• ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজ
  • " />

     

    • ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজ

    রান-উৎসবের ম্যাচে নায়ক বাটলার, বৃথা ফাখারের সেঞ্চুরি

    দ্বিতীয় ওয়ানডে, সাউথাম্পটন
    ইংল্যান্ড ৩৭৩/৩, ৫০ ওভার 
    পাকিস্তান ৩৬১/৭, ৫০ ওভার 
    ইংল্যান্ড ১২ রানে জয়ী 


    জস বাটলারের ৫০ বলের সেঞ্চুরিকে ম্লান করে দেওয়ার হুমকি দিলেন ফাখার জামান, ১০৬ বলে ১৩৮ রানের দারুণ ইনিংসে। অইন মরগানের ৪৮ বলে ৭১ রানের বিপরীতে আসিফ আলি করলেন ৩৬ বলে ৫১, জ্যাসন রয়ের ৮৭ রানের জবাব দিতে চাচ্ছিলেন ৫২ বলে ৫১ রান করা বাবর আজম। তবে শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হলো না সেসব। সাউথাম্পটনের রোজ বোলের রান-উৎসবে শেষ হাসি ইংল্যান্ডেরই, পাকিস্তানকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তারা হারিয়েছে ১২ রানে। নিজেদের রেকর্ড রানতাড়ার খুব কাছে গিয়েও থেমেছে পাকিস্তান, ম্যাচে মোট রান হয়েছে ৭৩৪, ইংল্যান্ডের মাটিতে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সামনের বিশ্বকাপে অনুমিত রান-উৎসবের একটা ট্রেইলারই যেন দেখালো এই ম্যাচে দুই দলের ব্যাটিং। 

    শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মাঝে পার্থক্য হয়ে দাঁড়িয়েছে অবশ্য বাটলারের ওই টর্নেডো ইনিংসই। শেষদিকে কেউ অমন রেপ্লিকা দাঁড় করাতে পারলেন না পাকিস্তানের, লাইনটাও পার হওয়া হলো না তাই তাদের। ফাখার ও ইমাম-উল-হক শুরু থেকেই দেখিয়েছিলেন রানতাড়ায় পাকিস্তানের মনোভাব, বলের চেয়ে বেশি গতিতে ৯২ রান তোলার পর ভেঙেছে সে জুটি। ইংল্যান্ডকে ব্রেকথ্রু দিয়েছিলেন এ ম্যাচ দিয়েই বিশ্রাম থেকে ফেরা মইন আলি, ৪৪ বলে ৩৫ রান করে তাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন ইমাম, মোটামুটি হতাশাজনকভাবেই। 

    বাবরের সঙ্গে ফাখারের জুটি এরপর ১৩৫ রানের। বাবরও দিয়েছেন ফিরতি ক্যাচ, এবার বোলার আদিল রশিদ। এর একটু আগেই ফিরেছিলেন ফাখার। ৩৯ বলে ফিফটি করছিলেন, সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ৮৪ বলে, মেরেছেন ৪টি ছয়ের সঙ্গে ১২টি চার। ক্রিস ওকসের বেশ বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে তিনি হয়েছেন কট-বিহাইন্ড। 


    ছবি/ক্রিকইনফো


    তার ও বাবরের উইকেটের পর পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল লম্বা একটা উড়ান। তবে আসিফ আলির পর সরফরাজের ৩২ বলে ৪১ রানের অপরাজিত ইনিংসও যথেষ্ট হলো না তাদের। লিয়াম প্লাঙ্কেট ও ডেভিড উইলি ডেথ ওভারে আটকে দিলেন তাদের। এ ম্যাচে জফরা আর্চারকে বিশ্রামে দিয়ে খেলানো হয়েছে উইলিকে, রান উৎসবের ম্যাচেও ১০ ওভারে ৫৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের কাজটা আরও কঠিন করে তুললেন তিনি। প্লাঙ্কেট ৬৪ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান, ক্রিস ওকস দিয়েছেন ৭ রান। শেষ ৫ ওভারে পাকিস্তান তুলেছে ৪০ রান, বিপরীতে ইংল্যান্ড তুলেছিল ৭৪ রান। 

    ১৭৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই সময় সেই রানসংখ্যার অর্থ- খ্যাপাটে ব্যাটিংয়ের ভিতটা পেয়ে গেছেন জস বাটলার ও মরগান। বাটলার করে দেখালেন সেটাই। ৩২ বলে ফিফটি করেছিলেন, তবে পরের ফিফটি ছুঁতে তার লাগলো মাত্র ১৮ বল। ছয় মেরে পূর্ণ করলেন ক্যারিয়ারের ৮ম সেঞ্চুরি, মাত্র ৫০ বলে, ইংল্যান্ডের হয়ে যা দ্বিতীয় দ্রুততম। রেকর্ডটা তারই, এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই ২০১৫ সালে দুবাইয়ে করেছিলেন ৪৬ বলে সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫৫ বলে ১১০ রানে, মরগান করেছেন ৪৮ বলে ৭১ রান। দুজন মিলে ১৪.৫ ওভারে তুলেছেন ১৬২ রান! ক্লিন-হিটিং আর শক্তিমত্তার দারুণ প্রদর্শনী ছিল বাটলারের ইনিংস। ইনিংসশেষে তাকে অভিবাদন জানাতে ছুটে এসেছিলেন পাকিস্তানীরা। 

     

     

    এর আগে জ্যাসন রয় ও জনি বেইরস্টো ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছিলেন দারুণ শুরু। ৪৫ বলে ৫১ করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ফাখার জামানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেইরস্টো ফেরার আগে দুজনের জুটি ছিল ১১৫ রানের। জো রুটের সঙ্গে রয় যোগ করলেন ৬২ রান। মাঝে বৃষ্টি বাগড়া বাঁধিয়েছিল একবার, সেই বিরতিটাই হয়তো কাল হলো রয়ের জন্য। ১৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছেন তিনি, ইমাদ ওয়াসিমের বলে হাসান আলিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। কিছুক্ষণ পর ফিরেছেন রুটও, দিনে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কম রান ছিল তারই- ৪০।