• বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ ২০১৫
  • " />

     

    বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছাড়ানো একটি দিন

    বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছাড়ানো একটি দিন    

    খুলনা টেস্ট, চতুর্থ দিন শেষে

     

    সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ বাংলাদেশ ৩৩২ ও ২৭৩/০ (তামিম ১৩৮*, ইমরুল ১৩২*), পাকিস্তান ৬২৮/১০

     

     

    চতুর্থ দিনের খেলা শেষে যতক্ষণে তাঁরা প্যাভিলিয়নের পথে, দলের বাকি সদস্যরা ততক্ষণে ড্রেসিংরুমের সিঁড়ির দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। জাতীয় দলের জন্য একাধিক নতুন রেকর্ড তো বটেই, দিনশেষে তামিম-ইমরুলের অবিচ্ছিন্ন জুটি ঢুকে পড়েছে ১৩৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসের লম্বা উদ্বোধনী জুটিগুলোর তালিকায়ও! অমন মহানায়কদের এমন দিনে ‘গার্ড অব অনার’ না দিলে আর কোনদিন? সতীর্থদের তরফে উষ্ণ শুভেচ্ছা গ্রহণের আগে বাংলাদেশের দুই ওপেনার দিনের দুই সেশন ব্যাট করে সংগ্রহ করে ফেললেন ২৭৩ রান। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ছুড়ে দেয়া ২৯৬ রানের লিড থেকে এখন টাইগাররা পিছিয়ে রয়েছে মাত্র ২৩ রানে।

     

     

     

    ব্যাটসম্যানদের এমন কীর্তির নীচে চাপাই পড়ে গেছে বল হাতে তাইজুল ইসলামের আরেকটি কৃতিত্ব। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্টেই দ্বিতীয়বারের মতো পেলেন এক ইনিংসে পাঁচটির বেশী উইকেট। আগের দিনের ৩ উইকেটসহ আজ তুলে নিয়েছেন পাকিস্তানের টেলএন্ডারের আরও তিন ব্যাটসম্যানকে। দিনের শুরুতে মোহাম্মদ শহীদের প্রথম টেস্ট শিকার হয়ে সরফরাজ আহমেদ (৮২) ও সাকিবের একমাত্র অর্জন হয়ে আসাদ শফিক (৮৩) ফিরে যাওয়ার পর পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের চাকা থামে ৬২৮ রানে।

     

     

     

    ২৯৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে  শুরু করে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতির আগের ৩ ওভার বাদ দিলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। হুট করে স্কোরকার্ডে চোখ বোলানো যে কারোরই তখন ভ্রম হয়ে থাকতে পারে যে আসলেই টেস্ট চলছিল না ওয়ানডে! দিনের শেষ অব্দি ৪.৪৭ রানরেট ধরে রেখে মাত্র ৬১.১ ওভার মোকাবেলায় তাঁরা স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলেন ২৭৩ রান। সে পথে ১১ চার, ৩ ছয়ে তামিম তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট শতক।

     

     

    কি অদ্ভুত মিল দেখুন, খানিক বাদে সমপরিমাণ চার ও ছয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট শতকে পৌঁছন ইমরুল কায়েসও! দিনশেষে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে যে কোন উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়ে তামিম ও ইমরুল অপরাজিত থেকে যান যথাক্রমে ১৩৮ ও ১৩২ রানে।

     

     

    টেস্টের ১৩৮ বছরের ইতিহাসে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ২৭৩ রান নিয়ে ২০০৪ সালে গড়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের মার্কাস ট্রেসকোথিক ও অ্যান্ড্রু স্ট্রস জুটির সাথে যৌথভাবে তামিম-ইমরুল জুটির অবস্থান এখন ২২ নম্বরে। রেকর্ডের ফিরিস্তি এখানেই শেষ নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে এর আগে কোন প্রতিপক্ষই উদ্বোধনী জুটিতে দুশ’ রানের জুটি গড়তে পারে নি। এমনকি ভারতের পর এশিয়ার দ্বিতীয় দল হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংসে দুই ওপেনারের কাছ থেকে শতক পেল বাংলাদেশ! ভারতের ওই কীর্তিও আবার ১৯৩৬ সালের!

     

     

    ব্যক্তিগত ও যৌথ আরত বেশকিছু রেকর্ডের দিনে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে তামিম ইকবাল টানা তৃতীয় টেস্টে শতক হাঁকিয়েছেন। সব ধরণের ক্রিকেট মিলিয়ে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আট হাজার রান, সবচেয়ে বেশী ছয়ের মার, মোহাম্মদ আশরাফুলকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশী টেস্ট শতক...আজকের দিনে তামিমের গড়া রেকর্ডের তালিকাটা বেশ লম্বাই।

     

     

    এসবের সুবাদে গতদিনের ‘অলরাউন্ড’ ব্যর্থতার পর আজ দুর্দান্তভাবেই খেলায় ফিরে এসেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের ফল যাই হোক, কাল পঞ্চম দিনে নতুনভাবে উজ্জীবিত এক বাংলাদেশই নামবে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে।