• " />

     

    অনুশীলনের জন্য স্কুলছাত্রের বিমানে ৩২০ মাইল পাড়ি!

     

    যে দ্বীপে মাছ ধরেই বেশিরভাগ মানুষের জীবন কাটে, সেখানে পেশাদার ফুটবল খেলা রীতিমত স্বপ্নের ব্যাপার। কিন্তু এসব কি কারও স্বপ্নে বাধা হতে পারে? ৫ বছর বয়সেই ফুটবলের ভূত চেপে বসল স্কটল্যান্ডের বারা দ্বীপের ম্যাথিউ ডেভিডসনের মাথায়। স্কুল ফুটবল দাপিয়ে বেরানোর পর ভাগ্যক্রমে নজরে আসল কয়েকশ মাইল দূরে স্কটিশ ফুটবল ক্লাব গ্রিনক মর্টনের এক স্কাউটের, ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১১ দলে খেলারও প্রস্তাবও পেল। কিন্তু এতদূর গিয়ে খেলবে কীভাবে ম্যাথিউ? তাহলে কি স্বপ্নটা অধরাই রয়ে যাবে? না, তার স্বপ্ন অপূর্ণ থাকেনি। প্রতি সপ্তাহে বিমানে করে দুবার ৩২০ মাইল দূরত্ব পাড়ি দিয়ে গ্রিনক মর্টনে অনুশীলন করতে যায় ১০ বছর বয়সী ম্যাথিউ!

    স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টার্ন আইলসের ছোট্ট একটি দ্বীপে ম্যাথিউয়ের বাড়ি। ২৩ মাইল দৈর্ঘ্যের বারা দ্বীপের লোকসংখ্যা দুই হাজারও পেরোয়নি। বাড়ির আঙ্গিনা, স্থানীয় স্কুলের ছোট একটি মাঠ; এসবেই ফুটবল খেলে দ্বীপের বাচ্চারা। অন্যদের মত ছোটবেলা থেকে ম্যাথিউও খেলত ফুটবল, তবে কৌশলের দিক দিয়ে এগিয়ে ছিল সবার চেয়ে। তীব্র ইচ্ছা থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অন্য জায়গায় গিয়ে খেলার উপায় ছিল না। তাই স্কুল ফুটবলেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো।

    একদিন বারা ক্যাসেলবে কমিউনিটি স্কুল পরিদর্শনে আসলেন গ্রিনক মর্টন ক্লাবের এক কর্মকর্তা। মুগ্ধ হলেন ম্যাথিউয়ের খেলা দেখে। বাবা-মাকে বললেন, তাঁর ছেলেকে ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১১ দলে খেলতে দেখতে চান। আনন্দে আত্মহারা হওয়ার সাথে খানিকটা বিষাদও নেমে এলো পরিবারের মাঝে। সুযোগ পেয়েও যে দূরত্বের কারণে খেলতে পারবে না ম্যাথিউ।

     

     

    ম্যাথিউয়ের এই বিপদে এগিয়ে এলো গ্রিনক মর্টন ক্লাব ও লগানেইর এয়ারলাইন্স। লগানেইরের একটি বিশেষ বিমানে প্রতি সপ্তাহে দুইবার প্রায় ৩২০ মাইল যাতায়াত করে অনুশীলন করতে যায় ম্যাথিউ। গ্রিনকের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন হক বলছেন, ম্যাথিউয়ের মতো প্রতিভাকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাননি তাঁরা, “গত কয়েক বছরে আমরা বেশ কয়েকজন তরুণকে খুঁজে বের করেছি। তাঁরা সবাই অনেক দুর্গম অঞ্চল থেকে খেলতে এসেছে। তবে কেউই ম্যাথিউয়ের মতো এত কম বয়সে বাড়ি থেকে এতদূরে খেলতে আসেনি।”

    ক্লাবের আরেক কর্মকর্তা রস গর্ডি জানান, অনুশীলনে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিচ্ছে ম্যাথিউ, “তাঁর কৌশল দুর্দান্ত। এত ছোট বয়সে সে যেভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করে, সেটা এক কথায় অসাধারণ। তাঁর বাড়ি অনেক দূরে হওয়ায় কিছুটা সমস্যা। কিন্তু আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি সে যেন প্রতিটা ম্যাচ খেলতে পারে।”

    কিছুদিন আগেই দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করে গ্রিনকের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে জয় এনে দিয়েছে ম্যাথিউ। ভবিষ্যতে রোনালদো, মেসির মতো খেলার স্বপ্ন দেখে সে, “এরকম বিখ্যাত ক্লাবে আমি খেলতে পারছি, এটা দারুণ ব্যাপার। আমি ফুটবল খেলতে অনেক পছন্দ করি। প্লেনে করে খেলতে যেতে অনেক ভালো লাগে। একদিন আমি রোনালদো, মেসির মতো খেলতে চাই। কঠিন পরিশ্রম করলে হয়ত একদিন এরকম হবে!”

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন