• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    রদ্রিগোর হ্যাটট্রিকের রাতে গ্যালাতাসারেকে উড়িয়ে দিল রিয়াল

    এই মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লা লিগা অভিষেকেই গোল করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তরুণ রদ্রিগো গোজ। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্নাব্যু অভিষেকে করে বসলেন হ্যাটট্রিক। রেকর্ডও গড়েছেন একাধিক। রদ্রিগোর  রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের  গ্রুপ 'এ' -তে বড় জয় পেয়েছে রিয়াল, গ্যালাতাসারেকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা।

    ম্যাচের প্রথম ৬ মিনিটেই জোড়া গোল করেছেন রদ্রিগো, চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দ্রুততম জোড়া গোলের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বকনিষ্ট ব্রাজিলিয়ান হিসেবেও গোলের রেকর্ড এখন রদ্রিগোরই। রদ্রিগোর মত জোড়া গোল করেছেন করিম বেনজেমাও, টপকে গেছেন রিয়ালের হয়ে কিংবদন্তী আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর (৪৯) চ্যাম্পিয়নস লিগের গোল টালি। রদ্রিগো-বেনজেমার রেকর্ডের রাতে প্রথমার্ধেই গ্যালাতাসারেকে রীতিমত উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল।

    ৩ মিনিটে বাঁ-প্রান্ত থেকে মার্সেলোর ক্রস নিয়ন্ত্রণে এনে দুর্দান্ত শটে দলকে লিড এনে দেন রদ্রিগো। মিনিট তিনেক পর আবারও মার্সেলোর ক্রসে গোল করলেন তিনি, এবার হেড করে। শুরুতেই রিয়ালের এমন বিধ্বংসী রূপে রীতিমত অসহায় হয়ে পড়া গ্যালাতাসারে ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি। উল্টো ১২ মিনিটে টনি ক্রুসকে ফাউল করে রিয়ালকে পেনাল্টি উপহার দেন স্টিভেন এন’জঞ্জি।

     

     

    প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি না দিলেও ভিডিও রেফারির সাহায্যে সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি। হ্যাটট্রিকে থাকা রদ্রিগোর বদলে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস, ১২ গজ থেকে ভুল করেননি তিনি। শুরুতেই তিন গোল করে এরপর অবশ্য কিছুটা গা বাঁচিয়েই খেলেছে রিয়াল। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি তুরস্কের চ্যাম্পিয়নদের, ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা।

    উল্টো প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও গ্যালাতাসারের জালে বল পাঠিয়েছিল রিয়াল, কিন্তু ক্রুসের ফ্রিকিক থেকে গোল করার সময় অফসাইডে ছিলেন কাসেমিরো। তবে প্রথমার্ধে চতুর্থবারের মত ফাতিহ তেরিমের জালে বল ঠিকই পাঠিয়েছিল রিয়াল। রদ্রিগোর পাসে গ্যালাতাসারে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাকে পরাস্ত করেন বেনজেমা। কিন্তু খুব সম্ভবত মৌসুমের সেরা প্রথমার্ধের পরও স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না জিনেদিন জিদান।

     

     

    প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ইনজুরির কারণে মাঠ ছেড়েছেন মার্সেলো, বদলি হিসেবে নেমেছেন ফার্ল্যান্ড মেন্ডি। দুর্দান্ত এক প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের গোলের চেয়ে পজেশন ধরে রাখার দিকেই বেশি মনযোগী ছিল রিয়াল। দিশেহারা গ্যালাতাসারে চেষ্টা করে গেছে শেষ পর্যন্ত, কিন্তু রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে আর বিপদে ফেলতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে এরপরও গোলের সেরা সুযোগগুলো পেয়েছিল রিয়ালই। এডেন হ্যাজার্ডের বদলি হিসেবে নেমে প্রথম টাচেই গোল করতে পারতেন ইস্কো, কিন্তু ক্রুসের কর্নার থেকে তার হেড দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন মুসলেরা।


    আরও পড়ুন: আবারও অন্তিম মুহূর্তের গোলে লোকোমোটিভকে হারিয়ে নকআউট পর্বে জুভেন্টাস


     

    ম্যাচের শেষদিকে অবশ্য রিয়ালের জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ গোলের’ হাফসেঞ্চুরি’ পূরণ করেছেন বেনজেমা। জয় নিশ্চিত দেখে কাসেমিরোকে উঠিয়ে লুকা মদ্রিচকে নামিয়ে দিয়েছিলেন জিদান। মদ্রিচের ডিফেন্সচেরা পাসে কারভাহালের নিচু ক্রস গোলের সামনে থেকে জালে পাঠিয়েছেন বেনজেমা। তখনও শেষ হয়নি গ্যালাতাসারের জালে রিয়ালের গোলউৎসব।

    যোগ করা সময়ে বেনজেমার পাস থেকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রদ্রিগো, রাউলের পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ হ্যাটট্রিক করা ফুটবল এখন তিনিই। প্রথম দুই ম্যাচের পর গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল। ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলর টিকেট প্রায় নিশ্চিত তাদের। সমানসংখ্যক ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটের টিকেট পেয়ে গেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই।