• এসএ গেমস
  • " />

     

    মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে খাদের কিনারায় বাংলাদেশ

    ফুলটাইম
    বাংলাদেশ অ-২৩ ১-১ মালদ্বীপ অ-২৩  


    ভুটানের কাছে হারের পর বাংলাদেশের সামনে দুইটি রাস্তা খোলা ছিল। মালদ্বীপের বিপক্ষে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো, অথবা আত্মসমপর্ণ করে ফিরে আসা। বাংলাদেশ কোনোটাই করল না। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় এলেমেলো ফুটবলের প্রদর্শনী করে প্রথমার্ধে পাওয়া লিডটাও হারাল ৭০ মিনিটে। তাতে দায় থাকল গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোরও। ইব্রাহিম মাহুদির কাছের পোস্টে করা বুলেট গতির শটে পরাস্ত হয়েছেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। অবশ্য মালদ্বীপ দ্বিতীয়ার্ধে যতগুলো আক্রমণ করেছে তা থেকে  গোল পাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার। শেষ পর্যন্ত তাই কোনোমতে হারটা এড়িয়েছে বাংলাদেশ।   

    নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করে বাংলাদেশের সম্ভাবনা একরকম শেষই হয়ে গেল এবারের এসএ গেমস ফুটবলে। দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১। শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ও ১, তবে তারা খেলেছে একটি ম্যাচ। আপাতত পুরুষদের ফুটবলে পাঁচ দলের ভেতর বাংলাদেশ আছে সবার নিচে। এখান থেকে ভালো কিছু পেতে হলে নাটকীয় সমাপ্তি দরকার জামাল ভুঁইয়াদের। 

    ম্যাচের ৩০ মিনিটে আত্মঘাতী গোল থেকে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। রবিউল হাসানের লম্বা থ্রো থেকে বক্সের ভেতর থাকা রিয়াদুল হাসান রাফি হেড করেছিলেন। মালদ্বীপ গোলরক্ষক দুর্দান্ত এক সেভে রাফির হেড ঠেকিয়ে দিলেও মালদ্বীপ ডিফেন্ডার আকরাম ঘানির গায়ে লেগে বল ঢুকে যায় জালে। 

    বাংলাদেশ আরও আগেই এগিয়ে যেতে পারত ম্যাচে। রেফারির উদ্ভট এক সিদ্ধান্তে ২০ মিনিটে গোলবঞ্চিত হয়েছেন নাবিব নেওয়াজ জীবন। রবিউলের ডান প্রান্ত থেকে করা ক্রস ধরতে ভুল করেছিলেন মালদ্বীপ গোলরক্ষক। পরে সেই বল গিয়ে লাগে মালদ্বীপের বারপোস্টে। জীবন ফিরতি বল মালদ্বীপের জালে ঢুকিয়ে দিলেও রেফারি বাজান কর্নারে বাঁশি। ম্যাচ শেষে ভিডিও হাইলাইটস দেখলে হয়ত রেফারি নিজেও ওই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারবেন না।


    ব্যাখ্যা নেই আসলে জেমি ডের কাছেও। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশকে খুব বেশিক্ষণ আফসোস করতে হয়নি গোলের জন্য। কিন্তু এর পরই যেন সব কৌশল গুলিয়ে খেয়ে ফেলল বাংলাদেশ। সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নেপাল গেছে বাংলাদেশ- বাকি এক ঘন্টায় দলের খেলা দেখলে সেটা মনে হওয়ার কোনো উপায়ই থাকল না। মালদ্বীপকে এর পর আক্রমণে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশ বসে থেকেছে নিজেদের অর্ধে। প্রথমার্ধেই নাইজ হাসান দুইবার বাংলাদেশের রক্ষণকে কাঁপিয়ে দিয়েও অল্পের জন্য গোল পাননি। নিজেদের ভুলেই তাই মালদ্বীপের আর সমতায় ফেরা হয়নি প্রথমার্ধে। 

    এমন ম্যাচে  এক গোলের লিড যে ধোপে টিকবে না সেটা দ্বিতীয়ার্ধ থেকে বোঝা গেল আরও ভালো করে। মালদ্বীপের দুই ফরোয়ার্ড বাংলাদেশের রক্ষণকে তটস্থ করে রাখল পুরোটা সময়। ৫৯ মিনিটে বিস্ময়করভাবে দুইজনের হাত থেকেই বেঁচে ফিরল বাংলাদেশ। নাইজের বক্সের বাইরে থেকে করা শট প্রথমে ঠেকালেন জিকো, রিবাউন্ডে ইব্রাহিম কাছের পোস্টে কাঁপিয়ে দিলেন বাংলাদেশের বারপোস্ট। তাতে কাঁপল পুরো বাংলাদেশ দল। কিন্তু কিছুই শিখলেন না জিকো। 

    ৭০ মিনিটে কাছের পোস্ট ফাঁকা রেখে দাঁড়িয়েছিলেন জিকো। এর পর  ইব্রাহিমের শটের গতির সঙ্গে উচ্চতাতেও হার মানলেন। যে ভয়টা এতক্ষণ তাড়া করে বেড়াচ্ছিল বাংলাদেশকে সেটা সত্যি করে মালদ্বীপও ফিরে এলো ম্যাচে। 

    বাকি সময়ে বাংলাদেশ পিছিয়েও যেতে পারত। ৭৪ আর ৮৪ মিনিটে দুইবারই নাইজ পেয়েছিলেন দারুণ দুইটি সুযোগ। একবার বারপোস্টের কারণে গোল পাননি, আরেকবার বলের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পারেননি পায়ের। নইলে বাংলাদেশের কাছ থেকে ওই এক পয়েন্টও কেড়ে নিত মালদ্বীপ।

    দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে মাত্র একটি। ৮০ মিনিটে আরও একবার রাফি হেড করেছিলেন। গোলরক্ষকও ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন সেটা। ফিরতি বল টুটুল হোসেন বাদশা দূরের পোস্টে ক্রস করলেও বলের নাগাল পাননি জীবন। বাংলাদেশেরও তাই নতুন জীবন পাওয়া হয়নি আর।

    আগেরদিন ভুটানের সঙ্গে খেলার পর খেলোয়াড়দের ক্লান্তি দূর করতে আগে ভাগেই দুই বদলি করে ফেলেছিলেন জেমি ডে। একাদশে পরিবর্তন ছিল দুইটি। সুশান্ত ত্রিপুরা ও টুটুল হোসেন বাদশা ছিলেন শুরু থেকেই। বিশ্বনাথ না থাকায় এদিন লম্বা থ্রো নিচ্ছিলেন রবিউল হাসান। যদিও তার থ্রোও তেমন কার্যকরী ছিল বাংলাদেশের আক্রমণ সাজাতে। দুই বদলি মাহবুবুর রহমান সুফিল বা আল আমিনেরও তেমন প্রভাব ছিল না ম্যাচ। ইয়াসিন খানও এদিন একাদশে ছিলেন না। ৮০ মিনিটে তৃতীয় বদলি হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। 

    বাংলাদেশের কাছে অবশ্য বাজে পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা থাকার কথা। টানা দুইদিন ফুইটি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের জন্য তো একরকম অমানবিকই। কিন্তু ভুটানের কাছে হারের পর এসব কিছু অজুহাতের মতোই শোনাবে। আপাতত একদিনের বিশ্রাম পাচ্ছে বাংলাদেশ। ৫ তারিখ লাল-সবুজদের তৃতীয় ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। 
     

    বাংলাদেশ একাদশ

    আনিসুর রহমান, টুটুল হোসেন বাদশা, রিয়াদুল হাসান, রহমত মিয়া, জামাল ভূঁইয়া, বিপলু আহমেদ, সাদ উদ্দিন, রবিউল হাসান, বিপলু আহমেদ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নাবিব নেওয়াজ জীবন, সুশান্ত ত্রিপুরা