• বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ধর্মঘট
  • " />

     

    আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটারদের বেতন-ভাতা ও আনুষাঙ্গিক সুবিধা বাড়ালো বিসিবি

    কদিন আগে ক্রিকেটারদের বিসিবির কাছে যে ১৩ দফা দাবি ছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো। এর পরেই বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি সহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সুবিধা বাড়ানো হবে। সেটাই আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বিসিবি।

    ক্রিকেটারদের প্রথম দিনের দাবির মধ্যে জোর দেওয়া হয়েছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের প্রাপ্য সুবিধা নিয়ে। বিশেষ করে বাসে করে এক ভেন্যু থেকে অন্য ভেন্যুতে যাওয়া, স্থানীয় ভেন্যুর আবাসিক হোটেলে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকা, দৈনিক ভাতার অপ্রতুলতা- এসব নিয়ে কথা বলেছিলেন সাকিব আল হাসান নিজেই। এর আগে প্রথম শ্রেণির প্রথম স্তরের ক্রিকেটাররা ম্যাচপ্রতি পেতেন ৩৫ হাজার টাকা, আর দ্বিতীয় স্তরের ক্রিকেটাররা পেতেন ২৫ হাজার টাকা। প্রথম স্তরের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে সেই ভাতা বেড়ে হচ্ছে ৬০ হাজার টাকা, আর দ্বিতীয় স্তরের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে সেটা বেড়ে হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। এই মুহূর্তে জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ড চললেও প্রথম রাউন্ড থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

    আগে ভ্রমণ ভাতা হিসেবে এক ভেন্যু থেকে অন্য ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য দেওয়া হতো আড়াই হাজার টাকা। এই টাকায় বিমানে যাতায়াত সম্ভব না হওয়ায় বাসে বা ট্রেনেই যেতে হতো। চার দিনের ম্যাচ খেলার পর এভাবে যাতায়াত ক্লান্তিকর বলে অভিযোগ করেছিলেন অনেক ক্রিকেটারদের। সাকিবদের দাবি দাওয়ার অন্যতম ছিল অন্তত বিমানে ভ্রমণ যাতে নিশ্চিত করা হয়। সেটা করেছে বিসিবি। আর বিমান সুবিধা না থাকলে যাতায়াতে সাড়ে তিন হাজার টাকা বরাদ্দ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দৈনিক ভাতাও দেড় হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে হোটেলের খরচও ৮০ ভাগ এবং ম্যাচের সময় খাবারের সময় ৮৫ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ভেন্যু থেকে স্টেডিয়ামে যাওয়ার সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে বিসিবির এই উদ্যোগের প্রশংসা করে ক্রিকেটারদের ১৩ দফা দাবির বাকিগুলি বাস্তবায়নেরও আশা করেছেন দুই সিনিয়র ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক ও শাহরিয়ার নাফীস। রাজ্জাক এই পদক্ষেপকে দেখছেন ইতিবাচক হিসেবে, “তারা আমাদের বেতন দ্বিগুণ করে দিয়েছে, সেটি মোটেই খারাপ না। আমার মনে হয়, বিসিবি আমাদের সব দাবি মেনে নিতে কাজ করে যাবে।” 

    নাফীসও এটিকে দেখছেন অনেক কিছুর শুরু হিসেবেই, “আমার মনে হয় এটা ভাল একটা শুরু। বিসিবি আমাদের অভিভাবক। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে পরের ধাপে নিয়ে যেতে আমরা যারা ক্রিকেটার তাদের ও বিসিবির একসঙ্গে কাজ করে যাওয়া উচিৎ।” 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন