• লা লিগা
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    রোনালদোময় ম্যাচে ন্যু ক্যাম্পে জিতল রিয়াল

    গোল, লাল কার্ড, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত- কী ছিল না ম্যাচটিতে! দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার স্প্যানিশ সুপারকাপের প্রথম লেগের ম্যাচটি ছিল বিস্ময় আর উত্তেজনায় ঠাসা। বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বেশিরভাগ বিপক্ষে গেলেও চিরশত্রুদের ঘাঁটি থেকে দুর্দান্ত এক জয় নিয়েই ফিরল জিদানের দল। বার্সেলোনাকে ন্যু ক্যাম্পে তারা হারিয়েছে ৩-১ ব্যবধানে। রিয়ালের হয়ে গোল করেছেন রোনালদো, অ্যাসেন্সিও; অন্যটি ছিল পিকের আত্মঘাতী। বার্সার হয়ে পেনাল্টি থেকে সমতা এনেছিলেন মেসি। কিন্তু রোনালদোর কাছে ম্লান হয়ে গেছে গোল।  

     

    প্রথমার্ধে অবশ্য  তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি দু দল। গত ক্লাসিকোতে যেখানে আক্রমণের জোয়ারে রীতিমত তটস্থ থাকতে নাভাস-টার স্টেগেনকে, সেখানে আজ বেশ ‘নীরব’ই ছিলেন দুজনই। দুই কোচের কিছুটা সতর্কিত এবং রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে গোলমুখে মেসি, বেলরা ছিলেন নিষ্প্রভ। তবে ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মেসি-ক্যাসেমিরো দ্বৈরথ, যেখানে মিনিট বিশেক পর ‘এলএম১০’-কে ট্যাকেল করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন ক্যাসেমিরো। মেসিও কম যাননি। ক্যাসেমিরোকে ট্যাকেল করে ‘প্রতিশোধ’ নিয়ে হলুদ কার্ড দেখেছেন তিনিও। কর্নার থেকে হাত দিয়ে গোল করার চেষ্টা করায় হলুদ কার্ড দেখেছেন পিকেও।



    সুয়ারেজ, বেলের কিছু বিছিন্ন সুযোগ বাদে প্রথমার্ধে তেমন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই।  রিয়ালের শুরুর একাদশে ছিলেন না রোনালদো। আক্রমণভাগে এই  ম্যাচেও তাই সবচেয়ে সক্রিয় ছিলেন ইস্কোই।

     

    এমন এক ম্যাড়ম্যাড়ে প্রথমার্ধের পর সমর্থকরা হয়তো ঘুণাক্ষরেও হয় আঁচ করতে পারেননি , দ্বিতীয়ার্ধে কী  অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্য! বিরতির পর মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় পিকের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। বাঁ-প্রান্ত থেকে মার্সেলোর নিচু ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের জালেই বল ঠেলে দেন পিকে।

    এরপরই শুরু হয় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জোয়ার। ৫৩ মিনিটে দেউলোফেউর শট রিয়ালের গোলের সামান্য বাইরে দিয়ে যাওয়ার মিনিট দুয়েক পর কারভাহাল শট লাইন থেকে ফিরিয়ে দেন আলবা।

    ৫৮ মিনিটে গ্যালারি ভর্তি বার্সা সমর্থকদের দুয়োধ্বনির মাঝে বেনজেমার বদলে মাঠে নামেন রোনালদো। ৬৩ মিনিটে সুয়ারেজের নিশ্চিত একটি গোল বাঁচিয়ে দেন নাভাস। এর মিনিটখানেক পরই অন্যপ্রান্তে রিয়াল, বার্সার জালে বল পাঠালেও লাইন্সম্যানের বিতর্কিত অফসাইডের সিদ্ধান্তে বাতিল হয় রোনালদোর গোলটি। ৭৪ মিনিটে বার্সাকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পান বুস্কেটস। কিন্তু প্রায় ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বারের উপর দিয়ে ভাসিয়ে মারেন তিনি।

    এরপরই আসে ম্যাচের অন্যতম বিতর্কিত মুহুর্ত। দুর্দান্ত ‘ডাবল-সেভে’ রিয়ালকে বাঁচালেও ডিবক্সে সুয়ারেজকে ফেলে দেওয়ায় বার্সাকে পেনাল্টি উপহার দেন নাভাস। কিন্তু রিপ্লেতে দেখে মনে হয়েছে, সুয়ারেজ নিজে থেকেই পড়ে গিয়েছিলেন নাভাসের হাতে বাধা পেয়ে! পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরাতে ভুল করেননি মেসি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে গোল করতে দেখে যেন আরো তেতে ওঠেন রোনালদো। ৮০ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রতি আক্রমণে ডিবক্সের বাইরে থেকে রোনালদোর বাঁকানো জোরাল শট বার্সার জালে ঢুকলে তাকিয়ে দেখা ছাড়ার আর কোনো উপায়ই ছিল না বার্সার গোলরক্ষকের । গোলের পরপরই জার্সি খোলা উদযাপনে ন্যু ক্যাম্পকে স্তব্ধ করে দেন ‘সিআর৭’। কিন্তু জার্সি খুলে উদযাপন করার ‘মাশুল’টা ঠিকই দিতে হয়েছে তাকে।



    ৮২ মিনিটে অ্যাসেন্সিওর পাস ধরে বক্সে ঢুকেই শট নেয়ার সময়ই পড়ে যান রোনালদো। রেফারি তো পেনাল্টি দেনই নি, উল্টো ডাইভ দেওয়ার অপরাধে রোনালদোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান তিনি। এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত রোনালদো মাঠ ছাড়ার সময় রেফারিকে ধাক্কা দিয়ে বসেন রোনালদো। লাল কার্ডের পর তাই আরও বড় শাস্তি নেমে আসতে পারে পর্তুগিজ উইঙ্গারের জন্য।

    নাটক বাকি ছিল তখনও। ৯০ মিনিটে আবারও এক প্রতি আক্রমণ থেকে দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান ৩-১ করেন মার্কো অ্যাসেন্সিও। এই সুবাদে ইউয়েফা সুপার কাপ, লা লিগা, কোপা দেল রে, চ্যাম্পিয়নস লিগের পর স্প্যানিশ সুপারকাপের অভিষেকেও গোল পেলেন এই তরুণ।

    বুধবার  রাত ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে স্প্যানিশ সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগ।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন