• বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ধর্মঘট
  • " />

     

    ক্রিকেটারদের আন্দোলনে সমর্থন ফিকার, পর্যালোচনা করবে কোয়াবের সদস্যপদ

    বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের চলমান ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে তাদের দাবিদাওয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়ে কোয়াবের সদস্যপদের ব্যাপারটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটারস অ্যাসোসিয়েশন, ফিকা। অন্যদিকে ক্রিকেটারদের দাবির প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন ক্রিকেটারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ, কোয়াব-এর প্রেসিডেন্ট নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও সেক্রেটারি দেবব্রত পাল। 

    বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের জন্য 'রূঢ় পরিবেশ' বিদ্যমান করছে উল্লেখ করে সে পরিবেশ পরিবর্তন প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ফিকা। সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান টনি আইরিশের বরাত দিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেদের ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসেনি কোয়াব’। ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি বোর্ডেও পদ ধারণ করেন, এমন তথ্যেও উদ্বেগ জানিয়েছে তারা। কোয়াবের প্রেসিডেন্ট দুর্জয় ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট খালেদ মাহমুদ সুজন- দুজনই বিসিবির পরিচালক। অন্যদিকে সেক্রেটারি দেবব্রত বিসিবির ম্যাচ রেফারিদের কো-অর্ডিনেটর।

    ২১ অক্টোবর বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, ঘরোয়া ক্রিকেটে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ ১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে গেছেন বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটাররা। তবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান বলেছেন, 'এ ধর্মঘট বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে ষড়যন্ত্রের অংশ ও পূর্বপরিকল্পিত'। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে তারা বোর্ডে সরব, বরং বর্তমান ক্রিকেটাররাই তাদের ডাকে সাড়া দেন না। ক্রিকেটাররা কেউ আসতে চাইলে তারা স্বাগতই জানাবেন। 
     


    কোয়াবের প্রেসিডেন্ট নাঈমুর রহমান দূর্জয়, ভাইস প্রেসিডেন্ট খালেদ মাহমুদ সুজন ও সেক্রেটারি দেবব্রত পাল/বিসিবি


    “বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের তাদের ঐক্য ও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ন্যায্য শর্ত নিশ্চিত করতে তাদের অবস্থানের প্রশংসা করে”, বিবৃতিতে বলেছে ফিকা, “বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের সমষ্টিগতভাবে খুবই রুঢ় পরিবেশ থাকার পরও এমন হয়েছে, এবং এটি ইঙ্গিত করে, আমরা যেটিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটীয় দেশ হিসেবে বিবেচনা করি, সেখানে ক্রিকেটারদেরকে যেভাবে দেখা হয়, সেটিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।” 

    আরও বলা হয়েছে, “এটা আমাদের কাছে পরিস্কার যে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার এবং জীবিকায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন বিষয়েও তাদেরকে জানানো হয় না, সম্মান দেওয়া হয় না। একটা ক্রিকেটারদের সংস্থার কাজই হচ্ছে এসব ব্যাপারে উচ্চকিত হওয়া, তারা ক্রিকেটারদের সমন্বিত প্রতিনিধি। ক্রিকেটারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব) ক্রিকেটারদের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভূমিকা রাখতে এগিয়ে আসেনি, যেটি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আরও উদ্বেগের বিষয় যে, কোয়াবের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডে পদ ধারণ করেন।” 

    “সব দিক দিয়ে এই বিষয়ের ধরন দেখে আমরা বিশ্বাস করছি, এই সময়ে ক্রিকেটারদের সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়া প্রয়োজন ফিকার।” 
     
    ফিকার পরিবর্তিত নীতিমালায় কোয়াবের সদস্যপদের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখতে চায় সংস্থাটি, “লন্ডনে এই মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভায় ফিকা বোর্ড পরিবর্তিত নীতিমালা ও ফিকার সদস্যপদের জন্য ন্যূনতম কর্মকান্ড ঠিক করা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবং এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, এই কর্মকান্ডের আওতায় সদস্য ক্রিকেটার অ্যাসোসিয়েশনগুলি আসলেই বর্তমান ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হতে হবে, এবং সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডি থেকে স্বতন্ত্র থাকতে হবে।” 

    “এসব পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ফিকা কোয়াবের সদস্যপদের ব্যাপারটি পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখতে চায়।”