• নেশনস কাপ
  • " />

     

    ইংল্যান্ডকে হারিয়েই শুরু হল স্পেনের এনরিকে অধ্যায়

    দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের খেলা চলছে তখন। লিড নিয়েও ২-১ গোলে পিছিয়ে তখন ইংল্যান্ড। ডানপ্রান্ত থেকে ক্রস করলেন কিয়েরন ট্রিপিয়ের। স্পেন অধিনায়ক সার্জিও রামোসের পায়ে লেগে বল জঠে গেল আকাশে। বাসমান বলে তালুবন্দি করতে লাফিয়ে উঠলেন ডেভিড ডি গেয়া। ইংলিশ ফরোয়ার্ড ড্যানি ওয়েলবেকের গায়ে লেগে পড়ে গেলেন তিনি, হাত ফসকে বেরিয়ে গেল বল। বাঁপায়ের টোকায় বল জালে পাঠালেন ওয়েলবেক, উল্লাসে ফেটে পড়ল সমগ্র ওয়েম্বলি। কিন্তু না! রেফারি এবং লাইনসম্যানের সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হল ইংল্যান্ডের। শেষমেশ ঐ ব্যবধানেই বিতর্কিত এক হার নিয়ে শেষ করল ইউয়েফা নেশনস কাপে গ্যারেথ সাউথগেটের দলের প্রথম ম্যাচ। আর পিছিয়ে পড়েও লুইস এনরিকের প্রথম ম্যাচে জয় নিয়েই ফিরল 'লা ফুরিয়া রোহা'রা। ২০০৭ সালের পর এবারই প্রথম ওয়েম্বলিতে কোনো প্রতিযোগীতামূলক ম্যাচ হারল ইংল্যান্ড। 

    ওয়েলবেকের ঐ গোল বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরও থেমে থাকেনি ইংল্যান্ড। এর মিনিটখানেক পর কেইনেরও একটি প্রচেষ্টা ফিরিয়ে দেন ডি গেয়া। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেমিতে যাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় অবদানটা ছিল তারই। ৬ গোল করে হয়েছিলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আজ ওয়েম্বলিতে নিজ সমর্থকদের সামনে বিশ্বকাপের 'গোল্ডেন বুট'টা তুলে দেওয়া হয়েছিল হ্যারি কেনের সাথে। উৎসবমুখর পরিবেশে লিডটাও নিয়েছিল ইংলিশরাই। ১১ মিনিটে মাঝমাঠে ইস্কোর থেকে বল কেড়ে নেন কেইন। পাস বাড়ান বাঁপ্রান্তে এগুতে থাকা লুক শ'র দিকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড লেফটব্যাকের মাটি কামড়ানো দুর্দান্ত ক্রস স্পেনের তিন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় ডিবক্সে থাকা মার্কাস রাশফোর্ডের পায়ে। ডানপায়ের আলতো টোকায় ক্লাব সতীর্থ ডি গেয়াকে পরাস্ত করেন রাশফোর্ড। দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেডের কোচ হোসে মরিনহো। ইউনাইটেডের মূল একাদশে থিতু নন দুজনের কেউই। ক্লাব কোচের সামনে যেন আজ নিজেদের প্রমাণ করেই ছাড়লেন রাশফোর্ড-শ। 

     

     

    তবে ইংলিশদের লিড নেওয়ার আনন্দটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি একেবারেই। ১৩ মিনিটেই সমতায় ফেরে স্পেন। দানি কারভাহালের পাস থেকে ইংলিশ ডিবক্সে বল পান রড্রিগো মরেনো। ভ্যালেন্সিয়া স্ট্রাইকারের ডানপায়ের মাইনাসে জোরাল শটে স্পেনকে সমতায় ফেরান অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মিডফিল্ডার সল নিগুয়েজ। সমতায় ফেরার পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি স্পেনকে। মাঝমাঠে তিনজন নিয়েও ইস্কো-থিয়াগোদের সাথে পেরে উঠেননি জর্ডান হেন্ডারসনরা। স্পেনের দারুণ পাসিং, গোছানো ফুটবলের সামনে রীতিমত অসহায় আত্মসমর্পণ করা ইংলিশরা পিছিয়ে পড়ে প্রথমার্ধেই। ৩২ মিনিটে থিয়াগো আলকান্তারার ফ্রিকিকে বাম পা ছুইঁয়ে দলকে লিড এনে দেন রড্রিগো। যে রক্ষণভাগ নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে রীতিমত ঈর্ষার পাত্রে পরিণত হয়েছিল ইংল্যান্ড, সেই রক্ষণের ভুলেই প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে ইংলিশরা। বিশেষ করে দুই গোলেই দোষ ছিল ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়েরের।

     

     

    স্পেন যেমন গোল হজম করেই সমতায় ফিরেছিল সাথে সাথেই, ইংল্যান্ডও ম্যাচে ফিরত আরেকটু হলেই। কিন্তু ৩৭ মিনিটে জেসি লিনগার্ডের ক্রসে মার্কাস রাশফোর্ডের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ডি গেয়া। স্পেনের হয়ে প্রতিপক্ষের শেষ ১২ শটে ১০ গোল খেয়েছিলেন ডি গেয়া। আজকের এই সেভটা যে তার আত্মবিশ্বাস চাঙ্গা করে দেবে- তা অবশ্য বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। এই মৌসুমেই মূলত ফর্মে ফেরা শুরু করেছিলেন শ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কারভাহালের সাথে এক সংঘর্ষে মাঠেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন শ। মেডিক্যাল স্টাফের সেবা-শূশ্রূষায় জ্ঞান ফেরে ঠিকই, কিন্তু মাঠে আর নামতে পারেননি। স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন স্প্যানিশ সমর্থকেরাও। এরপর থেকেই ইংল্যান্ডের বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ বলতে গেলে প্রায় বন্ধই হয়ে যায় তাদের। এই সুযোগে আরেকটু হলেই ৫৫ মমিনিটে লিড নিয়ে নিতে পারত স্পেন। কিন্তু মার্কোস আলোন্সোর ক্রস থেকে থিয়াগোর ভলি চলে যায় ইংলিশ গোলের সামান্য উপর দিয়ে।

    দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময়ই ইংলিশদের চেপে ধরেছিল স্প্যানিশরা। কিন্তু জর্ডান পিকফোর্ডের দক্ষতায় লিডটা আর বাড়ানো হয়নি তাদের। ইস্কো, ইয়াগো আসপাসের অন্তত দুটি নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দিয়েছেন এভারটন গোলরক্ষক। তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হেন্ডারসনের বদলে এরিক ডায়ার নামার পর থেকেই আক্রমণের ধার বাড়তে থাকে ইংলিশদের। লম্বা পাসে কেইনদের আক্রমণে সাহায্য করতে থাকেন ডায়ার। স্পার্স মিডফিল্ডারের এমনই এক পাস নিয়ন্ত্রণে এনে ৭৮ মিনিটে রাশফোর্ডকে পাস বাড়ান কেইন। তবে দুজনকে কাটিয়ে ইউনাইটেড ফরোয়ার্ডের জোরাল শট এবার ফিরিয়ে দেন ডি গেয়া। দ্বিতীয়ার্ধ শেষে ৯ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হলেও শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফেরা হয়নি সাউথগেটের দলের। তার অধীনে এবারই প্রথম ওয়েম্বলিতে হারল ইংল্যান্ড।