• দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান সিরিজ
  • " />

     

    • দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান সিরিজ

    'জমজমাট জোহানেসবার্গে' শেষ হাসি দ. আফ্রিকার

    দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি, জোহানেসবার্গ 
    দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৮/৩, ২০ ওভার 
    পাকিস্তান ১৮১/৭, ২০ ওভার 
    দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ রানে জয়ী


    এ মাঠের ইতিহাসটাই এমন। বড় স্কোর যেন শেষ কথা নয় এখানে, জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স পার্ক তো গড়ে ইতিহাস। সে পথে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান, তবে ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৮৯ রানের লক্ষ্যে বাবর আজমের ৯০ ও হুসাইন তালাতের ফিফটির সঙ্গে এই দুজনের শতরানের জুটির পরও মোক্ষম সময়ে বাবর, তালাতসহ বাকি উইকেটগুলো নিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাবরকে ছাপিয়ে তাই শেষ পর্যন্ত নায়ক হয়ে থাকলেন প্রথম ইনিংসে ঝড় তোলা ডেভিড মিলারই। 

     

     

    প্রথম তিন বলেই বিউরান হেন্ডরিকসকে বাবর আজম মেরেছিলেন চার। এরপর আরও তিনটি চারের হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি-  দ্বিতীয় ওভারে ক্রিস মরিস, পঞ্চম ওভারে জুনিয়র ডালা ও দশম ওভারে তাবরাইজ শামসি হয়েছেন এর শিকার। বাবর খেলেছেন উইকেটের চার পাশেই, টেনে মেরেছেন, ড্রাইভ করেছেন, ইনসাইড আউট করেছেন, গ্লাইড করেও মেরেছেন চার। মোট বাউন্ডারি ১৩টি, সঙ্গে একটি ছয়। ৩৪ বলে পূর্ণ করেছেন ফিফটি, সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে থেমেছেন হেন্ডরিকসকে তুলে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে ধরা পরে। সে ওভারে জীবন পেয়েও সেটা কাজে লাগাতে পারেননি আসিফ আলি।  

    বাবরের সঙ্গে হুসাইন তালাতের জুটি ছিল ১০২ রানের। প্রথম ফিফটিতে বেশিরভাগ অবদানই ছিল বাবরের, পরেরটিতে বেশ কয়েকটি বড় শটে অবশ্য সেসব পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তালাত। ৩৯ বলে পূর্ণ করেছেন ফিফটি। শেষ ১২ বলে ২৭ রান প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের, ১৯তম ওভারের প্রথম বলে চার মেরে আশা জুগিয়েছিলেন। তবে মরিসের স্লোয়ারে ইনসাইড-এজে হয়েছেন বোল্ড, ৪১ বলে ৫৫ রান করে। এরপর এক চারে আশা দিয়েছিলেন ইমাদ ওয়াসিম, তার মিডলস্টাম্প উড়ে গেছে মরিসের বলেই।  শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫, প্রথম বলেই চার মেরেছিলেন শোয়েব মালিক। তবে তিনি ধরা পড়েছেন এরপর লাইনে, হাসান আলি হয়েছেন বোল্ড। 

    এর আগে রিজা হেন্ডরিকস, জেনম্যান মালান ও রাসি ভান ডার ডুসেনের গড়ে দেওয়া ভিতে ঝড় তুলেছিলেন ডেভিড মিলার। শেষ ৫ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছে ৭৩ রান। 

    হেন্ডরিকস ও মালান শুরুটা করেছিলেন ধীরলয়ে, পাকিস্তানও তখন করেছে আঁটসাঁট বোলিং। পাওয়ারপ্লের প্রথম চার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলতে পেরেছিল মাত্র ২০ রান। শেষ দুই ওভারে ২৪ রান তুলে সেটা অবশ্য খানিকটা পুষিয়ে দিয়েছিলেন মালান, উসমান শিনওয়ারিকে দুই ছয় মেরে। হেন্ডরিকসও চেষ্টা করেছিলেন হাত খোলার। 

    পাকিস্তানকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন ইমাদ ওয়াসিম, তার টসড আপ ডেলিভারিতে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়েছেন মালান। অভিষেক ইনিংসে তিনি করেছেন ৩১ বলে ৩৩। ইমাদ ছিলেন দারুণ, ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৯ রান। ১১তম ওভারে ফাখার জামান দিয়েছেন ১২, দক্ষিণ আফ্রিকা উড়ান শুরু করেছে সেখান থেকেই। তবে হেন্ডরিকস হয়েছেন রান-আউট, শাদাব খানের দারুণ ফিল্ডিংয়ে। ডুসেনের সঙ্গে এরপর যোগ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক মিলার। 

    ১৫তম ওভারে দুই বাউন্ডারিতে শুরু করেছিলেন মিলার, ওদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ফিরেছেন ২৭ বলে ৪৫ রান করা ডুসেন। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে হাসান আলিকে মারলেন ছয়, এরপর নামলো বৃষ্টি। খেলা আবার শুরু হলো, আবার শুরু হলো মিলার-ঝড়। ১৯তম ওভারে তিন ওয়াইডের পরও উঠলো ৭ রান, তবে মিলার যেন সব জমিয়ে রেখেছিলেন শেষ ওভারের জন্য। শিনওয়ারির সে ওভারটা ছিল এমন- ছয়, দুই, ছয় (নো), ডট, চার, ছয়, চার- ২৯ রান! 

    শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিল তো ওই ওভারই!