• নেশনস কাপ
  • " />

     

    জার্মানির দুর্দশা বাড়াল ফ্রান্স

    বিশ্বকাপের সময় থেকেই যেন দুর্দশা পিছু ছাড়ছে না জার্মানির। গত সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হেরে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত টানা ৩ ম্যাচ গোলশূন্য থাকার 'রেকর্ড' করেছিল জোয়াকিম লো-য়ের দল। আজ গোলটা ঠিকই পেয়েছে জার্মানরা, কিন্তু জয়টা থেকে গেছে অধরাই। টনি ক্রুসের পেনাল্টিতে লিড নিলেও আঁতোয়া গ্রিযমানের জোড়া গোলে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে জার্মানি। এ বছর এই নিয়ে ৬ বার হারল জার্মানরা। ১৮ বছর পর এবারই প্রথম টানা দুই ম্যাচ হারল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

    অথচ দুর্দান্ত এক প্রথমার্ধের পর জয়ের পাল্লাটা ভারী ছিল জার্মানদেরই। ৩-৪-৩ ফর্মেশনের প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবলে ফ্রেঞ্চ রক্ষণভাগকে বারবার নাড়িয়ে দিচ্ছিল লোয়ের দল। লিরয় সানে, সার্জ গানাব্রি এবং টিমো ভার্নার দিয়ে গড়া আক্রমণভাগ সামলাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছিল রাফায়েল ভারানরা। ম্যাচের শুরু থেকেই মাঝমাঠের দখলটাও ছিল জার্মানদের হাতে। ক্রুসদের সাথে কোনোভাবেই পেরে উঠছিলেন না পল পগবারা। জার্মানদের গোলটা এসেছে পগবার ভুলেই। মাঝমাঠে বল হারিয়ে জার্মানদের প্রতি-আক্রমণের সুযোগ করে দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার। ১৩ মিনিটে জশুয়া কিমিচের পাস থেকে ফ্রেঞ্চ ডিবক্সে বল পেয়ে যান সানে। ডিবক্সে তার ক্রস ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার প্রেস্নেল কিম্পেম্বের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি দেন রেফারি। ১২ গজ থেকে হুগো লরিসকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি ক্রুস।

    গোলের পর থেকে ম্যাচের আধিপত্য পুরোটাই চলে আসে জার্মানদের হাতে। নিজেদের মাঠে সানে-ভার্নারদের সামনে পাত্তাই পাচ্ছিলেন না ফ্রান্সের ফুটবলাররা। একের পর এক আক্রমণে ফ্রান্সকে ম্যাচে ফেরার সুযোগই দেয়নি জার্মানি। কিন্তু বেশ কয়েকবার সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর দ্বিগুণ করা হয়নি তাদের। দুইবার লরিসকে একা পেয়েও গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন সানে। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে দলের হয়ে ভাল করার চেয়ে নিজেকেই যেন তুলে ধরতে চেয়েছিলেন সানে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই। সানেও পারেননি তেমন জ্বলে উঠতে, জার্মানিরও হয়নি ব্যবধান দ্বিগুণ করা। বিশেষ করে ২৮ মিনিটে ভার্নারকে পাস না দিয়ে নিজেও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির উইঙ্গার। তবে দুর্দান্ত এক প্রথমার্ধে জার্মানদের দেখে বোঝার উপায় ছিল না এই দলটাই দুঃসময় পার করছে। রক্ষণভাগে ম্যাটস হামেলস, নিকোলাস সুলেরাও ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথমার্ধে ম্যানুয়েল নয়্যারকে একবারের জন্যও পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি গ্রিযমান-এম্বাপ্পেরা।

     

     

    সানের মিসের মাশুল প্রথমার্ধে দিতে না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে হাড়ে হাড়ে ভুগেছে তারা। উইং থেকে সরিয়ে অলিভিয়ের জিরুর সাথে 'সেকেন্ড স্ট্রাইকার' হিসেবে এম্বাপ্পেকে খেলান দিদিয়ের দেশম, গ্রিযমানকে নিয়ে আসেন 'নাম্বার টেন' রোলে। ফলাফল? বিশ্বকাপের ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তন। আর তাতেই কপাল পোড়ে জার্মানদের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই স্বরূপে ফেরা এম্বাপ্পে-গ্রিযমানদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি হামেলসরা। ৫৪ মিনিটে পগবার দূরপাল্লার আগুনে শট ফিরিয়ে দেন নয়্যার। কিন্তু এর মিনিট দশেক পর আর শেষরক্ষা হয়নি জার্মানদের। ৬২ মিনিটে লেফটব্যাক লুকাস হার্নান্দেজের ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে দলকে সমতায় ফেরান গ্রিযমান। গোলের পরই যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয় পার্ক ডি প্রিন্সে। সমর্থকদের নতুন উদ্যম যেন আরও ঘি ঢেলে দেয় ফ্রেঞ্চ আগুনে। সমতায় ফেরার পর লিড নিতে মরিয়া ফ্রান্স রীতিমত টুঁটি চেপে ধরে জার্মানদের।

     

     

    প্রথমার্ধে ভারানদের কাঁপিয়ে দেওয়া সানে-গানাব্রিরা নিজেদের ছায়া হয়েই ছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে। তবে অন্যান্যদের চেয়েও বেশ খানিকটা নিষ্প্রভ ছিলেন সানে। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে তার বদলে তাই জুলিয়ান ড্র‍্যাক্সলারকে নামিয়ে দেন লো। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি খুব একটা। ফ্রান্সের আক্রমণ জোয়ারে খেই হারিয়ে ফেলা জার্মানি রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করলেও শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে পারেনি 'লা ব্লুজ'দের। ৭৮ মিনিটে ডিবক্সে ব্লেইজ মাতুইদিকে ফেলে দিয়ে ফ্রান্সকে পেনাল্টি উপহার দেন হামেলস। ১২ গজ থেকে নয়্যারকে পরাস্ত করলেও ভুল করেননি গ্রিযমান। এই গোলে 'লা ব্লুজ'দের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষ দশে ঢুকে পড়লেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড। জার্মানদের বিপক্ষে ফ্রান্সের প্রতিযোগিতামূলক শেষ তিন গোল এসেছে গ্রিযমানের পা থেকেই। শেষদিকে শত চেষ্টা করেও লরিসকে আর পরাস্ত করতে পারেনি লোয়ের দল।

    টানা দুই ম্যাচ হেরে ইউয়েফা নেশনস লিগের লিগ ওয়ান থেকে তাই অবনমনের শঙ্কাটা আরেকটু সত্যি হল জার্মানির। ৩ ম্যাচ থেকে তাদের পয়েন্ট ১, দুইয়ে থাকা নেদারল্যান্ডসের ৩, আর জার্মানির ১। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে আর একটি ম্যাচ বাকি আছে জার্মানির। আর নেদারল্যান্ডসের বাকি দুই ম্যাচ, ডাচরা যে কোনো একটি জিতে গেলেই জার্মানিতে নেমে যেতে হবে লিগ টুতে।