• নেশনস কাপ
  • " />

     

    বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের প্রতিশোধ নেওয়া হল না ইংল্যান্ডের

    কিয়েরন ট্রিপিয়েরের দুর্দান্ত ফ্রিকিক, ইভান পেরিসিচের সমতাসূচক গোল, পর মুহূর্তেই বারপোস্টে প্রতিহত ক্রোয়েশিয়ার লিড, অতিরিক্ত সময়ে রক্তাক্ত মারিও মানজুকিচের গোলে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া- ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ মানেই যেন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের হাইলাইটস। রাশিয়া বিশ্বকাপের অন্যতম রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ উপহার দেওয়া দু'দল আজ নেমেছিল ইউয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে। অর্থহীন প্রীতি ম্যাচ না হলেও ম্যাচ দেখে অবশ্য তা বোঝার জো নেই। স্পলিটের স্তাদিও রুয়েভিকায় দর্শকবিহীন নিষ্প্রাণ মাঠে তেমনই এক ম্যাড়মেড়ে গোলশূন্য ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দু'দলকে। 

    ২০১৫ সালে ইতালির বিপক্ষে ইউরো '১৬ বাছাইপর্বের ম্যাচ। মাঠে উপস্থিত ক্রোয়াট সমর্থকেরা 'স্বস্তিকা' চিহ্ন দেখানোয় ইউয়েফার পরের দুই 'হোম' ম্যাচ দর্শকবিহীন মাঠে খেলার নির্দেশ দেয় ইউয়েফা। ২০১৫ সালের অক্টোবরে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর আজই ইউয়েফার কোনো হোম ম্যাচ খেলল ক্রোয়েশিয়া। আজকের ম্যাচ দিয়েই শেষ হল তাদের এই নিষেধাজ্ঞা। 

     

     

    বিশ্বকাপে ব্যবহৃত 'থ্রি মেন ডিফেন্স'-এর বদলে আজ রক্ষণে চারজনই খেলিয়েছিলেন ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। কাইল ওয়াকার, জন স্টোনস, হ্যারি ম্যাগুয়েরের সাথে রক্ষণে অভিষিক্ত হয়েছিলেন তরুণ লেফটব্যাক বেন চিলওয়েল। ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিকতার পুরষ্কারস্বরূপ আজ মূল একাদশেই ছিলেন রস বার্কলি। ইংলিশ দলে বিশ্বকাপের বেশকিছু পরিচিত মুখ থাকলেও ক্রোয়েশিয়া দলে ইভান ক্লরাকিটিচ এবং লুকা মদ্রিচদের সাথে ছিলেন এক ঝাঁক তরুণ। লিভাকোভিচ, পিভারিচ এবং ইয়েডভায় ছিলেন নতুন মুখ। বিশ্বকাপে ইংলিশ বধের নায়ক মারিও মানজুকিচের বদলে নেমেছিলেন আন্দ্রেই ক্রামারিচ। বেশ পরিবর্তিত দুই একাদশ শুরু থেকেই গোল করার চেয়ে গোল না খাওয়ার দিকেই ঝুঁকেছিল বেশি। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের দখল নিতেই ব্যস্ত ছিলেন হেন্ডারসন, মদ্রিচরা।

    ম্যাচে প্রথম সুযোগ পেতে ১৯ মিনিট লেগেছে দুই দলের। তবে আন্দ্রে রেবিচের শট ফিরিয়ে দিতে তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি জর্ডান পিকফোর্ডকে। রেবিচের প্রচেষ্টার পর থেকে ক্রমশ জেগে উঠতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। মদ্রিচ, রাকিটিচদের যোগানো পাসে ইংলিশ রক্ষণভাগকে বেশ সমস্যায় ফেলতে থাকেন রেবিচ, ক্রামারিচরা। ম্যাচের ২৯ মিনিটে আরেকটু হলেই লিডটা নিয়ে নিত ক্রোয়েশিয়া। ক্রামারিচের দূরপাল্লার শট দক্ষহাতে ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড। পুরো প্রথমার্ধে ক্রোয়াট আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত ইংলিশরা প্রথমার্ধের শেষদিকে ফিরতে থাকে স্বরূপে। ৪৩ মিনিটে দুর্ভাগ্যের কারণে লিড নিতে পারেনি 'থ্রি লায়ন্স'রা। হেন্ডারসনের কর্ণার থেকে মার্কাস রাশফোর্ডের হেড প্রতিহত হয় বারপোস্টে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন দালিচ, হতাশার দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন সাউথগেট।

     

     

    প্রথমার্ধের মত দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও ইংলিশদের চেপে ধরে দালিচের দল। ৫২ মিনিটে ইভান পেরিসিচের শট পিকফোর্ড ফিরিয়ে না দিলে লিডটা ঠিকই নিত ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপের ফর্মটা এভারটনের পর জাতীয় দলেও নিয়ে এসেছেন তরুণ এই গোলরক্ষক। কিন্তু সময়ের সাথে ম্যাচে আধিপত্য বিরাজ করতে থাকে ইংলিশদেরই। তবে ক্রোয়াটদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হলেও ইংলিশদের প্রতিপক্ষ যেন ছিল দুর্ভাগ্য। প্রথমার্ধে রাশফোর্ডের পর ৫৩ মিনিটে হ্যারি কেইনের হেডও প্রতিহত হয় ক্রসবারে। ভাগ্যের সাথে রেফারিও যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন ইংলিশদের থেকে। ৫৬ মিনিটে বার্কলিকে মাতেও কোভাসিচ নিজেদের ডিবক্সে ফেলেও দিলেও পেনাল্টির বাঁশি দেননি রেফারি।

    কিন্তু এর মিনিট দুয়েক পর আর অজুহাত নয়, নিজেদের দোষেই লিডে যেতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৫৮ মিনিটে বার্কলির দুর্দান্ত ডিফেন্সচেরা পাসে ক্রোয়াট গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান রাশফোর্ড। কিন্তু বল আর জালে পাঠাতে পারেননি। ৬০ মিনিটে আবারও লিভাকোভিচকে একা পান রাশফোর্ড। এবারও ইংলিশ ফরোয়ার্ডকে ফিরতে হয় খালি হাতেই। ইংলিশদের আক্রমণ জোয়ারে ভেসে যাওয়া ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয়ার্ধে আর তেমন মেলে ধরতে পারেনি নিজেদের। ম্যাচের বাকিটা সময় কোনো দলই আক্রমণ গড়তে পারেনি তেমন। গোলরক্ষক বা রক্ষণভাগকেও পড়তে হয়নি সমস্যায়। শেষমেশ বিজয়ীর হাসি হাসতে পারেনি কেউই। ২০১১ সালের পর এবারই প্রথম টানা ৪ 'অ্যাওয়ে' ম্যাচে অপরাজিত থাকল ইংল্যান্ড।