• জাতীয় ক্রিকেট লিগ
  • " />

     

    ইফরানের প্রথম ৫ উইকেট, পিনাকের প্রথম সেঞ্চুরি

    তিন দিন হয়ে গেছে, তবে রাজশাহীতে বরিশাল আর ঢাকা মেট্রোর ম্যাচ আজও গড়ায়নি। জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ডের তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে আছে খুলনা ও রংপুর। এর মধ্যে চট্টগ্রামের পিনাক ঘোষ ও ইফরান হোসেন ব্যাটে বলে ছিলেন উজ্জ্বল

                                                  *****

    রাজশাহী-রংপুর

    তৃতীয় দিন শেষে

    রাজশাহী ২০১ এবং ৭৬ ওভারে ১২৯/৬

    রংপুর ২৭৪


    অদ্ভুত একটা দিনই গেল কক্সবাজারে। প্রায় সারাদিন আজ ব্যাট করেছে রাজশাহী, খেলেছেও ৭৬ ওভারের মতো। কিন্তু রান উঠেছে মাত্র ১২৯, সেটা করতে গিয়েই হারিয়ে ফেলেছে ৬ উইকেট।

    কাল অপরাজিত থেকে শুরু করেছিলেন নাসির হোসেন ও ধীমান ঘোষ। আজ সকালে বেশিক্ষণ টেকেননি নাসির, আউট হয়ে গেছেন ৬২ রানে। এরপর সানজামুলের স্পিন বিষে নীল হয়েছে রংপুর। একে একে তুলে নিয়েছেন সাজিদুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলামকে। মধ্যে ধীমান ঘোষকে আউট করেছেন মুক্তার আলী। ২৭৪ রানে অলআউট হয়ে ৭৩ রানের লিড নিয়েছে রংপুর।

    ব্যাট করতে নেমে ৬ ওভারের ভেতরেই সাব্বির হোসেন ও মিজানুর রহমানকে হারিয়ে ফেলে রাজশাহী। তখন রান ছিল ৩২, এরপর থেকেই সবাই ঢুকে যায় খোলসে। জুনাইদ সিদ্দিকী ও শাখির হোশেন তৃতীয় উইকেটে যোগ করেছেন ৬৭ রান, সেজন্য তাদের খেলতে হয়েছে ৪২.২ ওভার। প্রথম রান পেতে ৫৮ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে শাখিরকে, শেষ পর্যন্ত ১৩৪ বলে করেছেন ২৯ রান। আর জুনাইদের ৩৪ রান করার জন্য খেলতে হয়েছে ১২৩ বল। মুক্তার দিন শেষে ৭৫ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন। দিন শেষে ৪ উইকেট হাতে রেখে তাদের লিড হয়েছে ৫৬ রানের, পরাজয় এড়াতে এখনও অনেক কিছু করতে হবে তাদের

                                                     *******

     

    ঢাকা বিভাগ-খুলনা

    ৩য় দিন শেষে

    খুলনা  ৩৭১ এবং ৪৪ ওভারে ১৪৫/২

    ঢাকা ৩১৬ অলআউট


    ভালো একটা অবস্থানেই দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ঢাকা বিভাগ, লিডের স্বপ্নও উঁকি দিচ্ছিল। অপরাজিত ছিলেন দুই ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান ও রকিবুল হাসান। কিন্ত তৃতীয় দিনে এসে সেই জায়গাটা খুইয়েছে  তারা। দিন শেষে খুলনা এগিয়ে আছে ২০০ রানে, হাতে ৮ উইকেট। 

    ৪১ রান নিয়ে শুরু করে সকালে ফিফটি পেয়েছেন ফর্মে থাকা সাইফ, অন্য পাশে রকিবুলও পেয়েছেন ফিফটি। রকিবুল টেকেননি বেশিক্ষণ, রাজ্জাকের বলে আউট হয়ে গেছেন ৫৬ রানে। সাইফ অবশ্য সেঞ্চুরির দিকে এগুচ্ছিলেন, শেষ পর্যন্ত ৭২ রান করে হালিমের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন। সেখান থেকেই শুরু ধসের, তিন ওভার পর ৫ রানে ফিরে গেছেন শুভাগত হোম।

    এরপর নাদিফ ও তাইবুর যোগ করেছিলেন ৩৫ রান। তাইবুর ফিরেছেন ৩১ রানে, ৩১০ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়েছে ঢাকা। এরপরেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে তারা। মাত্র ৬ রানের মধ্যে হারিয়েছে শেষ ৫ উইকেট। চার উইকেট নিয়েছেন মাহেদী আর রাজ্জাক নিয়েছেন তিনই। ৩১৬ রানেই অলআউট হয়ে গেছে ঢাকা।

    এরপর ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই আউট হয়ে যান খুলনা ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি। তবে এনামুল হক বিজয় ও ইমরান উজ্জামান দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেছেন ১০৬ রান। ৬৬ রানে ইমরান আউট হলেও বিজয় অপরাজিত ছিলেন ৬১ রান। ১৬ রান অন্যপাশে সঙ্গী তুষার ইমরান।

                                                *****

    সিলেট-চট্টগ্রাম

    ৩য় দিন শেষে

    সিলেট ১৬৩ অলআউট

    চট্টগ্রাম ৩৩ ওভারে ১৯১/৬


    প্রথম দুই দিন ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। মাঠে খেলা গড়াতেই দ্বিতীয় স্তরে সিলেট-চট্টগ্রাম ম্যাচে ঘটনাবহুল একটা দিন গেল। চট্টগ্রামের ইফরান হোসেন পেলেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট। আর পিনাক ঘোষ প্রথমবারের মতো পেলেন সেঞ্চুরি, সেটিও ৮২ বলে। দিন শেষে চট্টগ্রাম ৬ উইকেট হারালেও তুলে নিয়েছে ১৯১ রান। দুই দিনের ম্যাচেও ফল হয়ে যাওয়াটা এখন অসম্ভব নয়।

     

    ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি সিলেটের, ১০০ রান তুলে ফেলেছিল ২ উইকেটে। জাকির ২১ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পরেই ধস শুরু সিলেটের। এর মধ্যে কাপালি ও জাকিরকে আউট করে সিলেটকে মূল ধাক্কা দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। এর পরেই দৃশ্যপটে ইফরান, সিলেটের শেষ ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন একাই। শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে গেছে সিলেট, শেষ ৬৩ রানে হারিয়েছে ৮ উইকেট।

    ব্যাট করতে নেমে পিনাক ঘোষ ব্যাট করেছেন ওয়ানডের মতোই। ৪৪ বলে পেয়েছেন ফিফটি, ৮২ বলে সেঞ্চুরি পেয়েছেন অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সাবেক এই ওপেনার। এর মধ্যেই অবশ্য নিয়মিত উইকেট হারিয়েছে চট্টগ্রাম, সেজন্য খুব একটা স্বস্তিতেও নেই তারা। ৪ উইকেট হাতে রেখে ৩৩ রানের লিড নিয়েছে। এখনও ড্র সম্ভাব্য ফল হলেও শেষ দিনে নাটকীয় কিছু হতেই পারে।