• বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />

     

    কিক অফের আগে : সতর্ক বাংলাদেশের ভারত পরীক্ষা

    কবে, কখন
    ভারত-বাংলাদেশ 
    ১৫ অক্টোবর, রাত ৮টা 
    বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন
    বিশ্বকাপ ও এশিয় কাপ বাছাই, দ্বিতীয় পর্ব 
    গ্রুপ 'ই'


    বাংলাদেশ কলকাতায় পৌঁছেছে ভারতেরও আগে। দেশে থেকে আর নিজেদের ওপর উটকো ঝামেলা বাড়াতে চায়নি বাংলাদেশ। লক্ষ্য একটাই,  কাতার ম্যাচের ভালো ফর্মটা ধরে রাখা। সেটাই লক্ষ্য।  

    বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে এখনও জয় তো দূরে থাক গোলও পায়নি বাংলাদেশ। ‘ই’ গ্রুপে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে তলানীর দল  বাংলাদেশ, নিচ থেকে ওপরের দিকে উঠলে সবার আগে আফগানিস্তান। এরপর ভারত। সেখানেও দূরত্ব ৮৭ ধাপের। 

    যে ভারতকে হারিয়ে সাফ জয়ের পথে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই ভারত আর এখনকার ভারতের ভেতর ফারাকটা আরও বেশি। ভারতের ফুটবল তর তর করে উঠে গেছে এরপর। আর বাংলাদেশ শুধু নিচেই নেমেছে। বাংলাদেশ তাই এই ম্যাচে ফেবারিট নয় পরিষ্কার ব্যবধানে। 

    বছরের শুরুদিকে এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্ব পেরুতে না পেরে বরখাস্ত হয়েছেন কোচ। ফুটবলের কাছে ভারতের প্রত্যাশার কতোখানি উঁচুতে পৌঁছে গেছে সেটার একটা উদাহরণ মাত্র এই ঘটনা। এরপর ভারতের ডাগ আউটে এসেছেন ক্রোয়াট কোচ ইগর স্টিমাচ। যিনি এক সময় ছিলেন ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের কোচও। দুই কোচের পার্থক্যটাও অনেক। 

    ইগর স্টিমাচ অবশ্য বাংলাদেশকে খাটো করে দেখছেন না, সে সুযোগও নেই। জেমি ডের প্রোফাইল বা দল কোনোটাই উঁচু মানের না। কিন্তু গত এক বছরে বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফটাও অজানা নয় ভারতের কাছে। বাংলাদেশকে নিয়ে এখন সতর্ক থাকতেই হবে। 

    ডের বাংলাদেশ আরও বেশি সচেতন। দলের দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশ কোচ রক্ষণে হাত দিয়েছেন আগে। একগাদা তরুণদের সুযোগ দিয়েছেন। কাতারের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও বাংলাদেশের একাদশে ছিল ৬ জন অনুর্ধ্ব-২৩ ফুটবলার। রক্ষণ গোছালো হয়েছে। সেটা পুঁজি করে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে একের পর এক। গত ১৩ ম্যাচে ৭টিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। 

    স্টিমাচের অধীনে ভারত খেলছে পজেশন ধরে রেখে পাসিং ফুটবল। তাতে ‘সুন্দর’ ফুটবলের দেখা মেলায় সমর্থকেরাও খুশি। আক্রমণে এখন অনেক মনোযোগী দল। সুনীল ছেত্রি তো আছেনই, তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন উদান্তা সিং ও আশিক কুরনিয়ান। আক্রমণে ভারতের ত্রয়ীর ওপর আলাদা নজর তাই রাখতেই হচ্ছে বাংলাদেশকে। 

    খেলাটা তাই একই ধাঁচে গড়ানোর কথা। ভারতের পায়ে বল, বাংলাদেশ রক্ষণে ব্যস্ত। রক্ষণ থেকে হুট-হাট বাংলাদেশের আক্রমণ। প্রতি আক্রমণ ছাড়াও লং থ্রোও বাংলাদেশের ভরসা। যদিও দক্ষিণ এশিয়ার দল হওয়ায় ভারতের রক্ষণের লং থ্রো ক্লিয়ার করার দক্ষতা ভালোই আছে।  


    আরও পড়ুনঃ জামাল ভূঁইয়া বলছেন বাংলাদেশ নয় চাপে থাকবে ভারত


    ভারত হুট করেই রক্ষণ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে যদিও। দলের রক্ষণের মূল স্তম্ভ সান্ধেশ জিনঘান এসিএল ইনজুরিতে পড়েছেন। তার খেলা হচ্ছে না তাই। যদিও রক্ষণের চেয়ে কাতার ও ওমানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ভারতের কাজে  লেগেছে বেশি গুরপ্রিত সিংয়ের দুর্দান্ত গোলকিপিং। বিশেষ করে কাতার ম্যাচে দুর্দান্ত কিছু সেভ করে প্রায় একাই তিনি এক পয়েন্ট এনে দিয়েছিলেন ভারতকে। রক্ষণ পেরুলেও তাই আরও একধাপ বেশি যেতে হবে বাংলাদেশ ফরোয়ার্ডদের। 

    চোট যতখানি ভারতের ক্ষতি করেছে এর চেয়ে বেশি বিপদে ফেলেছে বাংলাদেশকে। আতিকুর রহমান ফাহাদ, মাশুক মিয়া জনি, তপু বর্মনরা অনেকদিন ধরেই নেই ইনজুরির কারণে। নতুন করে টুটুল হোসেন বাদশাও পড়েছিলেন। কাতারের বিপক্ষে খেলা হয়নি তার। এ ম্যাচে জন্য বিবেচনায় রাখা হয়েছে তাকে। তবে ফিরলেও অভিজ্ঞতার বলে  ভারতের বিপক্ষে একাদশে ফেরাটা কঠিন তার জন্য। রিয়াদুল হাসান ও ইয়াসিন খানের রক্ষণ জুটি জমেছে বেশ। রিয়াদুল অভিজ্ঞতা দুই ম্যাচের হলেও কাতারের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে রেখেছেন। একাদশ তাই অপরিপর্তিতই থাকতে পারে। 

    দাবিটা জানিয়ে রেখেছিলেন মাহবুবুর রহমান সুফিলও। কাতারের বিপক্ষে বদলি নেমে দারুণ দুইটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন গোলের। তবে আক্রমণেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কমই। 

    সম্ভাব্য একাদশ 
    বাংলাদেশ 

    আশরাফুল ইসলাম রানা, রায়হান হাসান, ইয়াসিন খান, রিয়াদুল হাসান, রহতমতুল্লাহ, জামাল ভুঁইয়া, সোহেল রানা, বিপলু আহমেদ, নাবিব নেওয়াজ জীবন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, স্বাদ উদ্দিন 

    হেড টু হেড 
    মোট ৩২ বারের দেখায় বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে জিততে পেরেছে মাত্র ৫ বার। ড্র ১০ ম্যাচ, বাকি ১৭ বার জিতেছে ভারত। বাংলাদেশের শেষ জয় এই শতকেও নয়, ১৯৯৯ সালে। সাফে সবশেষ দুই দলের দেখা হয়েছিল ২০১৩ সালে। সেই ম্যাচ শেষ হয়েছিল ড্রয়ে। আর সবমিলিয়ে শেষবার এই দুই দল খেলেছে একটি প্রীতি ম্যাচ। তাও ২০১৪ সালে। ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল সেই ম্যাচ।