• সাকিবের নিষেধাজ্ঞা
  • " />

     

    ধর্মঘট থেকে সাকিবের নিষেধাজ্ঞা : বাংলাদেশ ক্রিকেটের নাটকীয় এক সপ্তাহ

    ক্রিকেটারদের ঘর্মঘট দিয়ে 'শুরু', সাকিবের নিষেধাজ্ঞার পর জাতীয় দলের ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়া দিয়ে আপাতত 'শেষ'। বাংলাদেশ ক্রিকেট দেখেছে নাটকীয় এক সপ্তাহ। যে সপ্তাহ প্যাভিলিয়ন দেখেছে সামনাসামনি। সেই নাটকীয় এক সপ্তাহের টাইমলাইন...


    ২১ অক্টোবর, সোমবার 

    দুপুরে হুট করেই সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন ক্রিকেটাররা, সে সম্মেলন থেকে আসে ১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন ক্রিকেটাররা। মূল ভূমিকায় ছিলেন সাকিব আল হাসান। হুমকির মুখে পড়ে যায় জাতীয় দলের ভারত সফর ও জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ড।

    ২২ অক্টোবর, মঙ্গলবার

    আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবি। প্রায় ঘন্টাখানেকের ওপর চলা সে সম্মেলনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ‘বিস্মিত’ বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। এরপর হয় ক্রিকেটারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ, কোয়াবের সংবাদ সম্মেলন। ক্রিকেটারদের দাবির এক নম্বরে ছিল কোয়াবের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিসহ পুরো কমিটির পদত্যাগ। তবে কোয়াব নেতারা জানান, পদত্যাগ করবেন না তারা। 

    ২৩ অক্টোবর, বুধবার 

    ক্রিকেটারদের অপেক্ষায় বিসিবিতে বোর্ড প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য পরিচালকরা। এরই মাঝে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসেন নাজমুল ও বোর্ড পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয়। ক্রিকেটারদের জন্য আলোচনার দরজা খোলা রাখে বিসিবি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলশানের এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ক্রিকেটাররা। সেখানে তাদের হয়ে দাবি উত্থাপন করেন একজন আইনজীবী, আগের ১১ দফার সঙ্গে এবার যোগ করা হয় আরও দুই দফা। সংবাদ সম্মেলন শেষে আবার আলোচনায় বসেন ক্রিকেটাররা, এরপর রওনা দেন বিসিবির উদ্দেশে। 

    দুই ঘন্টার মিটিং শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সাকিব। বিসিবি আশ্বস্ত করে ক্রিকেটারদের। জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ড পিছিয়ে যায়, ভারত সফরের কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরুর দিন ঘোষণা করা হয় নতুন করে। রাত ১২টার দিকে মিরপুর ছেড়ে যাওয়া শুরু করেন ক্রিকেটাররা। শেষ হয় নাটকীয় তিন দিনের, অন্তত তখন মনে হয়েছিল তেমনই। 

    ২৫ অক্টোবর, শুক্রবার

    শুরু হয় জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। সেখানে অনুপস্থিত থাকেন সাকিব আল হাসান। তামিম ইকবাল মাঠে এলেও যোগ দেননি অনুশীলনে, ব্যক্তিগত কারণে ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এই ওপেনারের। তবে সাকিবের অনুপস্থিতি নিয়ে দৃঢ় কিছু জানাতে পারেনি বিসিবি। 

    ২৬ অক্টোবর, শনিবার 

    অনুশীলনে যোগ দেন সাকিব। এর আগেই টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনের সঙ্গে তার চুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খোলেন নাজমুল। তিনি বলেন, সাকিবের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিসিবি। 

    এদিন শুরু হয় জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ড। 

    ২৭ অক্টোবর, রবিবার

    ভারত সফরের আগে প্রথম টি-টোয়েন্টি প্রস্তুতি ম্যাচ। একটি একাদশে নাম থাকলেও খেলেননি সাকিব। জানা যায়, পরেরটিও খেলবেন না তিনি। কোচের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন অসুস্থতার কথা বলে। তবে গুঞ্জন ওঠে, ভারত সফরে যাবেন না তিনি। ইডেন গার্ডেনসে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায় বিসিবি। 

    ২৮ অক্টোবর, সোমবার 

    আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ, আবার নেই সাকিব। বাংলাদেশ অধিনায়ক ভারত সফরে যাবেন কিনা, সে ব্যাপারে পরদিন নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। ভারত সফর বানচালের ষড়যন্ত্র ছিল বলে এক সাক্ষাতকারে দাবি করেন নাজমুল। 

    এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় লিগে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিসিবি। 

    ২৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার 

    দেশের জাতীয় এক দৈনিক বোমা ফাটায়-- জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সাকিব। দিনভর নাটকের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিডিয়া রিলিজে নিশ্চিত করে আইসিসি-- এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকান্ড থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছেন সাকিব। 

    বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ও হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো জানান, দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে বিসিসিআইয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন তারা। 

    রাত ৮টার দিকে বিসিবিতে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিংয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাকিব পড়ে শোনান বিবৃতি। বক্তব্য দেন নাজমুলও। 

    সাকিব বিসিবি ছাড়ার আগেই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে যথাক্রমে মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহকে নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করে বিসিবি। ঘোষণা করা হয় টেস্ট দলও। 

    সাড়ে আটটার দিকে বিসিবি ছেড়ে যান সাকিব, এক বছরের জন্য অনেক কিছু হারিয়ে। 

    রাতে এমসিসির ক্রিকেট কমিটির সদস্যপদ ছেড়ে দেন সাকিব। 

    ৩০ অক্টোবর, বুধবার 

    দুপুরে ভারতের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ে নতুন আঙ্গিকের বাংলাদেশ দল। যাওয়ার আগে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা বলে যান, সাকিবকে ছাড়া বড় এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন তারা। অবশ্য শুধু ভারত সফর নয়, অন্তত এক বছরে সাকিব ছাড়া আরও অনেক চ্যালেঞ্জেরই মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। সাকিবের এই ঘটনা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে মাঠের বাইরের ক্রিকেটকেও।