• নেশনস কাপ
  • " />

     

    শেষ মুহূর্তের নাটকে গ্রুপ জমিয়ে তুলল ক্রোয়েশিয়া

    গত সেপ্টেম্বরে ৬-০ গোলের বিশাল হার। নিজেদের মাঠ জাগ্রেবে আজ ইউয়েফা নেশনস লিগে টিকে থাকার সাথে স্পেনের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচটি ছিল প্রতিশোধ নেওয়ারও। তবে জাগ্রেবে দুবার লিড হারানোর পর তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা মিইয়ে যাচ্ছিল বিশ্বকাপের রানার্স-আপদের। এমন সময়ই ত্রাতা হয়ে আসলেন তিনি। দেশ তো নয়ই, এমনকি ক্লাব বায়ার লেভারকুসেনের মূল একাদশেও সুযোগ পান না নিয়মিত। আজ নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে দলের লিড পুনরোদ্ধার করেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও টিন ইয়েডভাইয়ের গোলে ৩-২ ব্যবধানের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়ে স্পেনকে হারাল ক্রোয়েশিয়া। আগামী রোববার ইংল্যান্ডকে হারালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে দালিচের দল। আর ক্রোয়েশিয়া-ইংল্যান্ড ড্র হলে আর নিজেদের ম্যাচ জিতলে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করে নেবে স্প্যানিশরাই। রাতের অন্য খেলায় রাশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে জার্মানি।

    জাগ্রেবে আজ প্রতিশোধের ম্যাচে পূর্ণশক্তির দলই নামিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। মারিও মানজুকিচ বাদে দলে ছিলেন সবাই-ই। স্পেনের দলে মাঝমাঠে নেমেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের দানি সেবায়োস। স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে প্রথম সুযোগটা পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়াই। ৬ মিনিটে ইভান পেরিসিচের জোরাল শট স্পেন গোলরক্ষক ডেভিড ডি গেয়াকে পরাস্ত করলেও প্রতিহত হয় বারপোস্টে। এর মিনিট আটেক পর আবারও সেই পেরিসিচেরই শট ফিরিয়ে দেন ডি গেয়া। শুরুর দিকের চাপ সামলে মাঝমাঠে নিজেদের স্বভাবসুলভ পাসিং ফুটবলে ছন্দ ফিরে পায় স্পেন। তবে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে তেমন পরীক্ষাতেই ফেলতে পারেননি আসপাস-ইস্কোরা।

     

    প্রথমার্ধে বল দখল, গোলের সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায়নি ক্রোয়েশিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেই আকাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে যায় তারা। ৫৪ মিনিটে সার্জি রবার্তোর ভুল পাসে পেরিসিচের গায়ে লেগে চলে আসে স্ট্রাইকার আন্দ্রেই ক্রামারিচের পায়ে। ডি গেয়াকে একা পেয়ে ভুল করেননি তিনি। তবে লিড নেওয়ার আনন্দে মাতা ক্রোয়াটদের উল্লাস স্থায়ী হয়নি একেবারেই। ৫৬ মিনিটেই ইস্কোর পাস থেকে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান সেবায়োস। লিড হারানোর পর যেন আরও তেতে উঠে ক্রোয়েশিয়া। ৬১ মিনিটে রাকিটিচের শট গোলের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে গেলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় স্পেন। ক্রোয়াটদের বিপক্ষে অবশ্য স্পেনও কম সুযোগ পায়নি। কালিনিচকে একা পেয়েও ৬২ মিনিটে শট বাইরে মারেন আসপাস। তবে লুইস এনরিকের হতাশাটা মিনিটখানেক পর আরও বাড়িয়ে দেন ইস্কো। দ্বিতীয়ার্ধের এসব সুযোগ মিসের খেসারতটা ঠিকই দিতে হয় স্পেনকে। ৬৯ মিনিটে মদ্রিচের ক্রস থেকে হেড করে দলকে এগিয়ে নেন টিন ইয়েডভাই। সমতায় ফিরতে মরিয়া স্পেনকে প্রতি-আক্রমণে বারবার কাঁপিয়ে দিচ্ছিল ক্রোয়াট আক্রমণভাগ। এমনই এক প্রতি-আক্রমণ থেকে ৭২ মিনিটে ডি গেয়াকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন রেবিচ। ৭৬ মিনিটে আলভারো মোরাতার হেড লাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বাঁচিয়ে দেন রাইটব্যাক সিমে ভ্রাসালকো। তবে মিনিটখানেকের মধ্যে 'খলনায়ক' বনে যান ইন্টার মিলানের রাইটব্যাক। ৭৭ মিনিটে ভ্রাসালকোর হাতে বল লাগায় পেনাল্টি পায় স্পেন। ১২ গজ থেকে ভুল করেননি স্পেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস। শেষদিকে ইয়েডভাইয়ের গোলে শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় পায় ক্রোয়াটরা। 

     

     

    লাইপজিগে অবশ্য জয়ের জন্য একেবারেই ঘাম ছোটাতে হয়নি জার্মানিকে। রেড বুল অ্যারেনাতে বোয়াটেং, হামেলস, মুলারদের ছাড়া একেবারেই 'নতুন' জার্মানিকে দেখে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। ৩-৪-৩ ফর্মেশনে খেলা জার্মানদের বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি রাশিয়া। ম্যাচের ৮ মিনিটেই লিড নেয় 'ডি ম্যানশ্যাফট'রা। কেহরেরের পাস থেকে রাশিয়ান ডিবক্সে বল পান সার্জ গ্নাব্রি। বায়ার্ন মিউনিখ উইঙ্গারের মাইনাস থেকে বাঁ-পায়ের আলতো টোকায় দলকে লিড এনে দেন লিরয় সানে। গ্নাব্রি-সানেদের গতির সাথে একেবারেই পেরে উঠেনি ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজকরা। ২৩ মিনিটে জশুয়া কিমিচের চমৎকার ক্রস থেকে সানে সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে তখনই ব্যবধান দ্বিগুণ করত জার্মানরা। তবে এজন্য খুব একটা ভুগতে হয়নি তাদের। ২৫ মিনিটে কিমিচের কর্ণার থেকে অ্যান্টোনিও রুডিগারের হেডে ডিবক্সে বল পেয়ে যান নিকোলাস সুলে। ডানপায়ের জোরাল শটে ব্যবদাহ্ন দ্বিগুণ করতে ভুল করেননি বায়ার্ন মিউনিখের সেন্টারব্যাক। এই গোলের পরই মূলত একেবারেই নেতিয়ে পড়ে রাশিয়া। ৪০ মিনিটে জার্মানদের জয় নিশ্চিত করেন গ্নাব্রি। কাই হাভের্টজের চমৎকার থ্রু পাস থেকে রাশিয়ান গোলরক্ষক লুনেভকে একা পেয়ে দেশের হয়ে ৪ ম্যাচে নিজের ৪র্থ গোল করেন তিনি। 

    জয় নিশ্চিত করার পর দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময়ই গা বাঁচিয়েই খেলে জার্মানি। ফর্মেশন বদলে ৪-১-৪-১ এ খেললেও জার্মান রক্ষনভাগকে একেবারেই পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি রাশিয়ান ফরোয়ার্ডরা। পুরোটা ম্যাচই মিরানচুক-কুজায়েভদের পকেটবন্দি করে রেখেছিলেন সুলে-রুডিগাররা। তবে প্রতি-আক্রমণে খেলা জার্মানিও গোলের সুযোগ পেয়েছিল বেশ কয়েকবার। ৮০ মিনিটে লুনেভকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি জুলিয়ান ব্রান্ডট। ৮৩ মিনিটে কিমিচের ক্রসে গোলের সামনে থেকে অল্পের জন্য পা ছোঁয়াতে পারেননি থমাস মুলার। ৮৮ মিনিটে আবারও গোলের সহজ সুযোগ মিস করেন ব্রান্ডট। শেষ পর্যন্ত তিন গোলের জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় জোয়াকিম লো'র দলকে।