• বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />

     

    ওমানের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশের সামনে চার প্রশ্ন

    ১৪ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাই পর্বে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। কাতার ও ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলার পর ওমানের বিপক্ষে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাটাই ধরে রাখতে চাইবেন জেমি ডে। তবে ওমানের বিপক্ষে কাজটা যে কঠিন হবে সেটা অনুমিতই।    

    অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক মনোভাব ডোবাবে বাংলাদেশ?  
    বাংলাদেশ কোচ জেমি ডের সবচেয়ে বড় গুণ বোধ হয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে জানা। দৃষ্টিনন্দন বা আকর্ষনীয় কোনো ধাঁচে না গিয়ে তাই কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল বেছে নিয়েছেন তিনি। ফল নির্ভর ফুটবলে ফলও মিলছে। সে কারণেই উন্নতিটা ধরা দিচ্ছে সাধারণ চোখে। 

    আবার আরেকটি কথাও সত্য। ফুটবলের সবচেয়ে সহজ কাজটাও বোধ হয় মন-প্রাণ ঢেলে এক কেন্দ্রিক রক্ষণে মনোযোগী হওয়া। ইউরোপিয়ান ফুটবল দেখে থাকলে এফএ কাপে হুট-হাট নন লিগ দলগুলোর ওল্ড ট্রাফোর্ড বা অ্যানফিল্ডে সাহসী পারফরম্যান্সের কথা জানা থাকা আপনার। সেসব দারুণ পারফরম্যান্সের মূল ভিত্তিও দলগুলোর রক্ষণ।

    রক্ষণে মনোযোগী হওয়া হয়ত সহজ, কিন্তু ৯০ মিনিট সমানতালে মনোযোগ ধরে রাখা আবার দ্বিগুণ কঠিন। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচের কথাই ধরা যাক। ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে একই ধারায় যেভাবে বাংলাদেশের বক্সের ভেতর ভারত ক্রস করে যাচ্ছিল, তাতে ডের দলের গোল খেয়ে বসাটা ছিল সময়ের ব্যাপার।




    বাছাই পর্বে আফগানিস্তানের ম্যাচটা নিয়ে ডের আফসোস এতদিনে বাড়ার কথা। সে ম্যাচে কাউন্টার অ্যাটাকে আফগানদের চমকে দেওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু নিজেরাই রক্ষণে অতিরিক্ত মনোযোগী হয়ে আফগান রক্ষণের পরীক্ষাটাই আর নিতে পারেননি জীবন-জামালরা। 

    এসব কিছু অবশ্য জেমি ডে বা তার দল কারও জন্যই অজানা নয়। খেলার ট্রানজিশনে দুর্বলতাটা আছে বলেই কাউন্টার অ্যাটাকে এখনও সেভাবে মনোযোগী হতে পারছে না বাংলাদেশ। ওমান বাংলাদেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে পুরো শক্তি দিয়ে। শুধুমাত্র ওমানের আক্রমণকে নিজেদের অর্ধে আমন্ত্রণ জানানো তাই  বাংলাদেশের জন্য হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। 

    বাংলাদেশকে ভালো কিছু পেতে হবে তাই আক্রমণেও নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। প্রথম কাজটা নাবিব নেওয়াজ জীবনের। বল হোল্ড করে রেখে কাউন্টার অ্যাটাকে দলকে সাহায্য করার চেষ্টা করে যেতে হবে। এরপর বাংলাদেশের উইঙ্গারদেরকে করতে হবে বাকি কাজটা। ওমানের আক্রমণের মূল প্রাণ যেহেতু দুই ফুলব্যাক, তাদেরকে তাই নিজেদের অর্ধে ব্যতি-ব্যস্ত রাখা গেলে রক্ষণের ওপরও চাপ কমে আসবে বাংলাদেশের। 

    বাংলাদেশকে মূল মনোযোগ দিতে হবে রক্ষণেই, তবে একমুখী রক্ষণাত্মক কৌশল হতে পারে আত্মঘাতী।         

    ক্লান্তি মোরে ক্ষমা করো প্রভু 
    একটা সময় ছিল যখন দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কোমরে হাত পড়ে যেত। সেসব এখন স্মৃতি কেবল। জেমি ডের অধীনে দলের ফিটনেস লেভেলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। সেটাও যথেষ্ট না হতে পারে ওমানের বিপক্ষে। ভারতের বিপক্ষে বাছাই পর্বের ম্যাচের পর ২৩ জনের স্কোয়াডের ১৯ জন খেলোয়াড়খেলেছেন শেখ কামাল আন্তজার্তিক ক্লাব কাপ। এর পরই আবার জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়ে ওমান উড়ে গেছেন খেলোয়াড়েরা। 

    লিগ শেষ হয়েছে জুলাইয়ের শেষদিকে। সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তান ম্যাচের পর সপ্তাহ দুয়েকের মতো ছুটি মিলেছিল খেলোয়াড়দের। এর পর থেকেই টানা খেলার ভেতরেই আছেন ফুটবলাররা। একটানা খেলে যাওয়ার ধকল প্রভাব ফেলতে পারে ওমানের বিপক্ষে।
     

     


    দ্য কিউসিয়াস কেস অফ মতিন মিয়া
    মতিন মিয়া স্ট্রাইকার নন। মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। গতবার লিগের সর্বোচ্চ দশ গোলদাতার ভেতর বাংলাদেশী ছিলেন দুইজন। একজন নাবিব নেওয়াজ জীবন, আরেকজন মতিন মিয়াঁ। বসুন্ধরা কিংসের ফরোয়ার্ড ১১ গোল করে ছিলেন সাত নম্বরে। রক্ষণে উন্নতি হলেও গোল পেতে নিয়মিত সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। লিগে মতিন মিয়ার এগারো গোলের পেছনে অবশ্য বসুন্ধরা কিংসের পজেশন নির্ভর ফুটবল বড় প্রভাব রেখেছে। তাই মূল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় জীবনই ডের প্রথম পছন্দ। 

    দল ভালো করতে না পারলেও শেখ কামাল আন্তজার্তিক ক্লাব কাপে বদলি হিসেবে নেমেও আলো কেড়েছেন মতিন মিয়াঁ।  তার গতি আছে, সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে ওয়ান অন ওয়ানে কাটিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও বাংলাদেশের একাদশে নিয়মিতদের চেয়ে মন্দ নয়। ওমানের বিপক্ষে একাদশে সুযোগ না হলেও বদলি হিসেবে নেমে দারুণ সংযোজন হতে পারেন তিনি, বিশেষ করে কাউন্টার অ্যাটাকে। তবে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কম। এখন পর্যন্ত বাছাই পর্বের তিন ম্যাচে একবারও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি মতিনের। ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ডে নিজেই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা বলছেন। কঠিন পরীক্ষায় ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কী দেখাবেন ডে?     

    বিশ্বনাথ না রায়হান, টুটুল না রাফি? 
    ওমানে বাংলাদেশ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে একটি। স্থানীয় মাস্কট ক্লাবের বিপক্ষে সে ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশে। একাদশে সেদিন রাইটব্যাক পজিশনে শুরু করেছিলেন বিশ্বনাথ ঘোষ। এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও এই পজিশনে খেলেছিলেন তিনি। 

    তবে বাছাই পর্বে পরের দুই ম্যাচে ডে ভরসা রেখেছিলেন রায়হান হাসানের ওপর। কাতারের বিপক্ষে রায়হানকে নামিয়ে ফলও পেয়েছিল বাংলাদেশ, রায়হানের লম্বা থ্রো কাতার ঠেকাতে কাতার ডিফেন্ডাররা রীতিমত হিমশিম খেয়েছেন। লম্বা থ্রো বাংলাদেশের আক্রমণের মূল অস্ত্রও বটে। বিশ্বনাথও পারদর্শী এই অস্ত্র চালাতে, তবে রায়হানের মতো ঠিক অতোখানি নিখুঁত নন তিনি। আবার রক্ষণ বা উইং ধরে আক্রমণে ওঠার ক্ষেত্রে রাইটব্যাক হিসেবে বিশ্বনাথ রায়হানের চেয়ে দ্রুতগতির, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুলের প্রবণতাও কম তার। কিন্তু বিশ্বনাথকে নামালে ডেকে বড় একটা বিসর্জন দিতে হবে আক্রমণে। শেষ পর্যন্ত কী করবেন, সেটা তিনিই জানেন। 

    ডে দোটানায় পড়বেন আরও এক জায়গায়। টুটুল হোসেন বাদশাকে কাতার ম্যাচের আগে ইনজুরিতে হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু রিয়াদুল হাসান রাফি বাদশার অভাব টের পেতে দেননি কাতার ও ভারতের বিপক্ষে। ইয়াসিন খানের সঙ্গে জুটি গড়ে বাংলাদেশর রক্ষণকে দুর্গ গড়ে তোলায় ভালো অবদান ছিল রাফির। বাদশা রাফির চেয়ে অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন। কিন্তু দৃষ্টিকটু ভুল করার রেকর্ডও আছে তার। কাকে ছেড়ে কাকে নেবেন সেটা ডেই জানেন, তবে এই সিদ্ধান্তের ওপর হয়ত ম্যাচের ভাগ্যটা অনেকখানি নির্ভর করছে বাংলাদেশের।