান্ডের তরুণ সিংহদের হুংকারে নিশ্চুপ ইরান

    ইংল্যান্ডের তরুণ সিংহদের হুংকারে নিশ্চুপ ইরান    

    ইংল্যান্ড ৬:২ ইরান


    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ তো দূরে থাক, কখনও খেলার সুযোগই হয়নি ইরানের। সেই সাথে এর আগে কখনও প্রথম পর্ব উৎরাতে না পারা ইরানের জন্য প্রথম ম্যাচেই গতবারের সেমি-ফাইনালিস্ট দের মুখোমুখি হওয়াটা যেন হয়ে এসেছে মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে। প্রথম দেখায় তাই ইংল্যান্ডের তেজ ভালই টের পেল ইরান। ইংল্যান্ডের তরুণ সিংহদের হুংকারে লেজ গুটিয়ে ফিরতে হয়েছে তাদের। বিশ্বকাপে আসার আগে টানা ছয় ম্যাচে জয়ের মুখ না দেখা ইংল্যান্ড নিজেদের খুঁজে পেয়ে ইরানকে উড়িয়ে দিয়েছে ৬-২ গোলে।

    ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত থেকে হ্যারি কেইনের বাড়ানো দুর্দান্ত এক বলকে ঠেলে দিতে গিয়ে সতীর্থের সাথে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইরান গোলরক্ষক আলি রেজা বেইরানভান্দ। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা নেওয়ার পর উঠে দাঁড়ালেও কয়েক মিনিটের মাথায় নাকের ওই আঘাতেই বিদায় নিতে হয় তাকে। ইরান যেন মানসিকভাবে সেখানেই পিছিয়ে পড়ে অনেকটাই। ইরানের ওপর চেপে বসা ইংল্যান্ডের গোলমুখে গেরো খুলে ৩৫ মিনিটের মাথায়। মিডফিল্ডে জায়গা বানিয়ে বাঁ প্রান্তে ছুটন্ত লুক শয়ের উদ্দেশ্যে বল বাড়ানো হলে ডি-বক্সে ওঁত পেতে থাকা জুড বেলিংহামকে খুঁজে নেন তিনি। সেখান থেকে দারুণ এক হেডারে জালের ডান কোণে বল জড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকেই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম হিসেবে গোলের খাতা খুলেন এই বরুশিয়া ডর্টমুন্ড মিডফিল্ডার।

     

    বেলিংহামের অনুপ্রেরণায় নিজের বিশ্বকাপ অভিষেককে রাঙিয়ে তুলতে পাদপ্রদীপের আলোয় নিজেকে নিয়ে আসেন আর্সেনালের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বুকায়ো সাকা। কর্নার থেকে হ্যারি ম্যাগুয়েরের হেডার নিজের সামনে পেয়ে আঁটসাঁট জায়গা থেকে দুর্দান্ত এক হাফ ভলিতে বল জালে জড়ান তিনি। এরপর অতিরিক্ত ১৪ মিনিটের সুযোগ নিয়ে যোগ হওয়া সময়ের প্রথম মিনিটেই কেইনের বাড়ানো দারুণ এক নিচু ক্রস থেকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেয়ে যান রাহিম স্টার্লিং। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের ফলাফলটাও কার্যত নিশ্চিত করে ফেলে ইংল্যান্ড।

    প্রথমার্ধের শুরুতেই ইরান কোচ কার্লোস কিরোজ তিনটি পরিবর্তন করলেও ইরানের ভাগ্যে আসেনি তেমন কোনও পরিবর্তন। ৬২ মিনিটের মাথায় বদলি গোলরক্ষক হোসেইনি বল বাড়ানোয় দুর্বলতা দেখালে সেটার সুযোগ নিয়েই স্টার্লিং বল বাড়ান বাঁ প্রান্তে থাকা সাকার দিকে। বল পেয়েই দুজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে সেখানেই জায়গা বানিয়ে বাঁ পায়েে শটে বল দ্বিতীয়বারের মত জালে জড়ান সাকা। তবে ঠিক পরের মিনিটেই ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের গাছাড়া অবস্থার সুযোগ নিয়ে দারুণ এক ফিনিশ করেন ফর্মে থাকা তারিমি।

    তারিমির সেই গোল শেষমেশ কেবলই সান্ত্বনাসুচক হয়েই থেকেছে। কেইনের রক্ষণ চেরা পাস ৭১ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্তে থাকা মার্কাস রাশফোর্ডকে খুঁজে নিলে একজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা। সেই সাথে বদলি হিসেবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন তিনি। যোগ হওয়া দশ মিনিটের প্রথম মিনিটে দুই বদলির সংযোগে এরপর ইংল্যান্ড পায় নিজেদের ষষ্ঠ গোলের দেখা। রাশফোর্ডের বাড়ানো পাস ডানে ওঁত পেতে থাকা ক্যালাম উইলসনকে খুঁজে নিলে নিঃস্বার্থভাবে সেই বল তিনি জ্যাক গ্রিলিশের দিকে বাড়িয়ে দিলে সেখান থেকে গোল পেতে ভুল করেননি তিনি। তবে হাল ছাড়ার আগে হাল ছাড়েনি ইরান। শেষদিকে সর্দার আজমুনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন জর্ডান পিকফোর্ড। তবে শেষ মুহূর্তে আকস্মিক পেনাল্টি পেয়ে গোলে সেখান থেকে দ্বিতীয়বারের মত বল জালে জড়ান তারেমি। ইংল্যান্ড অবশ্য মাঠ ছেড়েছে বড় জয়ের তৃপ্তি নিয়ে। আর সেই সাথে বিশ্বকাপের জন্য শক্ত বার্তা দিয়ে রাখল ‘থ্রি লায়নস’।