• " />

     

    বোল্ট যেখানে অদ্বিতীয়

    ১.

    গড়বড়টা  প্রথম ধরতে পেরেছিলেন জেনিফারের বাবা। তার নাতি আর দশটা শিশু থেকে আলাদা। একটু বেশিই ছটফটে। ইংরেজিতে যাকে বলে- ‘হাইপার অ্যাকটিভ’। একদিনের ঘটনা- ছেলেকে খাটের ওপর রেখে অন্য কামরায় কাজ করছিলেন জেনিফার। হঠাৎ খাট থেকে ভূপাতিত নয়নের মণি ! জেনিফার ছুটে এসে দেখেন, সে কান্নাকাটি দূরে থাক, খাটে ফিরতে মনোযোগী! অতি মাত্রায় চঞ্চল নাতিকে নিয়ে বুড়ো দাদার সে সময়ের পর্যবেক্ষণ, ‘ছেলেটার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে।’

    জেনিফার এখন বিশ্বাস করেন, তার ছেলেটা সে বয়স (তিন সপ্তাহ) থেকেই খুব শক্তপোক্ত গড়নের।’ সন্তানের অতি চঞ্চলতার কারণ অনুসন্ধানে জেনিফারের কল্পনার সীমারেখা থেমেছে এখানে,‘অন্তঃস্বত্ত্বা থাকার সময় খুব মিষ্টি খেয়েছি। তেঁতুলগুলোতে প্রচুর চিনি থাকে। আমার মনে হয় এজন্যই, সে এতটা ছটফটে।’ এরপর জেনিফারের উক্তিটা মনে রাখার মতো, ‘দেড় সপ্তাহ দেরি করে ওর জন্ম। গোটা জীবনে তার দেরি বলতে ওই একবারই।’

    জেনিফার বোল্টের দাবী এক অর্থে ভুল । অন্য অর্থে সঠিক। চার বছর আগে দেগুতে তার ছেলেকে সবার পেছনে দেখেছে বিশ্ব। ওটা ‘ফলর্স স্টার্ট’ হলেও আজও সবাই মনে রেখেছে- পাল্টা যুক্তি দাঁড় করাতেই পারেন জেনিফার। এটা সত্য যে, দেগুকে মুছে ফেললে বাকিটুকু বোল্টেরই রাজত্ব - বেইজিং (২০০৮), বার্লিন (২০০৯), দেগু (২০১১), লন্ডন (২০১২), মস্কো (২০১৩), আবারও বেইজিং (২০১৫)— সেই ‘পাখির বাসা’!  সাত বছর আগে যেখানে জেনিফারের ছেলের দৌড় শুরু, সেখানে গত মাসে নামলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের পর্দা। এবারও জেনিফারের ছেলেকে কেউ পিছু ফেলতে পারলো না। সব মিলিয়ে হিসেবটা দাঁড়ালো— ১১ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বোল্ট! 

     

    ২.

    ‘এই পৃথিবীতে নাকি সাতশো কোটি মানুষ আছে। ভাবতে ভালোই লাগে এর মধ্যে আমিই সবচেয়ে জোরে দৌড়াই’— দুই বছর আগে নিজের সম্বন্ধে এভাবেই মুগ্ধতা প্রকাশ জেনিফার তনয়ের। ওদিকে পদার্থবিজ্ঞানীদেরও ঘাম ছুটে যাচ্ছে। কী আছে, ওই ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি শরীরে!

    একসময় মনে করা হতো, ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করা অসম্ভব। ৪৭ বছর আগে এথেন্স অলিম্পিকে তা করে দেখান জিমি হাইনেস। হ্যান্ড টাইমিংয়ে ৯.৯ সেকেন্ড। অটোমেটিক টাইমিংয়ে আসে ৯.৫ সেকেন্ড। ১৯৭৭ সালে ইলেকট্রনিক টাইমিং বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও বাতাসের আনুকূল্য ছাড়া একমাত্র স্বীকৃত ‘১০ সেকেন্ড ব্যারিয়ার’ পার করেছিলেন কেবল হাইনেস। ওই বছরই রেকর্ডটা ৯.৮ সেকেন্ডে নামিয়ে আনেন সিলভিও লিওনার্দ। কিন্তু তার রেকর্ডটা ছিলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশি উচ্চতার ট্র্যাকে যেখানে বাতাসের উপস্থিতি কম থাকায় অ্যাথলেটদের সুবিধে হয়। ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ে সমতল ট্র্যাকে প্রথম ‘১০ সেকেন্ড ব্যারিয়ার’ ভেঙ্গে দেন কার্ল লুইস (৯.৯৭ সেকেন্ড)। এরপর লিনফোর্ড ক্রিস্টির ৯.৮৭, মরিস গ্রীনের ৯.৭৯ সেকেন্ড একেকটি ধাপ পতনের মাইলফলক। বেইজিং অলিম্পিকে সেটা ৯.৬৯ সেকেন্ডে নামিয়ে আনেন উসাইন সেন্ট লিও বোল্ট। 'লাইটনিং' বোল্ট !

    বোল্টের কাছে বাতাসের আনুকূল্য ছিলো না বেইজিংয়ে। কোচের মতে, ৬০ মিটার পর সেদিন বাকি সময়টা প্রতিপক্ষদের হেলা করে দৌড়েছেন বোল্ট। ফিনিশিং লাইন ছুঁয়েছে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে। ওই সময় সিরিয়াস থাকলে টাইমিং নেমে আসতো ৯.৫২ সেকেন্ড! অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্ট্রোফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের মতে তা মেরে কেটে ৯.৬০ সেকেন্ডের নিচে নেমে আসতো।

    সেটাও ঘটে পরের বছর বার্লিন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ওই মৌসুমে টাইসন গের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই বোল্টের টাইমিং ৯.৫৮ সেকেন্ড! ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ের প্রচলন শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানকে ভুল প্রমাণের আশা জাগিয়ে তোলে মানুষ। ২০০৮ সালে কেসস্টাডির পর ব্রিটেনের জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজির মতামত, একজন মানুষ সর্বোচ্চ ৯.৪৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করতে সক্ষম। বোল্টের বিশ্বরেকর্ড থেকে চ্যালেঞ্জটার ব্যবধান মাত্র ০.১০ সেকেন্ড।

    দুই বছর আগে একটি গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে বোল্টের এই অবিশ্বাস্য গতির ব্যাখ্যা দেন ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অব ফিজিক্সে’ প্রকাশিত নিবন্ধের গবেষকরা। তাদের মতে, বার্লিনে বিশ্বরেকর্ড গড়ার সময় প্রতি সেকেন্ডে ১২.২ মিটার দৌড়ান বোল্ট। ঘন্টায় যা প্রায় ২৭ মাইল। এদিন মোট ৮১.৫৮ কিলোজুল শক্তি ব্যয় করেন বোল্ট। দৌড় শুরুর পর সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছাতে তার সময় লাগে এক সেকেন্ডেরও কম। খুশি হওয়ার কিছু নেই। স্প্রিন্টে এটা মোটেও ভাল শুরু নয়। টেকনিক্যালি বোল্টের দুর্বলতা বলে যদি কিছু থেকে থাকে তবে সেটা তার শুরুর রিফ্লেক্স। বন্দুকের গুলির ডাকে সাড়া দিতে দেরি হয় বোল্টের। এছাড়া  লম্বা অ্যাথলেটদের থেকে তুলনামুলক কম উচ্চতার অ্যাথলেটদেরও শুরুর দিকে বেশি গতি থাকে। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা সেটা ধরে রাখতে পারেনা। এখানে সুবিধাটা পায় লম্বাটে গড়নের অ্যাথলেটরা। বোল্টের মতো পায়ের ধাপ বড় হলে তো কথাই নেই। বিশ্বমানের অ্যাথলেটরা যেখানে গড়ে ৪৪ ধাপে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট শেষ করেন, বোল্টের সেখানে লাগে ৪১ ধাপ !

    দৌড় শুরুর পর বোল্ট যখন তার সর্বোচ্চ শক্তিতে, তখন তার গতি থাকে অর্ধেকে! এটা বাতাসের ধাক্কার তাত্ক্ষণিক প্রভাব। গবেষকরা জেনেছেন, দৌড়ের সময় বোল্টের পেশিগুলো যে পরিমান শক্তি উত্পন্ন্ করে, গতির পেছনে ব্যয় হয় এর ৮ শতাংশেরও কম! বাকি শক্তির পুরোটাই চলে যায় বাতাসের ধাক্কা সামলে সামনে এগিয়ে যেতে। গড়পড়তা মানুষদের থেকে বোল্টের শরীরে প্রতি একক ভরে বেশি পরিমাণ বাতাসের ধাক্কা ভেদ করতে হয়। এদিক বিচারে অসুবিধেটা বেশি। কিন্তু লম্বা ধাপ আর ট্র্যাকে অবিশ্বাস্য শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা তার এ ঘাটতিটুকু পুষিয়ে দেয়।

    সাউদার্ন মেথোডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার ওয়েড গত এক দশক ধরে গবেষনা করছেন মানুষের গতির পেছনের বিজ্ঞান নিয়ে। তাঁর মতে, দৌড়ানোর সময় গতি অনেকাংশেই নির্ভর করে অ্যাথলেটরা কি পরিমাণ শক্তি মাটিতে প্রয়োগ করছেন তার ওপর। নিউটনের গতি সূত্র অনুযায়ী এ শক্তি প্রয়োগের সমান কিন্তু বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় একজন দৌড়বিদ সামনে অগ্রসর হয়। বোল্ট দৌড়ানোর সময় মাটিতে ৪০০ কিলোগ্রাম ওজনেরও বেশি শক্তি প্রয়োগ করেন।

    এছাড়া দূষণমুক্ত আবহাওয়াও একজন স্প্রিন্টারের জন্য আর্শীবাদস্বরুপ। মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনোমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানিদের মতে, যেখানকার আবহাওয়া দূষিত, বাতাসে আদ্রর্তা ও ঘনত্ব বেশি সেখানে অ্যাথলেটদেরও বেগ পেতে হয়। অর্থাৎ, এ গ্রহটা যদি আরও কম দূষণমুক্ত থাকতো তাহলে হয়তো ৬ বছর আগে বার্লিনেই বোল্টের কাছে, ভুল প্রমাণিত হতো বিজ্ঞান!

     

     

    ৩.

    জ্যামাইকা সত্যিকার অর্থেই স্প্রিন্টার প্রসবা। গবেষকদের মতে, এর পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্যের প্রভাব আছে। বেশিরভাগ পশ্চিম আফ্রিকান বংশোদ্ভুত জ্যামাইকানের জিন ‘এসিই’ এনজাইম ধারণ করে। সাধারন মানুষের থেকে এ জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানুষের হৃদপিন্ড থেকে বেশি পরিমান অক্সিজেন বাহিত রক্ত মাংশপেশীতে সঞ্চালিত হয়। স্প্রিন্টের ক্ষেত্রে যা কাজে দেয়। বোল্টের পূর্বপুরুষ পশ্চিম আফ্রিকার। এছাড়াও এদের জিনে আলফা এসিটিন-৩ (এসিটিএন৩) প্রোটিনের উপস্থিতি মাংশপেশীকে সহজাত শক্তি এনে দেয়। দেখা গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বমানের অ্যাথলেটদের শরীরে এসিটিএন-৩ প্রোটিনের উপস্থিতি যেখানে ৭০%, সেখানে একজন জ্যামাইকান, সে অ্যাথলেট হোক বা না হোক, শরীরে ধারণ করছে ৭৫% এসিটিএন-৩ ।

    মাটির অবদানও কম নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক র‍্যাচেল আরভিং ও ভিলমা চার্লটন দেখেন, উসাইন বোল্ট কিংবা ভেরোনিকা ক্যাম্পবেল ব্রাউনদের তারকা অ্যাথলেটরা বেড়ে উঠেছেন মাটিতে অ্যালুমুনিয়াম সমৃদ্ধ অঞ্চলে। তিনমাস অন্তঃস্বত্তাকালীন  এসিটিএন-৩ জেনেটিকস বৈশিষ্ট্য শিশুর মাংশপেশীর গঠনে ভূমিকা রাখা শুরু করে। অ্যালুমিনিয়ামের ভূমিকাটাও গুরুত্বপূর্ণ এখানে। জ্যামাইকার মাটিতে অ্যালুমিনিয়ামের আধিক্য থাকায় তা থেকে উত্পন্ন খাবার খুব অল্প বয়সেই শিশুর মাংশপেশীকে সুগঠিত করে। এছাড়া ‘ইয়াম’, এক ধরনের কলা ও গ্রিনটিও জ্যামাইকান স্প্রিন্টারদের উত্থানে বড় ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা গবেষকদের।

    পর্যটকপ্রিয় জ্যামাইকার সমুদ্র সফেন প্রাকৃতিক পরিবেশকেও অস্বীকার করার উপায় নেই। বোল্টের জন্মস্থল শেরউড কনটেন্টের কথাই ধরুন। কিংস্টন থেকে গাড়ীতে সাড়ে তিন ঘন্টার পথ। এখানকার ট্রেলওয়ানি পারিশ গ্রামে বোল্টের জন্ম। ছয় বছর আগেও এখানকার রাস্তায় বাতি ছিলো না! পর্যাপ্ত পানির অভাব ছিলো। শেরউড কনটেন্টের রাস্তা দিয়ে হেঁটে সভ্যতার পেছনে ফেলে আসা সময়কে অনুভব করা যায়। গাধার পিঠে মানুষের যাতায়াত, খাবার পানি সংগ্রহে ক্ষুদে ছেলেমেয়ের রাস্তার পাশে ভিড়। পাশ কাটিয়ে কোন গাড়ি চলে গেলে অবাক চোখে ওরা হাত নাড়ায়। বোল্ট এসবের ভেতর দিয়েই বেড়ে উঠেছেন।

    স্প্রিন্টে ভয়ানক গতি প্রদর্শনে যে সারল্য ফুটে ওঠে, তা জ্যামাইকার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। আর অ্যাথলেটিকসের প্রতি জ্যামাইকানদের ‘প্যাশন’ প্রসঙ্গে একটা উদাহরণই যথেষ্ট।

    গত এপ্রিলে জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত হয় জুনিয়র স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপ। জ্যামাইকান স্প্রিন্টের ভবিষ্যৎ তারাদের খোলনলচে জানতে কিংস্টনে গিয়েছিলেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক মাইকেল পাওয়েল। ৩৩ হাজার আসনবিশিষ্ট সিমেন্ট বোল স্টেডিয়ামের একটি আসনও ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখেননি পাওয়েল। সেখানে সব কিশোর স্প্রিন্টারের স্বপ্নের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে বোল্ট। অস্বাভাবিক কিছুই নয়। স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে বোল্টের বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার পথে তাকে অবাক করে দেন এক ট্যাক্সি ড্রাইভার । জ্যামাইকায় কম-বেশি সবাই ট্র্যাকে নেমেছে- এ প্রবাদে বশবর্তী হয়ে কৌতূহল বশত সেই ট্যাক্সি ড্রাইভারকে, যে কি-না আবার একজন রেগে মিউজিশিয়ান, পাওয়েল জিজ্ঞেস করেছিলেন-আপনিও কি স্কুল জীবনে দৌড়েছেন?

    -অবশ্যই। আমি ১০.৬ সেকেন্ডে ১০০ মিটার শেষ করেছি।

    পাওয়েল ভীষণ চমকে গিয়েছিলেন, কারণ ট্যাক্সিচালকের স্কুলে পড়ার সময় বিশ্বরেকর্ডটা ছিল ৯.৯ সেকেন্ড, তখন জ্যামাইকার নাম-পরিচয়হীন এক ট্যাক্সিচালক স্প্রিন্টারের টাইমিংও ১০.৬!

     

    ৪.

    রিও অলিম্পিক কড়া নাড়ছে দরজায়। তখন ত্রিশে পা দেবেন বোল্ট। অলিম্পিকে স্প্রিন্টের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সদ্য সমাপ্ত বেইজিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটারে বোল্টের সঙ্গে গ্যাটলিনের ব্যবধান ছিলো এক সেকেন্ডের একশো শতাংশের এক ভাগ। সতর্কবার্তাই বটে। বোল্ট কিন্তু বরাবরের মতোই নির্ভার।

    লন্ডনে প্রথম স্প্রিন্টার হিসেবে দুইটি অলিম্পিকে স্প্রিন্ট ডাবল জেতার পর সদম্ভে বলেছিলেন, "আমি এখন জীবন্ত কিংবদন্তি।" বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এবারের সোনাজয়ের পরেই আবার বলেছেন, "কখনও ভাবিনি আমি হারতে পারি।" নিজের ওপর এমন আত্মবিশ্বাস তো বোল্টকেই মানায়!