• বাংলাদেশের ভারত সফর
  • " />

     

    'কঠিনতম সময়' পেরিয়ে যেতে যে জয় 'প্রয়োজন' ছিল বাংলাদেশের

    বলটা যেখানে গেছে, সেখানে ফিল্ডার নেই কোনও। একদিক থেকে ছুটতে শুরু করলেন উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। আরেকদিক থেকে বোলার মাহমুদউল্লাহ। কিছুদূর গিয়ে মুশফিক দেখলেন, বলটা আদতে তার নাগালের বাইরে, তার আগে মাহমুদউল্লাহ পৌঁছাবেন সেখানে। উলটো ছুট লাগালেন তিনি তাই। 

    যাওয়ার সময় ডানহাতের গ্লাভসটা খুলে ফেলেছিলেন থ্রো করবেন বলে, ফেরার পথে সেটি সরিয়ে দিলেন- মাহমুদউল্লাহর থ্রো যদি তাতে আটকে যায়! উইকেটের পেছনে এরপর অবস্থান নিলেন, মাহমুদউল্লাহর থ্রো ধরে স্টাম্প ভাঙতে তাকে শুয়ে পড়তে হলো। এতকিছু হলো ৬-৭ সেকেন্ডের মাঝে। এতকিছুর ফল- থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান রান-আউট। দিল্লীতে ম্যাচ ঘুরে যাওয়া আরেকটি মুহুর্ত ছিল সেটি। 

    বাংলাদেশ ক্রিকেট গত দুই সপ্তাহখানেক সময় ধরে একের পর এক এমন ঘটনা দেখেছে। একটা করে ঘটনা নাড়িয়ে দিয়ে গেছে, এলোমেলো করেছে অনেক কিছু। আবার শুনিয়েছে আশাবাদ। ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে তিনদিন চলেছে নাটক, এরপর সঙ্কটের আপাত সমাধান হয়েছে ভেবে ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরেছেন। তামিম ইকবাল নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আর দেশ ছাড়ার একদিনেরও কম সময় আগে মুশফিকরা শুনেছেন- ভারত সফরে তারা পাচ্ছেন না তাদের অধিনায়ককেই

    দিল্লীতে গিয়েও স্বস্তি মেলেনি, সেখানে জুটে বসেছে বায়ুদূষণ। এতকিছুর পর প্রতিপক্ষ যখন ভারত, তখন একটা দলের চাঙা হয়ে উঠতে টনিক প্রয়োজন ভাল রকমের কোনও। ভারতের বিপক্ষে এই জয়টা দলে হঠাৎ ঝড়ের পর একটু প্রশান্তি বয়ে দেবে বলেই বিশ্বাস করেন এ ম্যাচের নায়ক মুশফিকুর রহিম। শেষ ২-৩ সপ্তাহ তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে কঠিন সময়’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, এমন জয় প্রয়োজন ছিল তাদের। 
     


    দিল্লীতে জয়ের উল্লাস মুশফিকের/রতন গোমেজ


    “সম্ভবত আমার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে গত ২-৩ সপ্তাহ সবচেয়ে কঠিন ছিল। বাংলাদেশ ছাড়ার আগে বলেছিলাম, সব ঠিক পথে ফিরে আসতে পারে যদি আমরা কিছু ম্যাচ জিততে পারি, অথবা ভাল খেলতে পারি। তাহলেই আমাদের দলে, আমাদের জাতির মুখে হাসি ফিরে আসতে পারে, আমরা একটু স্থির হতে পারি। আমরা সেটি করেছি আল্লাহর রহমতে। আশা করি ইনশাআল্লাহ সেটি করতে থাকব”, জয়ের পর বলেছেন মুশফিক। 

    শেষ কয়েকদিনের ঘটনাবলিতে জয়ের জন্য বাড়তি তাড়না অনুভব করেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মুশফিক একটু কৌতুক করে হাসতে হাসতে বলেছেন, “তাহলে কি প্রত্যেক সপ্তাহেই এমন করব নাকি, যাতে জিততে পারি?”

    আদতে জয়টা তাদের দরকার ছিল সব ভুলে আবার ক্রিকেটে ফেরার একটা মাধ্যম হিসেবে, “না না, এরকম পরিস্থিতি কেউই চায় না। সেটা ক্রিকেটে হোক বা পরিবারে হোক। তবে (এসব থেকে) ফিরে আসার একটাই উপায় ছিল, একটা জয় বা একটা লড়াইয়ের স্পৃহা, যেটির জন্য কিনা আমাদের দেশের মানুষ সবসময়ই আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমাদের ভাবনা ছিল, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা।” 

    ভারতের বিপক্ষে মুশফিকরা খেলা শুরু করেছেন নিজেদের আন্ডারডগ ভেবে, “এই ম্যাচে বা সিরিজে হারানোর কিছু নেই। এ কারণেই আমরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার সাহস পেয়েছি।”

    সেই সাহস করার আগে বাংলাদেশের সঙ্গে সাকিব-তামিমের মতো পরীক্ষিত পারফর্মাররা ছিলেন না। তবে দিল্লীর ম্যাচ মুশফিককে আবার নতুন করে আশা জুগিয়েছে, “সাকিবের সঙ্গে তামিমও অনেক বড় অংশ (আমাদের দলে)। তাদেরকে মিস করেছি অবশ্যই। তবে এটা দারুণ লক্ষণ, তাদেরকে ছাড়া বাংলাদেশ জিততে পারে। আমি থাকি বা না থাকি, রিয়াদ ভাই থাকুন বা না থাকুন- আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি বাংলাদেশ দল এগিয়ে যাবে। আগেও এ বিশ্বাদ ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।” 

    মাঝের দুই-তিন সপ্তাহে হয়তো মুশফিক এই বিশ্বাসটার কথা খুব একটা ভাবার সময় পাননি। দিল্লীর জয় আবার ‘ট্র্যাকে’ ফিরিয়েছে তাকে। সঙ্গে হয়তো বাংলাদেশ দলকেও।