• " />

     

    সেলুলয়েডে ২০১৫ঃ বিশ্বকাপ আর বিদায়ের বছর

     

    গোলাপী ডি ভিলিয়ার্স, রক্তিম রেকর্ড!

     

    সবুজ-হলুদের বদলে সেদিন গোলাপী-সবুজ জার্সি পরে নেমেছিল প্রোটিয়ারা, স্তন ক্যান্সারের সচেতনতামূলক প্রচারণার কর্মসূচী হিসেবে। তবে রেকর্ডের খেরোখাতা বা ক্যারিবীয় বোলিং, দুটোতেই রক্তিম ছটা দিয়েছিলেন মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রী, আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স। ১১.৩ ওভার বাকি থাকতে নেমেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনারই ততক্ষণে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। একটা ক্যামিও, একটা ছোটখাট ঝড়, ভিলিয়ার্সের কাছে তো আশা করাই যায়! তবে তিনি যা করলেন, তা ছোটখাট ঝড় নয়, রীতিমত ‘টর্নেডো’! ফিফটি করলেন ১৬ বলে, সনাথ জয়াসুরিয়ার ১৮ বছরের পুরোনো রেকর্ডের ইতিও ওখানেই। সেই জয়াসুরিয়ার রেকর্ড ভেঙ্গেই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি, মাতারা হারিকেনের বছরখানেক পরই। আফ্রিদির রেকর্ড টিকেছিল প্রায় ১৭ বছর, সে রেকর্ড ভেঙ্গেছিলেন কোরি অ্যান্ডারসন। ৩৬ বলের রেকর্ডটা ডি ভিলিয়ার্স নামিয়ে আনলেন ৩১ বলে, বছরখানেকের ব্যবধানেই!

     

     

    বিশ্বকাপ

     

    ডি ভিলিয়ার্স-মরনি মরকেলের কান্না, নাকি গ্রান্ট এলিয়টের ‘সুপারম্যান’ হয়ে ওঠা! ইডেন পার্কভর্তি উত্তেজনা, নাকি কেন উইলিয়ামসনের আশ্চর্য নির্লিপ্ত সেই ছয়! ক্রিস গেইল আর মার্টিন গাপটিলের ডাবল সেঞ্চুরি, নাকি কুমার সাঙ্গাকারার টানা চারটি সেঞ্চুরি! বাংলাদেশের ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দেয়া, নাকি ‘দৈত্যবধ’-এর নেশায় মাতা আইরিশদের কোপে পড়া ক্যারিবীয়রা! নাকি সব ছাপিয়ে এমসিজিতে মাইকেল ক্লার্কের হাতে ‘পিএইচ’ আদ্যক্ষরের আর্মব্যান্ড, রেকর্ডসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে হলুদে মোড়ানো বিশ্বকাপ! ২০১৫ ছিল তো বিশ্বকাপের বছর, কিভাবে তা মনে রাখবেন, নিতান্তই আপনার ব্যাপার!

     

     

    মিস্টার ‘কেনসিসট্যান্ট!’

     

    এইতো বছরের শেষে এসেও নিউজিল্যান্ডকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন। মার্টিন ক্রো খুব করে চেয়েছিলেন, এমসিজিতে কিউইদের বিশ্বকাপ জেতার নায়ক হবেন কেন উইলিয়ামসন। তা হয়নি। তবে ক্রো আশ্বস্ত হতে পারেন, উইলিয়ামসনের পারফরম্যান্সে। এ বছর টেস্টে সবচেয়ে বেশী গড় (৯০.১৫) কিউইদের ভবিষ্যত অধিনায়কের। ওয়ানডেতে সতীর্থ মার্টিন গাপটিলের (১৪৫৯) পর সবচেয়ে বেশী রানও তাঁরই(১৩০৭)। কেন উইলিয়ামসন শুধু নতুনের কেতন ওড়াচ্ছেন না, কিউইদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আরও বেশী কিছুর।

     

     

    অবাক অধিনায়ক!

     

    বিশ্বকাপ বা তার আগে পরে ওয়ানডের নিয়মটা বড় বেশি ব্যাটসম্যান অনুকূল বানিয়ে ফেলেছিল আইসিসি। নন-পাওয়ার প্লেতে বৃত্তের বাইরে ফিল্ডার সংখ্যা, দুইদিক থেকে দুইটি নতুন বল। ভুড়ি ভুড়ি রান, দলীয় ৪০০-ই যেন হয়ে গেল নতুন ‘৩০০’! এরই মাঝে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম দেখালেন নতুন এক অধিনায়কত্ব। ব্যাটসম্যান অনুকুল সব নিয়মে আক্রমণাত্মক হতেই হবে, নাহলে উইকেট মিলবে না, আর উইকেট না মিললে রানও আটকানো যাবে না। ম্যাককালামের সরল চিন্তা ছিল এমনই! কখনো চার-পাঁচটা স্লিপ রাখছেন, কখনো ট্রেন্ট বোল্টকে দিয়ে করাচ্ছেন টানা দশ ওভার! কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পরে ব্যাটিং করে করলো ৩০.৩ ওভারে ২৫০ রান, রান রেট ৮.১৯! তবুও পরাজিত দল তারাই, এরই মাঝে যে দশটি উইকেট নেই তাদের! আক্রমণাত্মক ম্যাককালামই আবার এ বছর আইসিসির ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’ পুরস্কার জিতেছেন!


    ক্রিকেটে ‘আক্রমণ’ শব্দটার অর্থ, তাৎপর্য বুঝতে চান? ব্রেন্ডন ব্যারি ম্যাককালাম হতে পারেন আপনার উপযুক্ত শিক্ষক!

     

    বিশ্বকাপের বিশ্বায়ন কই? 

     

    এবারের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপেই অনেক রোমাঞ্চের জোগানদাতা ক্রিকেট সমাজের ‘ছোট' সদস্যরা। আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, আরব আমিরাত। তবে পরের বিশ্বকাপে নিশ্চিত নয় তাদের অংশগ্রহণ, আইসিসির পরিকল্পনায় যে পরবর্তী বিশ্বকাপ হবে দশ দলের! যদিও আগেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল আইসিসি, তবে এবার যেন নতুন করে সামনে এলো তা। আইসিসি ক্রিকেটের বিশ্বায়নের গুণকীর্তন করে, আবার তারাই সিদ্ধান্ত নেয় এমন! আইসিসি সবার অংশগ্রহণ চায়, অথচ ‘বিগ থ্রি’তেই হয়ে পড়ে সীমাবদ্ধ! ২০১৫ সালেও কি আইসিসি হয়ে উঠতে পারলো ক্রিকেটের ‘অভিভাবক’? 


    প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়!

     

    নাগপুরের ‘শয়তান’ আর বিসিসিআই

     

    চার ইনিংস মিলিয়ে কোনো ফিফটি নেই। ৪০ উইকেটের ৩৭টি নিয়েছিলেন স্পিনাররা। একদিনেই (৩য় দিন) পড়েছিল ২০ উইকেট! খেলা শেষ তিনদিনেই, ‘কম খারাপ’ ব্যাটিং করে জয়ী দলের নাম ভারত। বলা হচ্ছে একটি টেস্ট উইকেটের কথাই, বলা হচ্ছে এ বছরের কথাই! ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে সব ছাপিয়ে তাই আলোচনায় এসেছিল উইকেট, বিশেষত ওই নাগপুরের উইকেট! মাইকেল ভন টুইট করেছিলেন, নাগপুরের উইকেটটি ‘শয়তানের’! আইসিসি ক'দিন আগে তাদের রিপোর্টটা তুলে দিয়েছে বিসিসিআইয়ের হাতে। তাতে ‘শয়তান’ শব্দটা উল্লেখ না থাকলেও নাগপুরের প্রশংসা করা হয়নি অবশ্যই!

     

    ব্লক, ব্লক, ব্লক!

     

    প্রোটিয়াদের সব হারানো শেষ প্রায় তখন। সিরিজ এক ম্যাচ বাকী থাকতেই জিতেছে ভারত। আশ্বিন-জাদেজাদের ঘূর্ণিরও জবাব মেলেনি কোনো! যথারীতি ১২১ রানে শেষ দক্ষিণ আফ্রিকানদের প্রথম ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৮১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য! না, পাহাড় ডিঙানোর কোনো ইচ্ছাই পোষণ করলেন না আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা। বরং ঝড়-ঝাপটা সামলে যদি পাহাড়ের গায়েই মেলে আশ্রয়, ভাবখানা এমন। আমলা- ডি ভিলিয়ার্সরা তাই শুরু করলেন ‘ব্লক’ করা। ১১৭ বলে ৩৪, ২৪৪ বলে ২৫, ২৯৭ বলে ৪৩, ১২০ বলে ১০- দক্ষিণ আফ্রিকার টপ আর মিডল অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানের রানের খেরোখাতা! শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের রান রেট ‘১’ ছোঁয়নি, ছিল ০.৯৯। ‘ব্লক্যাথনে’-ও শেষরক্ষা হয়নি তাদের, ম্যাচ হারতে হয়েছিল ৩৩৭ রানেই!

     

    হায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

     

    ‘সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি’..., ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটে একটা সময় বোধহয় সব রঙই ছিল ‘সোনালী’! ক্যারিবীয় সমুদ্রে সে রঙ মিলিয়ে গেছে আগেই, বিবর্ণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিবর্ণতর হচ্ছে এখন কেবলই! বোর্ড-খেলোয়াড়-ম্যানেজমেন্ট, সাফল্যের চেয়ে তাদের দ্বন্দ্বের তালিকা এখন দীর্ঘ হবে সম্ভবত! অধিনায়ক বদলানো হলো, কোচ ছাঁটাই করা হলো, আবার ফিরিয়ে আনা হলো, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়ে গেল সেই তিমিরেই! চলতি অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম টেস্ট ইনিংস ও ২১২ রানে হারার পর বক্সিং ডে টেস্টের তৃতীয় দিনশেষে ৪৫৯ রানে পিছিয়ে এখন ক্যারিবীয়রা! জ্যাসন হোল্ডারের আশা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফলতা থেকে মাত্র একদিন দূরে দাঁড়িয়ে!

     

    নতুন বছরে কি মিলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই সোনালী দিনগুলির একটি!

     

    ওই নতুনের কেতন ওড়ে!

     

    জো রুট বা বেন স্টোকস। স্টিভ স্মিথ বা জশ হ্যাজলউড। মুস্তাফিজুর রহমান বা সৌম্য সরকার। কেন উইলিয়ামসন বা ট্রেন্ট বোল্ট। দীনেশ চন্ডিমাল বা ইয়াসির শাহ। ২০১৫ তে আলোকিত ছিলেন এ উঠতি তারকরা। ক্রিকেটের আগামী বছরগুলো  হয়তো চেয়ে থাকবে এঁদেরই উইলো কাঠের খন্ডের দিকে, বা হাত থেকে বের হওয়া ওই চর্মগোলকে! 

     

    আইপিএলের ভাঙ্গা সংসার আর জাগমোহন ডালমিয়া

     

    ক্রিকেটকে যদি আপনি দুটি ভাগে ভাগ করেন, আইপিএল পূর্ববর্তী আর আইপিএল পরবর্তী, অন্তত ‘অর্থনৈতিক’ভাবে, আপনাকে ভুল প্রমাণ করতে চাইবেন খুব কমজনই! আইপিএলের ক্ষমতা এতই ‘সুদূরপ্রসারী’! ললিত মোদির যুগ আইপিএলে নেই আর, নারায়ণ শ্রীনিবাসনও বিদায় হলেন এবার! বিদায় হলো আধুনিক ক্রিকেটের ‘অসম্ভব’ ক্ষমতাধর ক্রিকেটার মাহেন্দ্র সিং ধোনীর ‘চেন্নাই সুপার কিংস’-এরও! এরই মাঝে চলে গেলেন ক্রিকেটের ‘কিংবদন্তি’ প্রশাসক জাগমোহন ডালমিয়া। ডালমিয়া পরবর্তী যুগে বিসিসিআই কেমন হবে, আইপিএলের প্রভাবই বা থাকবে কতখানি, ২০১৬ কি জানে এসবের উত্তর?

     

    অ্যাশেজের অদ্ভূত রোমাঞ্চ!

     

    এজবাস্টন টেস্টে স্টুয়ার্ট ব্রডের ওই ছবিটা প্রতীকি হিসেবে নিতে পারেন পুরো অ্যাশেজেরই। দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে দৌড়াচ্ছেন ব্রড, চোখে অদ্ভূত আনন্দের এক আভা! অস্ট্রেলিয়া যে ৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পথে এগিয়ে গেছে তখন আরও একধাপ! আগের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করা অস্ট্রেলিয়া এসেছিল ‘আর্ন’টা ধরে রাখতেই। সিরিজ শুরুর আগে তো আরেকটি হোয়াইটওয়াশও দেখছিলেন অনেকেই! তা হয়নি, ৩-২ ব্যবধানে হেরে অ্যাশেজ খুইয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এই স্কোরলাইনটাও ঠিক বোঝাতে পারবে না, অস্ট্রেলিয়ার অসহায়ত্ব, যতখানি বোঝাবে ব্রডের ওই ছবিটা!

     

     

    কুক-অর্কেস্ট্রা!

     

    টালমাটাল। নাটক। চাইলে ইংলিশ ক্রিকেটকে অনেকভাবে বর্ণনা করতে পারেন বছরজুড়ে। কখনও কেভিন পিটারসেন, কখনও জাইলস ক্লার্ক, কখনও অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস বা পিটার মুরসকে ঘিরে চলেছে কতশত নাটক! বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ককে বরখাস্ত করে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়ে আসতে হয়েছে, ‘ভঙ্গুর’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সিরিজ ড্র করতে হয়েছে, ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কার কাছে হারতে হয়েছে! তবে অ্যালেস্টার কুক নামের অধিনায়ক হালটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন টেস্টে, অ্যাশেজে এসে তো সফলও হলেন! পাকিস্তানের সঙ্গে অবশ্য সিরিজ আবার হেরেছে ইংল্যান্ড, তবে কুকের ব্যাট হেসেছে ঠিকই! এ বছর টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান (১৩৬৪) তাঁর, কুকের টেস্টের সাফল্য সীমিত ওভারের ইংলিশ দলে কেউ অনূদিত করতে পারলেই হয়তো ইংল্যান্ড ক্রিকেটে স্বস্তির ‘সুবাতাস’ বইবে আরও বেশী!

     

    গোলাপী-রোমাঞ্চ!

     

    না, বছর শুরুর ডি ভিলিয়ার্সের গোলাপী পোশাকের রোমাঞ্চ নয়। এবার রোমাঞ্চের কেন্দ্রে গোলাপী কুকাবুরা! মঞ্চ অ্যাডিলেড ওভাল, টেস্ট শুরু ফিলিপ হিউজের মৃত্যুবার্ষিকীতে। এ ম্যাচ দিয়েই ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে ঢুকলো টেস্ট ক্রিকেট, তাতে অংশ নিলেন অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা! ফ্লাডলাইটের কৃত্রিম আলোর নীচে গোলাপী বলে হলো একটা আস্ত টেস্ট ম্যাচ! সিরিজের আগের দুই টেস্টের রানপ্রসবা একঘেয়েমি যেন কেটে গেল তিনদিনের রোমাঞ্চে! বছরের শেষের দিকের এই রোমাঞ্চ হয়তো টিকে থাকবে আরও অনেক বছর!

     

     

    মার্কিন মুলুকে নস্টালজিয়া!

     

    বল করছেন ওয়াসিম আকরাম, ব্যাটিংয়ে শচীন টেন্ডুলকার। কাভার আর পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রিকি পন্টিং আর জন্টি রোডস! না, টাইম মেশিনে করে সুদূর অতীতে নিয়ে যাওয়া হয়নি আপনাকে, এ বছরই তো দেখা মিললো এমন দৃশ্যের! ক্রিকেটের মহারথীরা আবার সেই চেনা ভঙ্গিতে হাজির হলেন আবার! তাও আবার সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসবল মাঠে! শেন ওয়ার্ন আর শচীন টেন্ডুলকারের উদ্যোগে এ বছরই শুরু হলো ‘ক্রিকেট অল স্টারস’, যার মূল উদ্দেশ্য ক্রিকেটের প্রচারণা।

     

    এ প্রচারণায় যদি ক্রিকেট দর্শকের সামনে আসে শৈশব কৈশোরের নায়কদের আরেকবার খেলতে দেখার সুযোগ, আপত্তি করবেনই বা কে!

     

    ফাস্ট স্টার্ক!

     

    শোয়েব আখতার বা ব্রেট লি নেই। ‘ফাস্ট’ বোলার আছেন এখনও কয়েকজন, তবে গতির ঝলক মিলে কই! মিচেল স্টার্ক যেন ফিরিয়ে আনলেন সেই পুরোনো দিন! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পার্থ টেস্টের তৃতীয় দিন রস টেলরকে যে বলটা করলেন, স্পিডোমিটারে তার মানটা দাঁড়ালো ঘন্টায় ১৬০.৪ কিলোমিটার! শন টেইট, ব্রেট লি, জেফ থমসনের পর তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ১৬০ কিলোমিটারের চূড়া স্পর্শ করলেন স্টার্ক। অবশ্য বছরশেষে খবরটা ভাল পাননি মোটেও, চোটের কারণে মিস করতে যাচ্ছেন সামনের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির আসর।

     

    হঠাৎ ড্রাগের ছোবল!

     

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ কয়েকদিন ছিল না এ ‘হুমকি’। উল্টো ‘ফিক্সিং’ এর পাপমোচন করে ফিরে আসছেন মোহাম্মদ আমীর। তবে বছরের শেষে যেন হঠাতই ছোবল মেরে বসলো সেই ড্রাগ-সর্পটা! প্রথমে শ্রীলঙ্কান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরা, পরে পাকিস্তানি লেগস্পিনার ইয়াসির শাহ্‌, দুজনই ডোপ টেস্টে ‘পজিটিভ’ প্রমাণিত হলেন। পেরেরা এখন শাস্তির অপেক্ষায়, ইয়াসির অপেক্ষা করছে দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষা করানোর জন্য। তবে ‘আপাতত’ সব ধরণের ক্রিকেট থেকেই ‘নিষিদ্ধ’ দুই ‘ডোপপাপী’।

     

    বিদায়

     

    সেই ধ্রুপদী কাভার ড্রাইভের দেখা মিলবে না আর! ছোটখাট গড়নের ওই মানুষটার সঙ্গে জমে উঠবে না আর কোনো জুটি! স্বর্ণকেশের সেই স্বপ্নসারথীর স্বপ্ন দেখার পালাও থামলো এবার! গোঁফওয়ালা সেই শেকারি বেড়ালও বাইশ গজে বল হাতে হামলে পড়বেন না, কত ব্যাটসম্যানকে একরাশ স্বস্তি উপহার দিলেন যে তিনি! চশমা পরা হ্যারি পটারের বয়সটাও পেরিয়ে গেল ক্রিকেটে! অদ্ভূত স্ট্যান্সের ওই মানুষটাকে আবার ওইভাবে দেখার আশাটা এখন কোন সুদূরের কল্পনা! কিংবা সেই ‘অনেক সম্ভাবনার অলরাউন্ডার’, চোট যাঁকে ঠিক প্রস্ফুটিত হতে দেয়নি, যিনি শেষে এসে হয়েছিলেন ‘ডিআরএস হাস্যরস’-এর জোগানদাতা!

     

    কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, মাইকেল ক্লার্ক, মিচেল জনসন, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, শিব নারায়ণ চন্দরপল বা শেন ওয়াটসন- কেউ অনুমিতভাবে আবার কেউ অকস্মাৎ, বিদায় বলে দিলেন বাইশ গজের চৌহদ্দিকে! কত ক্রিকেটদর্শকের শৈশব কৈশোরের একটা অংশ থেমে গেল! নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে হলে বোধহয় এমন ‘ত্যাগ’ও মেনে নিতে হয়!

     

    এবং বিদায়, মাইক্রোফোনের মাস্টার!

     

     

    তিনি ছিলেন ‘শুপার্ব’, ছিলেন ‘মারভেলাআআশ’! ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বক্সিং ডে টেস্ট চলছে, চ্যানেল নাইনে অনেকদিন পর ধারাভাষ্য দিতে ফিরে এলেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী, বন্ধু বিল লরি। শুধু এলেন না তিনি, আসবেনই বা কী করে! শুধু বাইশ গজের চৌহদ্দি বা ওই ধারাভাষ্যকক্ষ নয়, রিচি বেনো যে চলে গেছেন দুনিয়া ছেড়েই!

     

    ২০১৫ ক্রিকেটকে কতকিছু দিল, রিচি বেনোর মত কাউকে নিয়ে কি বিনিময়ে নিলো না অনেককিছুই!

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন