• আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট
  • " />

     

    'অসম্ভব কিছুই নয়, তবে অনেক কঠিন কাজটা'

    এমন একটা দিনে সংবাদ সম্মেলনে তার আসাটা একটু চমকই ছিল। তবে সাকিব আল হাসান শুধু এলেনই না, ১৯ মিনিটে বাংলাদেশের এই টেস্ট ব্যর্থতা থেকে শুরু করে পঞ্চম দিনের সম্ভাবনা, ব্যাটসম্যানদের সীমাবদ্ধতা, ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির দৈন্যদশা, ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন- কথা বললেন আরও অনেক কিছু নিয়েই। প্যাভিলিয়নের পাঠকদের জন্য সেটা পুরোটাই তুলে দেওয়া হলো... 


    চাপটা কি একটু বেশি মনে হচ্ছে?

    হ্যাঁ, অবশ্যই, যে ধরনের ম্যাচ আমরা আশা করছিলাম তার পুরো বিপরীত। স্বাভবিকভাবেই চাপ তো থাকবেই।

     

     এমনিতে তো সংবাদ সম্মেলনে এত নিয়মিত আসেন না। মাঠে ত দায়িত্ব সব সময় নেন। আজ সংবাদ সম্মেলনে দায়িত্ব নেওয়ার জন্যই কি আপনি এলেন?

    টিমমেটদের ওপর থেকে চাপ কমানোর একটা ওয়ে, এটা বলতে পারেন। বাট মাঠের চাপ তো থাকবেই, যতদিন ক্রিকেট খেলব ততদিনই থাকবে। এটা মেনে নিতে হবে। এটা নিয়ে বেশি একটা চিন্তা করার কিছু নেই।

     

    বিসিবি সভাপতি আজ ঢাকায় বলেছেন পরিকল্পনায় ভুল। এ ব্যাপারে আপনার কী মনে হয়?

    যখন রেজাল্ট পক্ষে যাবে না, পরিকল্পনা ঠিকমতো যদি এক্সিকিউট হতো তাহলে এরকম হতো না। যেহেতু পরিকল্পনা ঠিকমতো এক্সিকিউট হয়নি, তাই এরকম হয়েছে। তখন এটাই বলা স্বাভাবিক যে পরিকল্পনায় ভুল ছিল।

    কিন্তু ব্যাটসম্যানরা কি তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পেরেছেন? বিশেষ করে মোসাদ্দেকের আউট নিয়ে কী বলবেন?

    সত্যি কথা বলতে ফার্স্ট ইনিংসে আমরা যতজন ব্যাটিং করেছি সবচেয়ে বেশি কমফোর্টেবল ওকে মনে হয়েছে, স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে। আমরা যেহেতু স্পিন বেশি স্পিন ফেস করছিলাম, কাল রাত থেকেই প্ল্যান করা হচ্ছিল যে ও ওপরের দিকে ব্যাট করলে, ফার্স্ট ইনিংসে যেভাবে ব্যাট করেছে ওভাবে করতে পারলে, বড় ইনিংস খেলারও অভিজ্ঞতা আছে… কারণ ফার্স্ট ক্লাসে বোধ হয় চারটা কি পাঁচটা ডাবল সেঞ্চুরি করেছে।  আমাদের চারশ চেজ করতে হলে এরকম কিছু প্লেয়ারদেরকে দরকার হতো যাদের বড় ইনিংস অভ্যাস আছে বা খেলে অভ্যস্ত। সেকারণেই এই প্ল্যান। এট দ্য সেইম টাইম নবী যেহেতু লেফিটদের এগেইন্সটে অনেক বেশি এফেক্টিভ হবে, সে কারণে আমাদের লেফট রাইট কম্বিনেশন করার প্ল্যান ছিল। সেকারনে ওকে প্রমোট করা হয়েছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাট করছিল ততক্ষণ খুব ভালো ব্যাটিং করেছে সত্যি কথা। এক্সিকিউট করতে পারে নাই। এটা ওর ব্যর্থতা। মেনেই নিতে হবে। বাট আমি বলব যে ওপরে না মেরে নিচে মারলে তাহলে চারটা রান হতো, ও আউটও হতো না। ওও সময় ও থাকলে সিচুয়েশন অণ্যরকম হতো। ফার্স্ট বা সেকেন্ড ইনিংসে যতক্ষণ খেলছে, কখনো মনে হয়নি স্পিনের এগেইন্সটে ও আউট হবে।

     

    সব মিলে এই টেস্টে যেভাবে ব্যাট করল বাংলাদেশ, তাতে সমস্যাটা কি মানসিক না টেকনিক্যাল?

    দুইটাই বলতে পারেন। টেকনিক্যালি সমস্যাও বলতে পারে। যেহেতু রিস্ট স্পিনার খেলি না। সেটা লেফট বা রাইট হ্যান্ডার দুইটাই আমাদের জন্য নতুন কিছু। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের অ্যাডজাস্ট করার একটা ব্যাপার থাকবে এখানে। যদিও আমরা পরিকল্পনা করেছি, বা প্রিপারেশন নিয়েছি। আমাদের যারা নেটে বোলার আছে এরকম, ওদের এনে আমরা প্র্যাকটিস করেছি। যতক্ষণ না আপনি ম্যাচ খেলছেন বা সাকসেসফুল হচ্ছেন, ততক্ষণ  ওই প্র্যাকটিসটা খুব একটা কাজে আসবে না। যখন ওটা খেলার পরে ম্যাচে সাকসেসফুল হবেন তখন ওটা কাজে আসবে। আমি বলব না কারও অ্যাপ্রোচে সমস্যা ছিল। আমি বলব এক্সিকিউশনে অনেক প্রবলেম। ওই বড় মন নিয়ে খেলার একটা প্রবলেম। আপনি এক্সিকিউট করতে না পারার একটা প্রব্লেম হচ্ছে, যখন আপনি ভয়ে ভয়ে মারতে যাবেন তখন এক্সিকিউশনে সমস্যা। সেইম লিটনেরটা যখন টি-টয়েন্টিতে খেলে তখন রিভার্স সুইপ কেন, যত শটই খেলে ওর লাগে। কিন্তু টেস্ট ম্যাচে ও এটা করতে পারেনি। এটা ওরও ব্যর্থতা, আমাদের দলের জন্যও ব্যর্থতা যে আমরা এরকম করতে পারছি না। কোচও এই কথাই বলেছে যে আমরা যেন মন খুলে খেলি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা অনেক ভয় নিয়ে খেলি, অনেক প্রেশার নিয়ে খেলি। আসলে দিন শেষে এটা ক্রিকেট ম্যাচ, অবশ্যই ইম্পর্ট্যান্ট আমাদের জন্যে। কিন্তু দুনিয়ার সব কিছুই এটা না। কিন্তু আমরা অনেক সময় এরকম ভেবে যেটা করি যে, এত বেশি প্রেশার নিয়ে ফেলি নিজেদের ওপরে  পারফর্ম করা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়। এবং যখন করতে পারি না তখন প্রেশারটা আরও বেশি পড়ে।

     

    জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিয়মিত এনসিএল বা বিসিএল খেলেন না। টেস্টে দুর্দশার এটাও কি একটা কারণ?

    আমি গত চার-পাঁচ বছর খেলিনি, কোন সমস্যা হয় নাই।

     

    অন্যরা যারা খেলেনি, তাদের ব্যাপারে কী বলবেন?

    ওদের বুঝতে হবে ওদের কি সমস্যা হচ্ছে।  এনসিএল খেললেই সমস্যা হচ্ছে নাকি না খেললে হচ্ছে। দুটোই সমস্যা থাকতে পারে। খেলাও একটা সমস্যা হতে পারে। ওখানে গেলে অনেক সহজ বোলিং অ্যাটাক পেয়ে যায় দুইশো দুইশো করে মারে। চার পাঁচটা করে দুইশ মারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন আসে চার-পাঁচ রানও করতে পারে না। দুইটা সমস্যাই থাকতে পারে। আপনার বুঝতে হবে সবার জন্য এক সমস্যা না। সবার এক মেডিসিনে কাজ হবে এটা ভাবা ভুল।

    তাহলে কী করতে হবে

    দেখুন এরকম প্লানিং বলতে হয় বিশাল প্লান। সেগুলো ঠিক করার পরে এরকম কিছু করতে হবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া অনেক লম্বা। যখন খারাপ করি এইগুলা নিয়ে অনেক কথা হয়। যখন ভাল রেজাল্ট করি এইগুলা (কথা) বন্ধ হয়ে যায়। এই বিষয়গুলো ব্যালেন্স করা জরুরী।

    আজ তো ব্যাটিং অর্ডারে বড় ওলটপালট হলো। এরকম হলে সেটা মানসিক প্রস্তুতিতে কি বাধা নয়?

     

     

    না। চারশো চেজ করতে গেলে আপনাকে অন্য কিছু করতে হবে। আমরা তো কখনো চারশো চেজ করিনি। যদি দুইশো চেজ করতাম আমাদের ব্যাটিং অর্ডার ওরকমই থাকত। যেহেতু চারশো চেজ করছিলাম আমাদের কিছু প্রস্তুতির দরকার ছিল। আমরা প্রথম ইনিংসে তো খেলেছি দুইশোই করেছি। এখান এর থেকে আর কতইবা খারাপ হতে পারে। ভালো করার ইচ্ছাতেই পরিকল্পনাগুলো করা হয়। যখন পরিকল্পনা কাজে আসে তখন বলা ওয়াও কি প্লান ছিল। যখন কাজে আসে না তখন মনে হয় প্লানিং ভুল ছিল।

     

    পঞ্চম দিনে কতদূর যাওয়া সম্ভব?

    রান কত দরকার? ২৭০... দুইজনের একশো একশো করতে হবে। একশো একশো না। একজনের ১২০ আরেকজনের ১৫০ করা লাগবে। (হাসি)।

    সম্ভব বলে কি মনে করেন?

    দুনিয়াতে কিছুই অসম্ভব নয়। দেখা যাক না কি হয়। আরেকটা আছে বৃষ্টি উপরে, ওটাও আমাদের বাঁচাতে পারে। বেশ কয়েকটা পথ আছে। এখন বাকিটা দেখা যাক।

     

    কার্ডিফের মতো কিছু কি আশা করছেন?

    কার্ডিফ ফিরতে অন্য পাশে থাকা লাগবে একজন। দুইজনেরই করা লাগবে। আমি যদি ১৭০ করি ওর অন্তত ১২০ তো করা লাগবে। তারপর আমরা জিততে পারব। কিংবা আমার ১৫০ আর ওর ১২০ করা লাগবে। অসম্ভব না কিন্তু অনেক কঠিন কাজটা।

     

    ডান-বাম কম্বিনেশনের এই চিন্তার কথা বললেন। সেটা থেকে আমরা বেরুব কবে?

    জিনিসটা যেটা ছিল ওদের একটা পেস বোলার। আর নবি এক পাশ থেকে বল করবে। পেস বোলার হয়ত হোল্ড করবে চার-পাঁচ ওভার রান না দিয়ে, বল পুরান করার জন্য। ডান-বাম হওয়াতে একটা জিনিস ভাল যে নবি দেখেন প্রথম স্পেলে কোন উইকেট পায়নি। প্রথম ইনিংসে কিন্তু প্রথম স্পেলে উইকেট পেয়েছিল। সাকসেসফুল এখানে হইনি কারণ যাদের বড় ইনিংস খেলার কথা ছিল তারা খেলতে পারেনি। পরিকল্পনায় খুব যে সমস্যা তা কিন্তু না। একটা প্লেয়ার যেকোনো জায়গায় ব্যাট করতে পারে। আপনি যদি চারশো চেজ করেন, সৌম্য আটে নেমেছে আমি মানলাম। তার তো দ্বিতীয় নতুন বলও খেলা লাগতে পারত, পারত না? সাদমানকেও ত দ্বিতিয় নতুন বল খেলতে হতে পারত। আপনি যদি চারশো চেজ করেন আপনাকে ব্যাট করতে হবে ১৩০ ওভার চোখ বন্ধ করে। ১৩০ ওভার ব্যাট করা চাট্টিখানি কথা না। আমাদের ওই প্লান ছিল সেকেন্ড নিউ বল যখন ওরা ফেস করবে তখন খেলা আমাদের হাতে থাকার মত অবস্থায় থাকবে।

    আমি তো কালকে এই আলোচনাও করেছি যে দুই ডানহাতি আমি পাঠাব কিনা। আমি মোসাদ্দেককে ওপেন করতে পাঠাতে চেয়েছিলাম। সত্যি কথা, এটা আমি এখন বললাম। সবাই মিলে এই আলোচনার পরে এই প্লান করা হয়েছে যে এভাবে যাই তাহলে আমাদের কাছে একটা সুযোগ আছে। সকাল বেলা টিম মিটিংয়ে ওটা সেট করে আমরা মাঠে এসেছি। ওই বিশ্বাসটা সবার ছিল। এমন না আমি বিশ্বাস করেছি বা কোচ বিশ্বাস করেছে। পুরো পনেরো জন এই বিশ্বাস করেছে। শুধু আমার সিদ্ধান্ত হলে মোসাদ্দেক আর লিটন ওপেন করত। যেহেতু আমার সিদ্ধান্ত পুরো ছিল না সেহেতু সাদমান গিয়েছে। এবং সাদমান খুব ভাল ব্যাট করেছে। ও যদি বড় খেলতে পারত ওইখানে আমাদের একটা জুটি হওয়ার চান্স থাকত। আরেকটি জিনিস নবি যখন আবার এসেছে আমরা যখন দুজন বাহাতি, তখন কিন্তু সাদমানের উইকেট নিয়ে নিয়েছে। আমরা ওই প্লান করেছি যে ওই প্রভাবটা তার না থাকে। তাহলেও ত একটা দিক আমরা বাঁচলাম।

     

    ৩৯৮ তাড়া করা কি সম্ভব মনে হয়েছিল নামার আগে?

    ৩০ রান পর্যন্ত মনে হয়েছিল সম্ভব। কারণ উইকেটটা এখনো খারাপ হয়নি। যথেষ্ট ভাল আছে। রিষ্ট স্পিনাররা ওদের বাড়তি সুবিধা পাবেই যেটা যেকোন ফ্লাট উইকেটেই পায় চার নম্বর বা পাঁচ নম্বর দিনে। কিন্তু উইকেটটা আনপ্লেয়েবল না। আমার মনে হয় আমরা বেটার এপ্লিকেশন কিংবা বড় মন নিয়ে যদি খেলতে পারতাম। আরও বেটার কিছু করা সম্ভব হত। আমি যেমন শুরুতে বলেছিলাম ব্যাটসম্যানরা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। উইকেট হয়ত আমরা যেমন চেয়েছিলাম তেমন পাইনি। তারমানে এই না যে আমরা ভেঙে পড়ব। এখানে আমাদের কোয়ালিটি শো করার জায়গা ছিল যেটা আমরা খুব ভালভাবে ফেল করেছি।

     

    এটাকে কি সামর্থ্যের অভাব বলবেন?

    সামর্থ্য সবার ভেতরেই আছে। আমাদের দলে যত প্লেয়ার খেলছে, একমাত্র সাদমান বাদে এমন কেউ নাই যে বড় ইনিংস খেলে নাই বা দলকে জেতানোর পেছনে বড় ভূমিকা ছিলো না কখনও। তারা যেহেতু পারে, তার মানে সামর্থ্য অবশ্যই আছে। একটা বিষয় হলো আপনার ট্যালেন্ট আছে এবং সেটা মাঠেও প্রদর্শন করা। আরেকটা হলো ট্যালেন্ট আছে কিন্তু সেটা কখনও দেখাতে না পারা। এটা খুবই সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য। কিন্তু এটাই আপনার বড় খেলোয়াড় ও ছোট খেলোয়াড়দের আলাদা করে দেয়।

     

    ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তনের বিষয়টাতে আরেকটা কথা। আপনার কি মনে হয় এটা একটা শেষ চেষ্টা নাকি পরিকল্পনা করে করা?

    দুইটাই বলতে পারেন। কারণ, নতুন বলে স্বাভাবিকভাবেই দুজন বাঁহাতি থাকলে...আমরা দেখেছি, যখনই দুইজন বাঁহাতি এসেছে, নবী ভাই বল করতে চলে এসেছেন। নবী ভাইকে আমরা অনেকদিন ধরেই চিনি, উনি বাঁহাতির বিপক্ষে অনেক কার্যকর। তাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিলো নতুন বল...আমাদের তো আসলে ৪০০ করতে গেলে টপ ফোরের কাউকে ১৫০-২০০ রান করতে হতো। তো ঐ জায়গাটায়ই আমরা কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। আমি যেটা বললাম, সেই পরিকল্পনা ভুলও হতে পারে, ঠিকও হতে পারে। মোসাদ্দেক আজকে ১০০ করে নটআউট থাকলে সবাই বলতো, ওয়াও কী দারূণ সিদ্ধান্ত। যেহেতু পারেনি, তাই বাজে সিদ্ধান্ত।

     

    আফগানিস্তানের সার্বিক পরিকল্পনা ও শরীরী ভাষা আপনার কেমন লেগেছে?

    ভালো! কিন্তু আমরা তো আসলে ওদের সেই পজিশনে আনতেই পারিনি যখন ক্যারেক্টার শো করা দরকার। যদি আনতে পারতাম, তখন আসলে বোঝা যেত যে ওদের কত ক্যারেক্টার আছে। যেহেতু ঐ পজিশনেই আনতে পারিনি, তাহলে ওদের ক্যারেক্টার কী দেখব! আমরা যদি আজকে ২ উইকেটে ২০০ রান করতে পারতাম, তখন না হয় কালকে ওদের ক্যারেক্টার, ডিটারমিনেশন আরও সব দেখতাম। যেহেতু আনতেই পারিনি, এখন এ প্রশ্নের উত্তর কী দেব।

     

    এমন ম্যাচ পার্ট অব গেম নাকি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ধাক্কা?

    ভালো একটাই জিনিস যে, ম্যাচটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্যে পড়বে না। আমাদের ক্রিকেটের জন্য, আমাদের জন্য হতাশাজনক অবশ্যই যে নতুন একটা দলের কাছে আমরা হেরে গেলাম। তবে নতুন দল মানেই যে তারা জিততে পারবে না, এমনটাও ঠিক না। তাহলে ইংল্যান্ড ২০০ বছর ধরে খেলে, আমরা ১৫-২০ বছর ধরে খেলে তাদের বিপক্ষে জিতেছি। তখন তাদের কেমন লাগার কথা? তাই বিষয়টা এমন না। অবশ্যই তাদের (আফগানিস্তান) সম্মান দিতে হবে। তারা ভালো খেলেই এমন একটা পজিশনে এসেছে যেখান থেকে তারা জিততে পারে। আমি যেটা বললাম, হয়তো আমরা আরও ভালো কিছু করতে পারতাম। তখন ওদের একটা চ্যালেঞ্জের মুখে আনতে পারতাম, টেস্ট ক্রিকেটের যে পরীক্ষা সেটা আমরা নিতে পারিনি।  এটা অবশ্যই হতাশার।

     

    ম্যাচের বাস্তব ফল এখন কী?

    বাস্তব ফল তো আমরা এই ম্যাচ হারের খুব কাছাকাছি। একমাত্র বৃষ্টি আছে আর আল্লাহ যদি স্বয়ং আমাদের দুইজন প্লেয়ারের ওপর না পড়ে  তাহলে হারার সম্ভাবনাটাই খুব বেশি। এখানেও আসলে একটা চ্যালেঞ্জ থেকে যায়। আমরা যে ৪ জন বাকি আছি, তারা যদি কিছু একটা করে দেখাতে পারি। বা কিছু করতে না পারলেও, লড়াই করার যে মানসিকতা, আমরা যে এতোদিন ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলছি, এটলিস্ট ঘরের মাঠে ভালো কিছু করেছি, তার যে একটা প্রমাণ অন্তত আমরা রেখে যেতে পারি। হয়তো হারতে পারি, তবে ঐ যে লড়াই করার যে একটা ছাপ, সেটা যেনো আমরা দেখাতে পারি।

     

     এই ম্যাচের যে হলো, তাতে সামনে এশিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে কি আপনি পেসার খেলানোর জন্য প্রস্তুতি শুরু করবেন?

    আমি যেটা ম্যাচের আগের দিনও বলেছি, পেসারদের জায়গাটা ডিজার্ভ করতে হবে তো, নাকি।  আপনি যদি দেখেন,আজকেই আমি পেসারদের পরিসংখ্যান দেখেছিলাম। আমাদের পেসারদের ইকোনমি ৪.৪১।  ওরা যদি পুরো ৯০ ওভার বোলিং করে তাহলে একদিনেই রান দেবে ৪০০।  আমরা তাহলে কিন্তু প্রথম দিনই টেস্টের বাইরে। ইকোনমি রেট যদি ২.৮ কিংবা ২.৯ থাকে এবং ওরকম স্ট্রাইক রেট থাকলে তখনই না আমরা ওদেরকে পিক করতে পারব।  আমাদের কোনো বোলার যদি আমাদের কাজেই না আসে তাকে নিয়ে লাভটা কি।  শেষ কয়েক বছরে আমাদের হোম কন্ডিশনে যেসব ম্যাচ আমরা জিতেছি কয়টা পেস বোলার কতটা উইকেট নিয়েছে, কয় ওভার বোলিং করেছে কতো ইকোনমি রেটে সেটা জানা জরুরী।  আমাদের যে নতুন পেস বোলিং কোচ আছে ও প্রতিদিন পেসারদের নিয়ে কাজ করছে।  যে পরিমাণে হার্ডওয়ার্ক করছে তাতে মনে হচ্ছে অচিরেই আমরা ভালো পেসার পেতে পারি।  একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে আপনার সব ধরনের বোলার থাকতে হবে। আপনার রিস্ট স্পিনার থাকতে হবে।  অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো ১৪০-১৫০ গতিতে বল করার একজন পেসার থাকতে হবে। একটা বোলার থাকতে হবে যে সারাদিন বোলিং এক জায়গায় করবে যেন রান না হয়। তারপর একটা  দুটা এক্স ফ্যাক্টর থাকতে পারে। যতদিন না হবে আমাদের নির্দিষ্ট প্ল্যান করে ম্যাচ জিততে হবে। যখন ওই পরিকল্পনা ঠিক না হবে ততদিন এভাবেই  যেতে হবে।

     

    উইকেট নিয়ে হতাশা আছে কোনো?

    উইকেট কেমন সেটা বুঝতে পারলে তো পরিকল্পনা অন্যরকম হতে পারত। এটা অবশ্যই হতাশার।  এটা জানা জরুরী যে আমরা যে রকম চেয়েছিলাম সেটা যে পাচ্ছি না। এটা মাঠে নামার পর জানলে  তখন কিছু করার থাকে না। আমরা যে পরিকল্পনা করে নামি, সেই ফিডব্যাকটা যদি পাই  তাহলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। অবশ্যই ওই ফিডব্যাকটা দেওয়া উচিত।