• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    'ঘরে ফেরাটা' সুখের হলো না কন্তের

     

    ইতালিতেই কেটেছে ফুটবল ও কোচিং ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়। আন্তোনিও কন্তের জন্য ‘ঘরে ফেরাটা’ তাই একটু আবেগের ছিল। তবে চেলসি কোচের ইতালিতে ফেরাটা খুব একটা আনন্দদায়ক হতে দিল না রোমা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘরের মাঠে চেলসিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। এই মৌসুমে প্রথম ইংলিশ দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে পরাজয়ের মুখ দেখল চেলসি।

    অথচ ম্যাচের ২১ সেকেন্ডেই এগিয়ে যেতে পারত চেলসি। দারুণ এক দৌড়ে বল দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন পেদ্রো। তবে শেষ পর্যন্ত তার দুর্বল শট বাঁচিয়ে দেন রোমা কিপার অ্যালিসন বেকার। এই শটের পরপরই পাল্টা আক্রমণে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এল শারাউই। চ্যাম্পিয়নস লিগে কখনই এত দ্রুত গোল খায়নি চেলসি।

    ম্যাচে সমতা আনার বেশ কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল চেলসি। ৪ মিনিটের মাথায় ইডেন হ্যাজার্ডের শট ঠেকিয়ে দেন বেকার। ২০ মিনিটে আবারো তাকে হতাশ করেন রোমা কিপার। ২৪ মিনিটে আলভারো মোরাতা দারুণ এক সুযোগ নষ্টও করেন, তার শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।

     

     

    সুযোগ মিসে মহড়ার মাঝে চেলসি রক্ষণভাগের ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে রোমা। রাদযা নেইনগোলানের থ্রু বল চেলসি ডিফেন্সের সিদ্ধান্তহীনতায় শারাউইয়ের পায়ে যায়, ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করতে ভুল করেননি তিনি।

     

    দ্বিতীয়ার্ধে ৫৭ মিনিটে আবারো সুযোগ পেয়েছিলেন মোরাতা। অল্পের জন্য তার শট বাইরে চলে যায়। ৬৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ডিয়েগো পেরোত্তি। আলেকজান্ডার কলোরভের পাসে ডি বক্সের বাইরে বল পান। পেরোত্তির ডান পায়ের জোরালো শট ঠেকানোর কোনো উপায়ই ছিল না কোর্তোয়ারের সামনে। এই নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে তৃতীয়বারের মতো ৩ গোলের ব্যবধানে হারল চেলসি। ২০১২ সালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ৩-০ ও ২০০০ সালে বার্সেলোনার কাছে ৫-১ গোলে হেরেছিল তাঁরা।

     

    ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা চেলসির ম্যাচে ফেরার আর সুযোগ হয়নি। শেষের দিকে কোর্তোয়ার দুটি দুর্দান্ত সেভ না করলে আরও বড় ব্যবধানেই হারত চেলসি। ৭৮ মিনিটে নেইনগোলানের শট ও ৭৯ মিনিটে কস্তাস মানোলাসের হেড দারুণভাবে বাঁচিয়ে দেন চেলসি কিপার। চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাওয়ে ম্যাচে ইতালিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চেলসির জয়খরা এবারও শেষ হলো না, শেষ ৬ ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি তাঁরা।

     

     

    চেলসির পরাজয়ের রাতে জয় পেলে গ্রুপের লড়াইটা আর জমিয়ে তুলতে পারত অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তবে আজারবাইজানের ক্লাব কারাবাগের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে উল্টো খাদের কিনারায় চলে গেছে আঁতোইন গ্রিজমানের দল। ৪০ মিনিটে কারাবাগকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মার্কোস ম্যাডেরা। ৫৬ মিনিটে গ্রিজমানের পাসে ম্যাচে সমতা আনেন থমাস পার্টে।  তবে অ্যাটলেটিকো ফরোয়ার্ডদের বারবার সুযোগ মিসের কারণে ম্যাচে আর গোলের দেখা পায়নি দল।

     

    ৪ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’ এর শীর্ষে উঠে গেছে রোমা। ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে চেলসি, ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রইল অ্যাটলেটিকো।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন