• আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট
  • " />

     

    দীর্ঘ এক দিনের শেষে বাংলাদেশের হতাশার নাম রহমত-আসগর

    দীর্ঘ এক দিনের শেষে বাংলাদেশের হতাশার নাম রহমত-আসগর    

    প্রথম দিনশেষে, আফগানিস্তান ১ম ইনিংস ২৭১/৫* (রহমত ১০২, আসগর ৮৮*, আফসার ৩৫*; তাইজুল ২/৭৩, নাঈম ২/৪৩)  

    পুরো স্কোরকার্ড দেখুন 
    লাইভ রিপোর্ট 


     

    রহমত শাহর ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, আসগর আফগানের দুর্দান্ত এক অপরাজিত ইনিংস, এ দুজনের সেঞ্চুরি জুটির  পর আফসার জাজাইয়ের সঙ্গে আসগরের আরেকটি বড় হতে যাওয়া জুটিতে চট্টগ্রামে ব্যাটিংয়ে দারুণ একটি দিন কাটিয়েছে আফগানিস্তান। স্পিন-সর্বস্ব বোলিং আক্রমণ নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ ৫ উইকেটের বেশি নিতে পারেনি, আসগর এগুচ্ছেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে। উইকেটে এখনও তেমন বড় টার্নের দেখা মেলেনি, মেলেনি অনিয়মিত বাউন্সও। 

    চট্টগ্রামে ছিল এ এক দীর্ঘ দিন। বৃষ্টি এসে খেলা থামিয়ে রেখেছিল প্রায় ২৫ মিনিট, এরপরও হয়েছে ৯৬ ওভার। সাদমান-মুশফিক-লিটন ছাড়া বাকি ৮ জনকেই বোলিংয়ে এনেছেন সাকিব। তাইজুল শুরুতে আফগানদের চেপে ধরেছিলেন, শেষ সেশনে নাঈমের জোড়া উইকেট আশা জুগিয়েছিল। তবে রহমত-আসগরে ভেস্তে গেছে সব, দ্বিতীয় সেশন গেছে উইকেটশূন্য। রহমত করেছেন আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। আসগর অপরাজিত আছেন ৮৮ রানে, আফসার জাজাইয়ের সঙ্গে তার জুটি অবিচ্ছিন্ন ৭৪ রানে। 

    প্রথম সেশনে ৭১ রানে ৩ উইকেট ছিল আফগানিস্তানের। রহমতের সঙ্গে আসগর এসে যোগ দিয়েছিলেন লাঞ্চের পর। সাকিবের হাত ফসকে বেরিয়ে যাওয়া হাফ-ট্র্যাকারে ছয় মেরে এর আগেই আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছিলেন রহমত। বাংলাদেশ স্পিনারদের আলগা বল তার হাত থেকে রেহাই পায়নি এরপর। তাইজুলকে বোলারস ব্যাকড্রাইভে ছয় মেরে ৪৯-রানে গেছেন, ফিফটি করতে খেলেছেন ৮৫ বল। ইনিংসের পরের ধাপে সময় নিয়েছেন আরেকটু বেশি, তবে নিয়ন্ত্রণ বেড়েছিল তার। সাকিব-তাইজুলসহ প্রায় সবার ওপরই সুযোগ বুঝে চড়াও হয়েছিলেন রহমত। 

     


    তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন আসগর আফগান, প্রথম সেশনে নিজেদের দিকে আসা চাপকে ঘুরিয়ে বাংলাদেশের ওপর ঠেলে দিয়েছেন দুজন মিলে। দ্বিতীয় সেশনটা তাই বাংলাদেশের জন্য হতাশার, মেলেনি কোনও উইকেট। আসগর রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন এলবিডব্লিউর কবল থেকে, শর্ট লেগে কঠিন সুযোগ নিতে পারেননি সাদমান, সরাসরি থ্রো হয়নি বলে রান-আউট থেকে বেঁচেছেন রহমত। উইকেটের কাছাকাছি এতটুকুই যেতে পেরেছিল বাংলাদেশ। 

    আফগানিস্তানের ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান দূরে চা-বিরতিতে গিয়েছিলেন রহমত, বিরতি থেকে ফিরে নাঈমকে কাট করে চার মেরে পূর্ণ করেছেন সেটি। তবে পরের বলেই ইনিংসে প্রথম আলগা শটটি খেলেছেন তিনি, অফস্টাম্পের বেশ বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে দিয়েছেন ক্যাচ। দুই বল পর নাঈমের স্কিড করা বলে বোল্ড হয়েছেন মোহাম্মদ নবি, প্রথম সেশনের মতো আবারও আফগানিস্তানকে চেপে ধরার সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। তবে আসগর সেটা হতে দেননি। আফসার জাজাইকে নিয়ে বাংলাদেশকে হতাশ করে গেছেন তিনি। 

    কখনও হেলমেট, কখনও ফ্লপি হ্যাট, কখনও খালি মাথা- আসগর যেন ব্যাটিং করেছেন বিভিন্ন রূপে। রহমতের সঙ্গে জুটিতে নিজের উপস্থিতি খুব বেশি জানান দিতে পারেননি, তার উইকেটের পর দায়িত্বটা নিয়েছেন নিজের কাঁধে। অধিনায়কত্ব না থাকলেও আফগানদের অনেক বড় ভরসার নাম যে তিনি, চট্টগ্রামে তার এই ইনিংসই যেন সেটি প্রমাণ করছে আরেকবার। 

    শেষদিকে অবশ্য বেশ সতর্ক ছিলেন তিনি। বৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত খেলা চালিয়ে গেছেন আম্পায়াররা, তবুও তাকে টলাতে পারেননি সাকিবরা। পুরো দিনজুড়েই বাংলাদেশী স্পিনারদের অবস্থা ছিল এমন- কিছু হতে পারে, কিন্তু হচ্ছে না আর! কখনও স্টাম্প-টু-স্টাম্পে বোলিং করে কেউ চাপ তৈরি করেছেন, তবে উইকেট নেওয়ার মতো মারণাস্ত্র ছুঁড়তে পারেননি। সাকিব অনেকটা সময় বোলিং করেছেন তাইজুলের সঙ্গে জুটি বেঁধে। নাঈম দ্রুত দুই উইকেট পেলেও আলাদা করে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পারেননি, একই অবস্থা মিরাজেরও। 

     

     

    অথচ প্রথম সেশনে তিন উইকেট নিয়ে বেশ সফল ছিল বাংলাদেশ। মিডল থেকে টার্ন করে অফ-মিডলের টপে গিয়ে লাগা বলে ইহসানউল্লাহ জানাতকে বোল্ড করে তাইজুল ইসলাম পেয়েছেন তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টে ১০০ উইকেট। ইব্রাহিম জাদরান তুলে মারা শট শেষ মুহুর্তের টার্নে আলগা হয়ে গেছে, লং-অফে মাহমুদউল্লাহ নিয়েছেন ক্যাচ। সেই মাহমুদউল্লাহই ৫ম বোলার হিসেবে এসে নিজের চতুর্থ বলেই হয়েছেন সফল। তাকে জোরের ওপর কাট করতে গিয়ে স্লিপে সৌম্যর ভাল ক্যাচে পরিণত হয়েছিলেন হাসমতউল্লাহ শাহিদি।