• অ্যাশেজ ২০১৯
  • " />

     

    অ্যাশেজ দেখার টাকা জমাতে প্রতিবেশীর ময়লার ব্যাগ বহন!

    অ্যাশেজের ম্যাচ মাঠে বসে দেখার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইংল্যান্ডে এসেছেন বহু অস্ট্রেলিয়ান সমর্থক। মাঠে বসে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী লড়াইটা দেখার জন্য অনেকেই হয়তো বেশ কিছু বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের মাঝে ১২ বছর বয়সী ম্যাক্স ওয়াইটের গল্প একটু ভিন্ন। ইংল্যান্ডে এসে অ্যাশেজের ম্যাচ দেখার জন্য গত চার বছর ধরে প্রতিবেশীর ময়লার বাক্স বহন করেছে এই অস্ট্রেলিয়ান কিশোর! 

    ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া যখন ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ জেতে, ম্যাক্সের বয়স তখন মাত্র আট। তখনই সে তার বাবাকে বলেছিল, ২০১৯ অ্যাশেজে ইংল্যান্ডে গিয়েই অ্যাশেজের ম্যাচ দেখতে চায় সে। ম্যাক্সের বাবা ড্যামিয়েন ওয়াইট জুড়ে দিয়েছিলেন বেশ বড়সড় একটি শর্ত। ছেলেকে বলেছিলেন, চার বছরের মাঝে যদি ম্যাক্স নিজে থেকে ১৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জমাতে পারে, তাহলেই কেবল তাকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাবেন তিনি। 

     

     

    কিন্তু আট বছর বয়সে কীভাবে এত টাকা আয় করবে ম্যাক্স? ম্যাক্সের মা তখন বের করলেন দারুণ এক উপায়। ছেলেকে বললেন, সে যেন ছুটির দিনে প্রতিবেশীদের ময়লার বাক্স বহন করে। প্রতিবার একটি বাড়ি থেকে তাকে এই কাজের জন্য দেওয়া হতো ১ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করে। ২০১৫ সাল থেকেই এই কাজটা করে আসছে ম্যাক্স। চার বছরের মাঝে বাবার দেওয়া শর্তটাও পূরণ করে ম্যাক্স, জমে যায় ১৫০০ ডলারেরও বেশি। ছেলে তার শর্ত পূরণ করেছে, বাবাও রেখেছেন তার কথা। পুরো পরিবারসহ চলে এসেছেন ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্ট দেখতে। 

    অ্যাশেজ দেখার জন্য ম্যাক্সের এমন পরিশ্রমের খবরটা পৌঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়া দলের কানেও। তাইতো কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার নিজেই ডাকিয়ে পাঠিয়েছেন ম্যাক্সকে। ম্যাক্স সেই অভিজ্ঞতার কথাই জানিয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে, ‘আমি স্টিভ ওয়াহ, জাস্টিন ল্যাঙ্গারের পাশে বসেছিলাম। সাথে নাথান লায়নও ছিল। ল্যাঙ্গার তার পরিকল্পনার খাতাও আমাকে দেখিয়েছিলেন! তার নোটসগুলো দেখে খুব ভালো লেগেছে।’ 

    ম্যাক্স দেখা করেছে তার প্রিয় দুই ক্রিকেটার স্টিভ স্মিথ ও প্যাট কামিন্সের সাথেও, ‘স্মিথ ও কামিন্স আমার সবচেয়ে প্রিয়। তাদের সাথে অনেকটা সময় কথা বলেছি ক্রিকেট নিয়ে। খুব উপভোগ করেছি পুরোটা সময়।’ 

    ওল্ড ট্রাফোর্ডে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের সময় অস্ট্রেলিয়ান পেসার জেমস প্যাটিনসন পুরো দলের অটোগ্রাফ সম্বলিত জার্সি উপহার দেন ম্যাক্সকে। ম্যাক্স নিশ্চয়ই চাইবে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জয় দেখেই দেশে ফিরতে।