• ত্রিদেশীয় সিরিজ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    নাসির-সাব্বিরের 'সমস্যা' কী?

    নাসির হোসেন আসলে কী ভাবছিলেন?

    ১২ বলে ৩ রান তখন তার। দুশমন্থ চামিরার লেগস্টাম্পের অনেক ওপর ও অনেক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলটাতে  হুক করতে গেলেন। ছয়, চার- নাসিরের দৃষ্টিসীমায় আসলে কতো ছিল? তবে তার ব্যাট যে সীমা পর্যন্ত যেতে পারলো, সেটা হলো শুধু বলকে একটু খোঁচা দেওয়া। নিরোশান ডিকভেলা বাকি কাজটা করলেন উইকেটের পেছনে। অনেক উইকেট উপহার দেওয়ার দিনে নাসির চামিরাকে উপহার দিয়ে এলেন আরেকটা। নাসির ভুলে গেলেন তার আগের ম্যাচের আউট হওয়ার ধরনটা- কাইল জারভিসের অফস্টাম্পের বাইরের কাটারে খোঁচা দিয়েছিলেন। নাসির ভুলে গেলেন তিন বল আগের ঘটনাই- মুশফিক স্লগ করতে গিয়ে উইকেটটা বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন এই চামিরাকেই।

    শ্রীলঙ্কা অতিরিক্ত রান দিয়েছে ১৪টি। ৪টি লেগবাই, ১০টি ওয়াইড। ওয়াইডের সংখ্যাটা অনায়াসে ১১ হতে পারতো। নাসির হোসেন সেটা হতে দেননি।

    সাব্বির রহমান আগেরদিন ক্রেইগ এরভিনের দারুণ ফিল্ডিংয়ের শিকার, তবে আজ তিনি নিজেই নিজের ঘাতক। স্কোরকার্ডের দিকে হয়তো খেয়াল ছিল না তার। অন্তত ৫৭ রানে ৪ উইকেটের সময় এমন শট খেলার পক্ষে যুক্তি কী, সেটা সাব্বিরই বোধহয় ভাল বলতে পারবেন। যেমন নিজের সেই শটের ব্যাখ্যা দিতে পারবেন নাসির নিজে।

    তবে মাশরাফি বিন মুর্তজা বলছেন, হয়তো চাপটা ঠিক নিতে পারছেন না তারা। অথবা তাদের খেলার ধরনের কারণেই হতে পারে এমন, ‘হয়তোবা তারা রানটাকে বেশি পছন্দ করে, সময় কাটানোর চেয়ে মনে করে রানটা দ্রুত আসলে তাড়াতাড়ি সেট হয়ে যেতে পারে।’

    সেট হওয়া দূরের কথা, দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করা দূরের কথা, উল্টো পথভোলা পথিককে যেন পথ থেকেই সরিয়ে দিলেন তারা! সমস্যার গোড়া আরও অনেক দূরে প্রোথিত বলেও মনে হয় বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে, ‘প্রথম শ্রেণিতেও যদি দেখেন তিন, চার উইকেট পড়ার পরও ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইকরেট কিন্তু ১০০-ই থাকে। কাজেই ওই অভ্যাসটা আমাদের কম। এমনকি ওয়ানডে ম্যাচেও যে কখনো কখনো উইকেট পড়ে গেলে অল্প সময়ের জন্য উইকেটে সেট হয়ে রান করা, ওই অভ্যাসটা হয়তোবা প্রকৃতিগতভাবে আমাদের ক্রিকেটারদের একটু কম আছে। এখানে একটা ঘাটতি থাকতে পারে।’

    সেই ঘাটতিটা ফাইনালের আগে পূরণ হয়ে যাবে, সেটা চাওয়া বোধহয় বড় বেশি অমূলক। অধিনায়ক তাই তাদেরকে ভাবতে বলছেন, ‘আমার মনে হয় ওদের নিজেদের আমার চেয়ে বেশি খারাপ লাগছে।। আমি চাইব যে ফাইনালের আগে এটা নিয়ে তারা চিন্তা করুক।’

    অবশ্য তাদের পরিশ্রম নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই মাশরাফির, ‘আমি নিশ্চিত যে, আমি তাদেরকে নিয়ে অভিযোগ করতে পারতাম যদি তারা কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টা না করত। তারা যে চেষ্টাটা করছে, একটা-দুইটা রান (বড় স্কোর) না করে ওখান থেকে বের হয়ে আসাটা কঠিন। আজকে হয়তোবা তাদের জন্য আরও ভালো কিছু করার ছিল। উইকেটে আরও সময় কাটাতে পারত। ২০-২২ ওভারে অলআউট হয়েছি। যে সময়টা পেয়েছি…. যদি আজকে স্ট্রাইক রেট কমও হতো তাহলেও কেউ প্রশ্ন আনতো না।’

    নাসির বা সাব্বির কি স্ট্রাইক রেটের কথাই ভাবছিলেন?

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন