• কনফেডারেশনস কাপ ২০১৭
  • " />

     

    অধরা শিরোপাটাও পেল জার্মানি

    "ফুটবল এমন এক খেলা যেখানে ২২ জন খেলোয়াড় পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়ায়। আর দিনশেষে জার্মানির হয় জয় হয়" - গ্যারি লিনেকারের সেই বিখ্যাত উক্তিটিই আরও একবার সত্যি হল। চিলিকে ১-০ গোলে হারিয়ে কনফেডারেশনস কাপ জিতে নিয়েছে জার্মানি। বিশ্বকাপ, ইউরো- ফুটবলের সম্ভাব্য সব ট্রফিই জেতা ছিল জার্মানির। বাকি ছিল এই কনফেডারেশনস কাপটাই। তরুন জার্মানদের এক দল সেই অভাবটাও পুষিয়ে দিল এই টুর্নামেন্টে।



    জোয়াকিম লো এবারের কনফেডারেশনস কাপে এসেছিলেন আনকোরা এক দল নিয়ে। ওযিল, ক্রুস, মুলার, নয়্যারদের কেউই ছিলেন না। তারুন্য নির্ভর দলের খুব বেশি খেলোয়াড়ের ছিল না জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতাও। সেই দলটাই কনফেডারেশনস কাপ জয়ের মধ্য দিয়ে আগামীর ফুটবলেও নিজেদের জার্মানদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে রাখল।

    দারুণ খেললেও ম্যাচ শেষে আফসোসটাই সঙ্গি হয়েছে চিলির। ২০ মিনিটে ডিফেন্ডার মার্সেলো ডিয়াজের একটি ভুলই আসলে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ম্যাচে। ডিয়াজের ভুল ব্যাক পাসে বল পেয়ে যান টিমো ভের্নার। সামনে তখন কেবল চিলি গোলরক্ষক ব্রাভো। নিজেই গোল করতে পারতেন। কিন্তু ঝুঁকি নিলেন না। ততোক্ষণে তাঁর সাথে দৌড়ে ডান প্রান্তে ফাঁকায় অপেক্ষা করছেন স্টিন্ডেল। বলটা ঠেলে তাঁর দিকেই পাঠালেন। সময় নিয়ে বল রিসিভ করে কিছুটা দৌড়ে গিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে ভের্নারের দিকেই ছুটলেন স্টিন্ডল। কৃতজ্ঞতা জানাতে।



    ম্যাচের এই মুহুর্তটাই ব্যবধান হয়ে দাঁড়িয়েছে হার-জিতের মাঝে। অথচ এর আগ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল চিলির হাতেই। ভিদালের নেয়া একটি শট টার স্টেগান ঠেকিয়ে দিলে, ফিরতি বলে গোল করার সুযোগ ছিল সানচেজের। প্রায় নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন তখন। সেই ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে অনেকটা স্রোতের বিপরীতে গোল হজম করে।

    এক গোলে এগিয়ে গিয়ে জার্মানরা ফেরে ম্যাচে। বাকিটা সময় চিলির রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে প্রথমার্ধে। ৩৬ মিনিটে গোরেজকা প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছিলেন জার্মান লিড। রক্ষণে কোনঠাসা হয়ে এরপর আরও অন্তত একবার হাস্যকর ভুল করে বসে চিলি ডিফেন্ডাররা। এবার গোরেজকাকে গোলবঞ্চিত করেন ব্রাভো। এর আগে হুলিয়ান ড্রাক্সলারের একটি শটও চলে যায় বারপোস্টের বাইরে দিয়ে। 



    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খেলাটা ছিল মাঝমাঠ ভিত্তিক। তেমন কোনো ঝুঁকি নিচ্ছিল না দুই দলের কেউই। ৬০ মিনিট অতিক্রম করতেই হারের শঙ্কায় মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে চিলির আক্রমণ। প্রতিপক্ষের আক্রমণের স্রোতে তখন কিছুটা নুয়ে পড়েছে জার্মান রক্ষণ। কিন্তু জার্মান মনোবলে আঘাত আনতে পারেননি সানচেজরা। নির্ভুল রক্ষণের অসাধারণ এক প্রদর্শনী করে এক গোলের লিডটা ধরে রেখেছে শেষ পর্যন্ত। 

    প্রতি আক্রমণে খেলা চালিয়ে যাওয়া জার্মানরাও অবশ্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল সময়ে-সময়ে। ৬৬ মিনিটে দশ চিলি দশ জনের দলে পরিণত হলে কাজটা আরও সহজ হয়ে যেত পারত জোয়াকিম লো- এর দলের জন্য। গঞ্জালো যারা কনুই মেরে বসেছিলেন ভের্নারের গালে। প্রথমে রেফারির চোখ এড়িয়ে গেলেও পরে ভিডিও সহকারীর সাহায্যে ধরা পড়ে যারার দোষ। পরে হলুদ কার্ড দেখান চিলিয়ানকে। তবে সেই কার্ডের রঙ লালও হতে পারত। পুরো টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালেও তাই ভিডিও রেফারিং নিয়ে বিতর্কের সুযোগ থাকল।  

    ভার্গাস, আরাঙ্গুইজরা সুযোগ পেয়েছিলেন। সানচেজ তেমন সুবিধা করতে না পারলেও, গোলের সুযোগ তৈরিতে প্রস্তুত ছিলেন বাকিটা সময়। ভিদালও হতাশ করেছেন গোল করার মতো জায়গা থেকে লক্ষ্যবিহীন কিক করে। তবে ম্যাচ বাঁচানোর সেরা সুযোগটা এসেছিল স্ট্রাইকার সাগালের কাছে। পুচের সাথে একই সময়ে বদলী হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ৮১ মিনিটে। তাঁর ক্রস থেকে মাত্র ৬ গজ দূর থেকে ফাঁকা জালে বল মারতে হয়েছে সাগাল। বল চলে গেছে বারপোস্টের অনেক উপর দিয়ে। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ডিবক্সের ঠিক বাইরে থেকে একটা ফ্রি কিকও পেয়েছিল চিলি। কিন্তু সানচেজের শট নিজের বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন টার স্টেগান।

    স্টেগানের মতো পুরো দলটাই চিলিকে হতাশ করে ছেড়েছে। তাঁদের খেলা দেখে কে বলবে এরাই 'আসল' জার্মানি নয়? তরুণ এক দল নিয়েও বিশ্বজয় সম্ভব- জোয়াকিম লো প্রমাণ করে দিলেন এবার সেটাও! গোল্ডেন বলও জিতেছেন এক জার্মানই। জুলিয়ান ড্রক্সলার। গোল্ডেন গ্লভস গেছে ক্লদিও ব্রাভোর হাতে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন