• অ্যাশেজ ২০১৯
  • " />

     

    রুট-বার্নসের জুটির পর হ্যাজলউডে আবারও এলোমেলো ইংল্যান্ড

    ৩য় দিনশেষে
    অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস ৪৯৭/৮ ডিক্লে. (স্মিথ ২১১, লাবুশেন ৬৭, পেইন ৫৮, স্টার্ক ৫৪*, ব্রড ৩/৯৭, লিচ ২/৮৩, ওভারটন ২/৮৫) ; ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ২০০/৫* (বার্নস ৮১, রুট ৬১, হ্যাজলউড ৪/৪৮)
    ফলো-অন আটকাতে ইংল্যান্ডের ৯৮ রান প্রয়োজন 


    প্রথম সেশন বৃষ্টির, ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ স্বপ্ন টিকে থাকার। দ্বিতীয় সেশন ররি বার্নস ও জো রুটের দারুণ এক অবিচ্ছিন্ন জুটির, ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ স্বপ্ন আরেকটু দৃঢ় হওয়ার। তৃতীয় সেশন জশ হ্যাজলউডের, তার তোপে বার্নস-রুট-রয়ের ফিরে যাওয়ার, ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ স্বপ্ন আবারও সুতোয় ঝুলতে থাকার। আলোকস্বল্পতায় খেলা শেষ হওয়ার সময় বেন স্টোকস ও জনি বেইরস্টো ক্রিজে, ফলো-অন আটকাতে এখনও ৯৮ রান প্রয়োজন ইংল্যান্ডের। চতুর্থ দিন ছয় ওভার পরই নতুন বল পাবে আবার অস্ট্রেলিয়া। 

    বৃষ্টির কারণে প্রথম সেশনে খেলা হতে পারেনি, শুরু হওয়ার পর নাইটওয়াচম্যান ক্রেইগ ওভারটন ফিরেছিলেন দ্রুতই, দিনের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলটা তার জন্য বেশিই ভাল হয়ে গিয়েছিল। হ্যাজলউডের লাইন-লেংথের সমন্বয়ে স্লিপে শুধু ক্যাচটাই দিতে পেরেছেন ওভারটন। বার্নস ও রুট এরপর খেলেছেন দারুণ, হ্যাজলউড-কামিন্সের দুর্দান্ত আক্রমণের সঙ্গে ন্যাথান লায়নকে সামলে। 

    শুরুতে বাউন্ডারি এসেছে, স্কোরবোর্ড ঘুরেছে বেশ। এরপর হ্যাজলউড-কামিন্সরা লেংথ কমিয়ে ফেলেছেন, রুট-বার্নস ঢুকে গেছেন খোলসে। মাঝে ৭ ওভারে এসেছে মাত্র ৪ রান, কামিন্সের বলে প্যাডের ওপর থেকে ক্লিপ করে চার মেরে আবার শুরু করেছিলেন রুট। শর্ট বল আর তীক্ষ্ণ টার্ন সামলে রুট-বার্নস আশা জোগাচ্ছিলেন ইংল্যান্ডকে। 

     

     

    শীঘ্রই দুজনের জুটি ছাড়িয়েছে ফিফটি। স্টার্ককে চার-দুই-চারে ফিফটি পূর্ণ করেছেন বার্নস। চা-বিরতিতে দুজন গেছেন ইংল্যান্ডকে ১২৫ রানে রেখে, রুটের রান ছিল তখন ৪৭। বিরতির পর আবার একটা পর্যায়ে দুজনকে চেপে ধরেছিলেন কামিন্স-লায়নরা, রুটের ফিফটি হয়েছে এর মাঝেই। কামিন্সকে আবার দুই চারে খোলস ছেড়ে বেড়িয়েছেন রুট, শীঘ্রই সে পার্টিতে যোগ দিয়েছেন বার্নস। 

    এর মাঝে রুটের বিপক্ষে বৃথা রিভিউ খরচ করেছে অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স আর লায়ন এরপর আবার চাপ তৈরি করেছেন বার্নসের ওপর, হ্যাজলউড এসে নিয়েছেন সেটির সুবিধা। অফস্টাম্প থেকে ঘূর্ণি সিমের বলটা বেরিয়ে যাচ্ছিল, বার্নস ডিফেন্ড করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন দ্বিতীয় স্লিপে স্মিথের হাতে। সেঞ্চুরি থেকে ১৯ রান দূরে থেমেছেন তিনি, খেলেছেন ১৮৫ বল। বার্নসের আউটে ভেঙেছে রুটের সঙ্গে ১৪১ রানের জুটি। 

    এক ওভার পর রুটকেও ফিরিয়েছেন হ্যাজলউড, এবার হুট করে ভেতরের দিকে ঢোকা বল। রুট ব্যাট নামাতে পারেননি, এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তটাও রিভিউ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখেননি। ১৬৮ বলে ৭১ রান করে ফিরেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক, ওল্ড ট্রাফোর্ডে করতালির মাঝে। 

    সেই করতালি যতোটা না তার জন্য, সেটা বেড়েছে স্টোকস মাঠে ঢোকার পর। হেডিংলি রূপকথার নায়ককে যে ইংল্যান্ডের আবার প্রয়োজন, সেটি বুঝতে পেরেছে নিশ্চিতভাবেই ওল্ড ট্রাফোর্ডের দর্শকরা। সেই প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন পাঁচে নামা রয়। নিজের রেঞ্জ থেকে তিনটি বাউন্ডারি খেলেছেন, শীঘ্রই তার দূর্বলতা আরেকবার পড়ে ফেলেছেন হ্যাজলউড। ব্যাট-প্যাডের মাঝে ফাঁক গলে ঢুকে পড়েছে হ্যাজলউডের গোলা, রয় তার নিজের টেস্ট-সামর্থ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন আরেকবার। আর রুট-বার্নসের দারুণ জুটি বিস্মৃত হয়ে গেছে ততক্ষণে, তখন দৃশ্যপটে হ্যাজলউড।