• বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
  • " />

     

    • বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    দেখতে দেখতেই শিখেছেন সাদমান

    যতক্ষণ ব্যাটিং করছিলেন, অভিষেকে স্নায়ুচাপের কোনো ছাপ খুব একটা ছিল না তাঁর মধ্যে। ১৯৯ বলের ইনিংসে সুযোগও দেননি কোনো। সেঞ্চুরিটা পেলে দিনটা অনেক বেশি স্মরণীয় হতে পারত অবশ্যই। তবে সাদমান ইসলাম সেটি না পেলেও জানান দিয়েছেন, লম্বা রেসের ঘোড়া হতেই এসেছেন টেস্ট ক্রিকেটে। তার চেয়েও বড় বার্তা, একজন ক্রিকেটার গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটা ঠিক থাকলে বড় মঞ্চেও যে কাজটা সহজ হয়ে যায়, সাদমান তারই বড় প্রমাণ।

    বাবা বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির সহকারী ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলামকে ক্রিকেটপাড়ায় অনেকেই চেনেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে আসতেন ক্রিকেট মাঠে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ের ম্যাচগুলো দেখতেন কাছ থেকে। একজন ক্রিকেটার, বিশেষ করে একজন ব্যাটসম্যান কীভাবে নিজেকে গড়ে তোলেন, তা দেখেছেন কাছ থেকে। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অনেক জড়তার মধ্যেও সাদমানের সেই স্মৃতি মনে পড়ে গেল, ‘আমি সব সময় ক্যাম্পে যেতাম। অনূর্ধ্ব ১৫-১৭ ক্যাম্পে বাবা সব সময় আমাকে নিয়ে যেত। তখন আমি ছোট ছিলাম। তখন থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল খেলোয়াড় হবো। যেভাবে বাবা খেলার জন্য বলেছেন আমি একাডেমি কিংবা স্কুল ক্রিকেট থেকে ওভাবেই তৈরি হয়েছি। আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে খেলার জন্য। কীভাবে খেলতে হয়, কীভাবে লাইফ সেট করতে হয় ক্রিকেটারদের ওগুলো আমাকে এখনও বলে। নিজেকে চেষ্টা করি ওভাবে রাখার। ’

    এই প্রক্রিয়াটাই সাদমানকে আলাদা করেছে অন্যদের চেয়ে। লিফটে করে এসে জাতীয় দলের বিশাল হলরুমে ঢুকে তাই চোখ ধাঁধিয়ে যায়নি তাঁর, একটা একটা সিড়ি ভেঙেছেন কষ্ট করেছেন। বয়সভিত্তিক দলগুলো থেকে ধাপে ধাপে রান করেছেন, চার বছর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ছিল তাঁর সবচেয়ে বেশি রান। এইচপি দলে, এ দলের হয়ে খেলে রান পেয়েছেন। জাতীয় লিগে এই মৌসুমে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সুযোগ পেয়ে রান করেছেন। তারপরও বসে থাকতে হয়েছে, শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় টেস্টে এসে মিলেছে সুযোগ। সেটি দুইহাত ভরে কীভাবে নিতে হয়, সাদমানের ইনিংসটা তাঁর একটা ডকুমেন্টারি হতে পারে। অভিষেকে কোনো বাংলাদেশি ওপেনারের সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ড সাদমানের, একটুর জন্য হয়নি জাভেদ ওমরের সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য সে সুযোগ থাকছে।  তার চেয়েও বড় কথা, বাংলাদেশের আইসিইউতে থাকা ওপেনিং সংকট একটু হলেও পাচ্ছে সেরে ওঠার বার্তা। গত দেড় বছরেরও বেশি সময়ে তামিম ছাড়া টেস্টে ফিফটি ছিল না বাংলাদেশের আর কোনো ওপেনারের, সাদমানের ৭৬ রানের ইনিংস কাটল সেই খরাও। এই ইনিংসে এসব প্রাপ্তিও কম নয়।

    তবে এসব রেকর্ড নয়, সাদমান নিজেকে চিনিয়েছেন তাঁর টেম্পেরামেন্ট দিয়ে। আজও যখন সিনিয়র দুই ব্যাটসম্যান সৌম্য-মুমিনুল উইকেট দিয়ে এসেছেন, সাদমান তাতে বিচলিত হয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেননি। বিশুর বলে একটা ভুলে শেষ হয়ে গেছে ইনিংস, এ ছাড়া সাদমানের একাগ্রতা ছিল যুধিষ্ঠিরসম। সাদমান পরে বলেছেন, নামার আগে ড্রেসিংরুমে অধিনায়ক আর সিনিয়ররা তাঁকে নিজের খেলাটাই খেলতে বলেছেন, ‘উনারা তো আমার থেকে অনেক অভিজ্ঞ। আমাকে সব সময় বলছিল যে তুমি যেভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটিং করো, তুমি যেগুলো পারো ওরকম ভাবেই খেল। বাড়তি কিছু করতে যেও না। তুমি সব সময় যেভাবে ন্যাচারাল শটস খেল ঠিক সেভাবেই তোমার খেলাটা খেল।’

    কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপটা কি একটু হলেও মাথার ভেতর ছিল না? সাদমান বলছেন, ওভাবে চিন্তাই করেননি। শুধু খেলে যেতে চেয়েছেন নিজের খেলাটা। সেঞ্চুরি নিয়ে হতাশা অবশ্যই আছে, তবে সেটি ভুলেই সামনে তাকাচ্ছেন সামনে। পথটা এখনো অনেক দূরের, তবে তামিম ইকবালের একজন যোগ্য টেস্ট সঙ্গী পাওয়ার আশা এখন বাংলাদেশ করতেই পারে!