• জাতীয় ক্রিকেট লিগ
  • " />

     

    তামিমদের প্রত্যাবর্তন, বিপ টেস্ট, উইকেট : ফিরছে জাতীয় লিগ

    বলতে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট মৌসুম শুরু হয় এ টুর্নামেন্ট দিয়ে। জাতীয় ক্রিকেট লিগ শুরু হচ্ছে আবার, এর আগে এবারের আসরের কিছু আলোচিত দিক...


    প্রত্যাবর্তন

    নেট করে গেছেন, মিরপুরের একাডেমি মাঠে কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এলেন তামিম ইকবাল। কথা বলছিলেন কোচ আফতাব আহমেদের সঙ্গে। বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে অধিনায়কত্বের পর বিশ্রাম নিয়েছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে। এবার ফেরার পালা তার, ফিরছেন জাতীয় ক্রিকেট লিগ- এনসিএল দিয়েই। এ ফেরায় আরেকটি প্রত্যাবর্তন হচ্ছে তার। ২০১৫ সালে শেষ ঘরোয়া প্রথম শ্রেণিতে খেলেছিলেন তামিম, এই টুর্নামেন্টেই চট্টগ্রামের হয়ে। সেবার ৪ ম্যাচ মিলিয়ে করেছিলেন একটি সেঞ্চুরি, সঙ্গে একটি ফিফটি। তামিমকে পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত আফতাব, “কাল আমাদের ৪-৫ জনের অভিষেক হবে। তারা শুরুতেই তামিম ইকবালের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে পারবে, ব্যাপারটা দারুণ।” 

    তামিমের মতো জাতীয় লিগে ফিরছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও, চার বছর পর। মাঝে বিসিএল খেললেও এনসিএল খেলা হয়নি তার। ২০১৭ সালে এনসিএলে একটি ম্যাচ খেলা মুশফিক খেলবেন রাজশাহীর হয়ে। সে বছর একটি ম্যাচ খেলা মোস্তাফিজুর রহমানও আছেন এবার খুলনার স্কোয়াডে, চোটের কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট মিস করেছিলেন এ পেসার। যদিও প্রথম ম্যাচ খেলা হচ্ছে না তার। 

    এনসিএলে প্রথম রাউন্ডেই দ্বিতীয় স্তরের ঢাকা মেট্রো ও চট্টগ্রামে ম্যাচ আছে মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এবার প্রত্যাবর্তন হচ্ছে এ ভেন্যুরও। ২০১৫ সালে শেষ এনসিএল হয়েছিল বাংলাদেশের 'হোম অফ ক্রিকেট'-এ। এবার খেলা হচ্ছে মোট ৯টি ভেন্যুতে। 
     


     

    এবার তবে কে? 

    ‘লক্ষ্য এবার প্রথম স্তরে যাওয়া। এরপর ওই ট্রফিটা জেতা।’ 

    মুমিনুল হক ও মার্শাল আইয়ুব মিলে উন্মোচন করলেন জাতীয় লিগের ট্রফির, তবে সেটি প্রথম স্তরের। তাদের দল যথাক্রমে চট্টগ্রাম ও ঢাকা মেট্রো-- দুটিই এবার দ্বিতীয় স্তরে। মুমিনুলের কাছে তাই ‘এই শিরোপা জিততে পারবেন না, তো কী চান’ ধরনের প্রশ্ন ছুটে যাওয়ার পর খুব সরল করে সেটির উত্তর দিলেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক। ২০১৪-১৫ মৌসুমে দুই স্তর চালু হওয়ার পর থেকে প্রথম স্তরে খেলা হয়নি চট্টগ্রামের। গতবার দ্বিতীয় স্তরের দুইয়ে থাকায় প্রথম স্তরে উঠতে পারেনি ঢাকা মেট্রো। দুই দলেরই আশা- এবার দ্বিতীয় স্তরের বাধা পেরিয়ে যাবেন তারা। দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়ন দল উঠবে প্রথম স্তরে, আর প্রথম স্তরের চতুর্থ দল নেমে যাবে দ্বিতীয় স্তরে।

    প্রথম স্তরে লড়াইটা অবশ্য শিরোপা ধরে রাখার। খুলনার হ্যাটট্রিক শিরোপার ধারা গতবার ভেঙেছে রাজশাহী, জিতেছে ৬ষ্ঠ বারের মতো। জাতীয় লিগে খুলনার সর্বোচ্চ ৬ বার শিরোপার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে তারা। এ দুই দলের পর ৫ বার জেতার রেকর্ড আছে ঢাকা বিভাগের। মাঝে ২০১৪-১৫ মৌসুমে একবার শিরোপা জিতেছিল রংপুর, ২০০০-০১ মৌসুমে জিতেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ১৯৯৯-০০ মৌসুমে চট্টগ্রাম জিতেছিল শিরোপা, তবে সে টুর্নামেন্টের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা ছিল না।  

     



    পুরনো বোনাস পয়েন্ট, পুরনো ম্যাচ ফি

    ৫৯ রানে ৮ উইকেট নেই, ঢাকা মেট্রো করে দিল ইনিংস ঘোষণা। গতবার জাতীয় লিগে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচে এমন ঘটিয়েছিল মেট্রো। ভাবনায় ছিল বোনাস পয়েন্ট। সেই বোনাস পয়েন্টের পদ্ধতি আছে এবারও। এমনিতে প্রতিটি জয়ের জন্য ৮, টাইয়ের জন্য ৪, ড্র ম্যাচে ২ করে পয়েন্ট পাবে প্রতিটি দল, বোনাস পয়েন্টের সঙ্গে। প্রথম ইনিংসে ১০০ ওভারের ভেতর ২৫০ রানের ওপর প্রতিটি রানের জন্য ০.০১ করে বোনাস পয়েন্ট পাবে প্রতিটি দল, তবে প্রথম ইনিংসে লিডের জন্য থাকছে না কোনও বোনাস। বোলিংয়ে ১০০ ওভারের মাঝে প্রতিপক্ষের ৫ম, ৭ম ও ৯ম উইকেট নিতে পারলে ০.৫ করে পাওয়া যাবে। টানা জয়ের জন্যও আছে বোনাস পয়েন্ট। 

    বোনাস পয়েন্টের মতো একই আছে জাতীয় লিগের ম্যাচ-ফিও। এখানে প্রতিটি ম্যাচের জন্য একজন ক্রিকেটার পাবেন প্রথম স্তরে ৩৫ হাজার ও দ্বিতীয় স্তরে ২৫ হাজার টাকা করে। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য ৮০ হাজার টাকা করে বোনাস পাবে প্রতিটি দল। প্রথম স্তরের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ লাখ টাকা। 


    টেস্ট দলের সমস্যার সমাধান দিতে পারবে জাতীয় লিগ? 

    তামিমের ফেরার পালার সঙ্গে জাতীয় লিগে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের কিছু অপেক্ষার পালাও। আফগানিস্তান টেস্টের আগে তিন টেস্টে ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী ছিলেন সাদমান, আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ইনিংসে সৌম্য ও পরের ইনিংসে সাদমানের সঙ্গে নেমেছিলেন লিটন দাস। গত মৌসুমে সাদমান ছিলেন জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক, ৬৪.৮ গড়ে ৬৪৮ রান করেছিলেন এই বাঁহাতি। সৌম্য ছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক, ৬৭.২৮ গড়ে ৪৭১ রান ছিল তার। সাদমান-সৌম্য আছেন জাতীয় লিগের স্কোয়াডে, লিটন অবশ্য নেই। ভারত সফরের আগে ওপেনিংয়ের নড়বড়ে জায়গাটা দৃঢ় হবে বাংলাদেশের? 

    ওপেনারের চেয়েও বড় হাহাকারটা অবশ্য লেগস্পিনার নিয়ে। জুবাইর হোসেন লিখনের পর প্রথম লেগস্পিনার হিসেবে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। জুবাইর খেলবেন ঢাকায়, আর ঢাকা মেট্রোর দলে আছেন বিপ্লব। ১০ তারিখ প্রথম রাউন্ডে ম্যাচে নামলে বিপ্লবের অভিষেক হবে প্রথম শ্রেণিতে। 

    আন্তর্জাতিক অভিষেকে 'বিপ্লব' ঘটিয়েছিলেন, প্রথম শ্রেণিতে করতে পারবেন তেমন কিছু? 



    এবং বিপ টেস্ট, সঙ্গে উইকেটের ধরন...

    বিপ টেস্ট। এবার জাতীয় লিগের আগে ছিল বেশ আলোচনায়। ক্রিকেটারদের ফিটনেসের এই টেস্টে ন্যূনতম ১১ নির্ধারণ করে দিয়েছিল এবার বিসিবি, প্রথম দফা সে টেস্টে আটকে গিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। শুরুতে বেশ কড়াকড়ি থাকলেও এরপর আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুলদের মতো সিনিয়র কয়েকজন ক্রিকেটারদের জন্য সেই সীমা শিথিল করেছে বিসিবি।  

    নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছিলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের সংস্কৃতি বদলানোর মনোভাব নিয়েই ফিটনেসের দিকে নজর দিয়েছে বিসিবি। ফিটনেসের মতো নজর আছে উইকেটের দিকেও। 

    কদিন আগে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে পেস-সহায়ক, স্পিন-সহায়ক, ব্যাটিং-সহায়ক-- তিন ধরনের উইকেটই চান তিনি। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে জাতীয় লিগে উইকেটের ধরন বদলায় কিনা, দেখার বিষয় সেটিই।

    প্রথম রাউন্ডে মিরপুরে ঢাকা মেট্রো ও চট্টগ্রামের ম্যাচে খেলবেন টেস্ট দলের নিয়মিত তিনজন-- তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ।