• এসএ গেমস
  • " />

     

    এসএ গেমস ফুটবলে বাংলাদেশের দুর্দশার কারণ কী?

    পাঁচ দলের প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হওয়াটা আর যাই হোক সাফল্য নয়। ব্রোঞ্জ জিতলেও তাই এসএ গেমসে বাংলাদেশ অলিম্পিক ফুটবল দলের যাত্রাটা ব্যর্থ বলা যায় নির্দ্বিধায়। প্রায় জাতীয় দল নিয়েই এবার এসএ গেমসে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পুরো বছর  উন্নতির ছাপ রেখে যাওয়া দলটাই নুয়ে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিপক্ষদের কাছে। 

    প্রস্তুতির ঘাটতি? 
    দুই মাসও হয়নি এই দলটাই ভারতের বিপক্ষে সল্টলেক থেকে জয়ের সমান ড্র নিয়ে ফেরত এসেছিল। ওই ম্যাচটা প্রায় জিতেই যাচ্ছিল বাংলাদেশ। এর আগে নিজেদের মাঠেও কাতারের সঙ্গে হারলেও প্রেরণা যোগানোর রসদ যুগিয়েছিল জেমি ডের দলকে। 

    কিন্তু ঝামেলাটা হয়েছে এর পরই। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে যখন নতুন শিক্ষা পাওয়ার কথা ছিল তখন শিখে নেওয়ার বদলে উলটো পুরনো জ্ঞান গুলোই গুলিয়ে খেলেন যেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। অক্টোবরের শেখ কামাল আন্তজার্তিক ক্লাব কাপে খেলায় বিশ্রামও পেলেন না বেশিরভাগ খেলোয়াড়। ছন্দপতন এর পরই। 

    ওমানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ ছিল নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। লম্বা মৌসুম শেষে যখন বিশ্রামে থাকার বদলে আরেক টুর্নামেন্ট খেলে খেলোয়াড়দের উন্নতির বদলে ধকল গেল আরেকবার। জেমি ডেও বারবার সেই কথাগুলোই মনে করিয়ে দিয়েছেন নেপালের সঙ্গে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে। খেলোয়াড়রা মৌসুমে কতোগুলো ম্যাচ খেলছে সেসব নিয়ে দেশে ফিরে বাফুফে কর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

    এসবের আগে এসএ গেমসের প্রস্তুতির আগেই শুরু হয়েছিল ঝামেলা। ওমানের বিপক্ষে নভেম্বরের মাঝামাঝি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের বাছাই ম্যাচ শেষে ২১ তারিখ থেকে নতুন ক্যাম্পে শুরু হওয়ার কথা ছিল অলিম্পিক দলের। ৬ দিন অনুশীলন করে নেপালের উদ্দেশ্যে আগে ভাগেই দেশ ত্যাগের কথা ছিল। কথা ছিল একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলারও।

    এসব কিছুই ভেস্তে গেছে। সামনেই নতুন মৌসুম, তাই ক্লাবগুলোও অনুশীলনে ব্যস্ত রেখেছিল ফুটবলারদের। বসুন্ধরা কিংস যেমন খেলোয়াড় ছাড়তেই রাজি হয়নি। অগত্যা কোনো ধরনের কোনো অনুশীলন ছাড়াই নেপাল গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। 

    নেপালের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে জামাল ভুঁইয়ার একটি ভিডিও হয়ত চোখে পড়েছে আপনার। টুর্নামেন্টের নিয়ম বা কোন দল আছে- সেগুলোর কিছুই জানা ছিল না তার। জামালে রনিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু দলের অধিনায়ক যখন এমন কথা বলেন, তখন প্রস্তুতির ঘাটতিটা চোখ এড়ায় না আর। সোনা জয়ের ভালো সম্ভাবনা আছে জেনে নেপাল গেলেও সোনা জেতার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার ছিল- তাতে বড় ঘাটতি ছিল বাংলাদেশের। 

    প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ফুটে উঠেছে সেসব। ভুটান এসএ গেমসের প্রস্তুতি শুরুর করেছিল দুই মাস আগে। ভুটানের উন্নতিটাও চোখে পড়ার মতো। নেপালের সঙ্গে ফাইনাল খেলবে ভুটানই। যে ভুটানকে ৪-১ ও ২-০ তে দুই মাস আগেও বাংলাদেশ হারিয়েছিল, তাদের বিপক্ষেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আর সম্ভবত ওই হারটাই বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল এবারের এসএ গেমসে।  

    আক্রমণভাগের পুরনো সমস্যা 
    একই কথা বলতে বলতে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলেছেন ডে। নেপালের বিপক্ষে একগাদা গোলের সুযোগ তৈরি করেও বাংলাদেশ ফিরেছে কোনো গোল না করেই। ডে বলছেন পুরনো কথাই, ক্লাবে খেলোয়াড়রা নিজেদের পজিশনে না খেলে অন্য পজিশনে খেললে এমনটা হতেই থাকবে। যুক্তি অকাট্য, তবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান নেই। 

    দলে একজন জাত স্ট্রাইকারের অভাব তো পুরনো কিছু নয়। সেই সমস্যা প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে। প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেও লাভ হয়নি তাই বাংলাদেশের। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ গোল করেছে মোট দুইটি। এর ভেতর একটি আবার আত্মঘাতী গোল। অর্থাৎ এসএ গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র গোলদাতা মাহবুবুর রহমান সুফিল। 

    নাটকীয় কিছু না হলে আক্রমণের এই পুরনো সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তবে এখানে ডের দায়ও আছে। নতুন কোনো কৌশল খুঁজে বের করতে হবে তাকেই। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার যে দলগুলো রক্ষণ সামলে খেলে তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ভোগান্তিটা স্পষ্টই। নিজেদের কাউন্টার অ্যাটাকের বিপরীতে প্রতিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাক টেক্কা দিতে নতুন কৌশলের দরকার ছিল বাংলাদেশ। সেরকম কিছুই দেখা যায়নি বাংলাদেশের খেলায়। 


    সবকিছুর সঙ্গে ‘বাজে’ রেফারিং… 
    সবকিছুর সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্তও। মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচের ২০ মিনিটে বারপোস্টে লেগে ফেরত আসার পর বল জালেই ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন নাবিব নেওয়াজ জীবন। এর পর অদ্ভুত এক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন রেফারি। গোল বাতিল করে দিয়েছেন কর্নার। মালদ্বীপের পর নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের রেফারিং নিয়েও অসন্তোষ আছে জেমি ডের। ম্যাচ শেষে ‘কুখ্যাত’ সেই গোল বাতিলের সঙ্গে  ডে বলছেন এ ধরনের টুর্নামেন্টে যেমন রেফারিং দরকার ছিল তেমনটা হয়নি। ভুটানের কাছে হারের পর অবশ্য ডের এ ধরনের কথা অজুহাতের মতোই শোনাবে। তবে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত পক্ষে গেলে হয়ত বাংলাদেশের ভাগ্য কিছুটা হলেও বদলাতে পারত। সব ঝামেলার সঙ্গে তাই তাই এই ছোট ছোট ব্যাপার গুলোও ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে।    

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন