• লা লিগা
  • " />
    X

     

    পুসকাসকে ছাড়িয়ে গেলেন বেনজেমা, আইবারে বড় জয় রিয়ালের

    লা লিগা
    ফুলটাইম আইবার ০-৪
    রিয়াল মাদ্রিদ 


    লা লিগায় সেপ্টেম্বর মাসে সবশেষ অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। আইবারের মাঠে সেই অপেক্ষাটা আর বাড়তে দেয়নি জিনেদিন জিদানের দল। ৪-০ গোলে জিতেছে রিয়াল। ম্যাচে জোড়া গোল করে করিম বেনজেমা গড়েছেন নতুন রেকর্ড। লা লিগায় রিয়ালের হয়ে তার গোল এখন ১৫৭টি, ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তী ফেরেঙ্ক পুস্কাসকেও। রিয়ালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের ভেতর বেনজেমা এখন ছয়ে। বার্সেলোনা সেল্টা ভিগোকে ৪-০ গোলে হারানোয় অবশ্য শীর্ষস্থানে ওঠা হয়নি রিয়ালের। সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে জিদানের দল। 

    এই মৌসুমে লিগের ১১ ম্যাচে বেনজেমার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টি। অবশ্য আইবারের বিপক্ষে আরেকটু নিখুঁত হতে পারলে সহজেই হয়ত গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে পারতেন আরও। ইপুরা মিউনিসিপাল স্টেডিয়ামে রিয়ালকে শুরুতে পথ দেখিয়েছিলেন বেনজেমাই। জটলার ভেতর থেকে বক্সের বাম পাশে ফাঁকায় বল পেয়ে যান তিনি। কোলাকুনি শটে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে বেনজেমা দলকে এগিয়ে নেন ১৭ মিনিটে।

    গ্যালাতাসেরর বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা রদ্রিগো গোজকে এদিন আর একাদশে রাখেননি জিদান। পুরো ম্যাচেও সুযোগ দেননি। অবশ্য তার দরকারও হয়নি। প্রথমার্ধ শেষের আগেই আরও দুই গোল করে আইবারের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কাজটা করে রেখেছিল রিয়াল। আইবারও ভুল করেছে, ১০ মিনিটের ভেতর দুইবার রিয়ালকে পেনাল্টি উপহার দিয়ে নিজেরাই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে।

    এডেন হ্যাজার্ড শুরু থেকেই খেলেছেন আইবারের বিপক্ষে। পুরোটা সময় তিনি ছিলেন দুর্দান্ত, দ্বিতীয়ার্ধে নিজের চিরচেনা রূপ দেখানোর আগেই ২০ মিনিটে একটি পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছিলেন তিনি। বাম দিক থেকে বক্সের ভেতর ঢুকে আইবারের ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলার আগেই ফাউলের শিকার হন হ্যাজার্ড, রেফারিও বাজান পেনাল্টির বাঁশি। সার্জিও রামোস পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান করেন দ্বিগুণ।

    পরের পেনাল্টিও প্রায় একইভাবে পেয়ে যায় রিয়াল। এবার অন্যপ্রান্ত দিয়ে কাট করে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন লুকাস ভাস্কেজ, তাকেও করা হয় ফাউল। এবার রামোসের বদলে কিক নিতে আসেন বেনজেমা। গোল করেই পুস্কাসকে ছাড়িয়ে যান তিনি।

    এই ম্যাচ শুরুর আগে লা লিগায় আইবারের অবস্থান ছিল ১৪তম। শেষ ৫ ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি তারা। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে হলে নাটকীয় পরিবর্তন দরকার ছিল- সেরকম কিছু দেখাতে পারেনি আইবার। তবে তিন গোল খেয়েও আইবার প্রথমার্ধের শেষদিক পর্যন্ত একটি গোলের চেষ্টা করে গেছে।

    আইবারের গোলের চেষ্টা অব্যাহত ছিল দ্বিতীয়ার্ধেও। তবে একবারের জন্যও রিয়ালের রক্ষণকে দুশ্চিন্তায় ফেলার মতো কোনো আক্রমণ সাজাতে পারেনি তারা। এর মধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করে ফেলেন ফ্রেডি ভালভার্দে। ২১ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার এই মৌসুমের বড় আবিষ্কার।

    গোলটা তার প্রাপ্যই ছিল একরকম। টনি ক্রুস ছিলেন বিশ্রামে। কাসেমিরোর সঙ্গে মিডফিল্ডে ছিলেন ভালভার্দে আর লুকা মদ্রিচ।  ৬১ মিনিটে মদ্রিচ বক্সের বাইরে ডান পাশ থেকে পাস বাড়ান ভালভার্দের উদ্দেশ্যে। বক্সের বাইরে থেকেই নিখুঁত প্লেসমেন্টে নিচু শট করে ভালভার্দে পেয়ে যান গোল। ১৯৬০ সালের পর এবারই প্রথম কোনো উরুগুইয়ান হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোল করার দারুণ তৃপ্তিটাও সঙ্গী হয়েছে তার।

    রিয়াল ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর বাকি সময়টা ছিল আনুষ্ঠানিকতার। ইস্কো, ব্রাহিম ডিয়াভ, ভিনিসিয়াস জুনিয়রদেরকে তাই খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন জিদান। বারপোস্ট আর আইবার গোলরক্ষক দ্রিমিত্রি মিট্রোভিচ বাধা  হয়ে না দাঁড়ালে শেষে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত রিয়ালের।

    অনেক কিছু পাওয়ার দিনে স্বস্তি পেয়েছেন থিবো কোর্তোয়াও। এই নিয়ে টানা ৫ ম্যাচে ক্লিনশিট রাখলেন তিনি। ধীরে ধীরে রিয়ালের গোলবারের নিচে আস্থাও অর্জন করে নিচ্ছেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক। হ্যাজার্ডও নিজের ঝলক দেখিয়েছেন বেশ কয়েকবার। আর বেনজেমা একের পর এক গোল করে সচল রাখছেন আক্রমণভাগ। সব মিলিয়ে জিদানের দলও সমর্থকদের আস্থা অর্জন করছে আরেকবার। ১২ ম্যাচ শেষে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত সবার ওপরে রিয়াল মাদ্রিদ।