• বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ধর্মঘট
  • " />

     

    ক্রিকেটে তিন দিনের অচলায়তন: যেভাবে শুরু ও শেষ

    ২১ অক্টোবর, সোমবার

    দুপুর ১টা

    হঠাৎ করেই ক্রিকেটাররা জানালেন, তারা মিরপুর একাডেমিতে একটা জরুরি সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছেন। গুঞ্জন, ধর্মঘটে যেতে পারেন ক্রিকেটাররা। 

    দুপুর ৩টা

    মিরপুর একাডেমিতে শুরু হলো ক্রিকেটারদের সংবাদ সম্মেলন। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে নিজেদের ১১ দফা দাবি পড়ে শোনালেন ক্রিকেটাররা। ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়ানো, ক্রিকেটারদের আনুষাঙ্গিক সুযোগ সুবিধা বাড়ানো, কোয়াবের পদত্যাগসহ আরও বেশ কিছু দাবি ছিল সেখানে। সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্রিকেটীয় সব কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার যাওয়ার ঘোষণা। 

    বিকেল ৪টা

    তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিসিবির প্রধান নির্বাহী বললেন, ক্রিকেটারদের দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা করবে বোর্ড। তারা এটাকে বিদ্রোহ মনে করছেন না

    রাত ১১টা

    নিজের ফেসবুকে পেজে এক বার্তায় ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বললেন, এই আন্দোলনের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। তবে এই আন্দোলনের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন আছে।

     

    ২২ অক্টোবর, মঙ্গলবার

    দুপুর ৩টা

    বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ক্রিকেটারদের এই আন্দোলন দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার একটা চক্রান্ত। প্রায় ঘন্টাখানেকের উত্তপ্ত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের ওপর নিজের উষ্মা ঝাড়লেন। এই ষড়যন্ত্রে কোন কোন ক্রিকেটার জড়িত, সেটা বের করারও হুমকি দিলেন।

    বেলা ৪টা

    পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সংবাদ সম্মেলন করলেন নাইমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাহমুদ ও দেবব্রত পাল। পদত্যাগে কোনো সমাধান মিলবে না বলে তারা জানালেন। এদিকে কোয়াবের সদস্যপদ পুর্নবিবেচনার ঘোষণা পেশাদার ক্রিকেটাদের আন্তরজাতিক সংগঠিন ফিকার।

     

    ২৩ অক্টোবর, বুধবার

    সকাল ১১টা

    মিরপুরে বোর্ডের প্রধান নির্বাহী বললেন, ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য বিকেল ৫টা থেকে বিসিবি কার্যালয়ে অপেক্ষা করবেন বোর্ড সভাপতিসহ অন্যান্য পরিচালকেরা।

    দুপুর ৩টা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকার করার জন্য গণভবনে যান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। সঙ্গে ছিলেন পরিচালক ও কোয়াব সভাপতি নাইমুর রহমান।

    সন্ধ্যা ৬ টা

    গুলশানের এক হোটেলে ফের সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ক্রিকেটাররা। সেখানে তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলেন আইনজীবি মোস্তাফিজুর রহমান খান। মূল ১১টি দাবির সঙ্গে আরও দুইটি অতিরিক্ত দাবি যোগ করা হয়। লভ্যাংশ ভাগাভাগি নিয়ে নতুন দাবিটি বিগ ব্যাশের মডেলে করার প্রস্তাব করা হয়। এরপরেই ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে বৈঠকের পর জানান, বিসিবি কর্তাদের সাথে বৈঠক করার জন্য মিরপুর যাবেন

    রাত ৯টা

    শুরু হয় বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেটারদের বৈঠক। বাইরে চলতে থাকে প্রচারমাধ্যমের অপেক্ষা

    রাত ১১টা

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। কোয়াব সংশ্লিষ্ট ও দুইটি বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলা যাবে না- এই দুইটি দাবি ছাড়া বাকিগুলো মেনে নিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এর প্রেক্ষিতে ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরতে রাজি হয়েছেন বলেও জানান। সাকিব আল হাসান যোগ করেন, বিসিবির সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় ক্রিকেটে ফিরছেন তারা। তবে ঘরোয়া লিগে টাকা বেড়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়েই সাকিব বের হয়ে যান। শেষ হয় ক্রিকেটের তিন দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকের।