• ক্রিকেট

খালি হাতেই নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরছে শ্রীলঙ্কা

একমাত্র টি-টোয়েন্টি, অকল্যান্ড 
নিউজিল্যান্ড ১৭৯/৭, ২০ ওভার (ব্রেসওয়েল ৪৪, কুগেলেইন ৩৫, রাজিথা ৩/৪৪, মালিঙ্গা ২/২৪)
শ্রীলঙ্কা ১৪৪ অল-আউট, ১৬.৫ ওভার (থিসারা ৪৩, কুশাল পেরেরা ২৩, ফার্গুসন ৩/২১, সোধি ৩/৩০)


শ্রীলঙ্কা কিভাবে ম্যাচটা হারলো সেটা বড় একটা প্রশ্ন। 

প্রথমে নিউজিল্যান্ডকে ২৭ রানে ৪ উইকেটে পরিণত করেছিল শ্রীলঙ্কা। ব্ল্যাকক্যাপসদের ৫ম উইকেট গেল ৫৫ রানে, দশম ওভারের শেষ বলে। সেই নিউজিল্যান্ড পরের ১০ ওভারে তুললো ১২৪ রান, ১২.৪ হারে, ডগ ব্রেসওয়েলের ২৬ বলে ৪৪ ও অভিষিক্ত স্কট কুগেলেইনের ১৫ বলে ৩৫ রানের ঝড়ে। 

রানতাড়ায় প্রথম দশ ওভারে শ্রীলঙ্কা তুললো ৯৫ রান। এরপরই খেই হারিয়ে ফেললো তারা, ১৭তম ওভারের এক বল বাকি থাকতেই ১৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে। বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও নিউজিল্যান্ডকে চাপে রেখেও শেষ সীমাটা পার হওয়া হয়নি তাই সফরকারীদের। টেস্টে ১-০, ওয়ানডেতে ৩-০ এর একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে হেরে জয়হীন এক সফর শেষ হলো তাদের। 

ইডেন পার্কে টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়া শ্রীলঙ্কার শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। প্রথম চার ওভারে নিউজিল্যান্ড হারিয়েছে ৪ উইকেট। প্রথম ওভারে লাসিথ মালিঙ্কাকে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে ফিরলেন মার্টিন গাপটিল। এরপর কাসুন রাজিথাকে লেগসাইডে ঠেলে খেলতে গিয়ে লিডিং-এজে ধরা পড়েছেন টিম সেইফার্ট। হেনরি নিকোলস মালিঙ্গার বলে পরাস্ত, কলিন মানরো রাজিথাকে পুল করতে গিয়ে এক্সট্রা কাভারে ধরা পড়লেন। 

মিচেল স্যান্টনারকে নিয়ে এরপর একটু ধাতস্থ হওয়ার চেষ্টা করলেন রস টেইলর। ১৬ বলে ১৩ রান করে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙলো স্যান্টনাররের, লাকশান সান্দাকানকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে তুলে মারতে গিয়ে দিলেন ক্যাচ। ৫৫ রান, ৫ উইকেট। ম্যাচের চারভাগের প্রথম ম্যাচটার পুরোটাই ছিল শ্রীলঙ্কার। 

এরপর শুরু হলো ব্রেসওয়েল ঝড়। ৫ ছয়ের সঙ্গে মারলেন ১টি চার, টেইলরের সঙ্গে তার জুটি তুললো ২৯ বলে ৪৭ রান। ৩৭ বলে ৩৩ রান করে টেইলর ফিরলেন, তবে সে জুটি ভেঙে আরও অতল গহবরে পড়ে গেল যেন শ্রীলঙ্কা। এরপরের ১৫ বলে উঠলো ৪১ রান, ব্রেসওয়েল-কুগেলেইনের জুটিতে। ব্রেসওয়েল ফিরলেন, তবে কুগেলেইন থামলেন না। তিনি মারলেন ৪টি ছয়। একসময় পথ হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসের দ্বিতীয় ধাপে ম্যাচে ফিরলো ভালভাবেই। 

প্রথম ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে বোল্ড হয়ে সাদিরা সামারাবিক্রমা ফিরলেও শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণেই ছিল রানতাড়া। অন্তত ইনিংসের প্রথম অর্ধে। নিরোশান ডিকওয়েলার ১০ বলে ১৮, কুশাল পেরেরার ১২ বলে ২৩, সঙ্গে কুশাল মেন্ডিসের ১৯ বলে ১৭ রানের ইনিংসে ভিতটা পেয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। 

এরপর থিসারা পেরেরার ২ চার ও ৩ ছয়ে ২৪ বলে ৪৩ রানের ঝড়ে গিয়ার বদলালো তারা। তবে আরেকবার পেরেরা হয়ে গেলেনে একা সারথী, পার করাতে পারলেন না শ্রীলঙ্কাকে। তার উইকেটের পর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়লো শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। শেষ ৫ উইকেট তারা হারালো মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে। শেষ ৫ ব্যাটসম্যানের কেউই পেরুতে পারেননি এক অঙ্কের সীমা। 

শুরুতে ৩ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে পথে রেখেছিলেন লকি ফার্গুসন। একটি নিয়েছিলেন ব্রেসওয়েলও। শেষ ৪ উইকেট ভাগ করে নিয়ে অবদান রাখলেন দুই স্পিনার- ইশ সোধি দুইটি ও মিচ স্যান্টনার একটি। দ্বিতীয় ইনিংসের দ্বিতীয় ধাপেও তাই ম্যাচটা হাতছাড়া করে ফেললো শ্রীলঙ্কা। 

ম্যাচটাও হেরে বসলো তারা।