• লা লিগা
  • " />

     

    রদ্রিগো মরেনো, বার্সার সমাধান নাকি সমস্যা?

    স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড রদ্রিগো মরেনোকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে বার্সেলোনা। ইনজুরিতে লুইস সুয়ারেজ লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে পড়ার পর বার্সেলোনা দলবদলের বাজারে সচেষ্ট হবে সেটা একরকম অনুমিতই ছিল। শীতকালীন দলবদলে অবশ্য এর আগে বার্সার  সঙ্গে অন্য কোনো খেলোয়াড়ের ব্যাপারে গুঞ্জন শোনা যায়নি এতোটা।  বার্সা প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া বার্তোমেউও নিশ্চিত করেছেন, কোচদের পছন্দের তালিকায় নাম আছে ভ্যালেন্সিয়ার রদ্রিগোর।  

    স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যমের কথা সত্যি হলে রদ্রিগো হবেন বার্সার নতুন খেলোয়াড়। তবে তিনি কতোখানি কার্যকরী হবেন সেটা নিয়ে সংশয় থাকতেই পারে।

    রদ্রিগো কে?
    ব্রাজিলে জন্ম হলেও খেলেন স্পেন জাতীয় দলের হয়ে। ফ্লামেঙ্গোতে ক্যারিয়ার শুরু করা রদ্রিগো রিয়াল মাদ্রিদের বয়সভিত্তিক দলে যোগ দিয়েছিলেন ২০১০ সালে। মূল দলের হয়ে অবশ্য খেলা হয়নি তার। বেনফিকা, বোল্টন ঘুরে ২০১৫ সালে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ভ্যালেন্সিয়াতে। ২০১৮ সালে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন রদ্রিগো। 

    সুয়ারেজের রিপ্লেসমেন্ট?
    মেসি, সুয়ারেজ, গ্রিযমান- বার্সেলোনার আক্রমণ ত্রয়ী একসঙ্গে খেলেছেন মাত্র অল্প কিছুদিন। সাফল্য-ব্যর্থতার হিসেব তাই এখনই করা সম্ভব নয়। তবে এই ত্রয়ী একসঙ্গে খেললে আন্টোয়ান গ্রিযমানকে তার স্বভাবসুলভ মূল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলানো হয়নি। সেটি গ্রিযমানের পারফরম্যান্সের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। ওয়াইড স্পেস থেকে গ্রিযমান কতোখানি কার্যকরী সেটা নিয়ে তাই ধোঁয়াশা থাকছেই।  

    সুয়ারেজের ইনজুরির পর নতুন কোচ কিকে সেতিয়েনের অধীনে আনসু ফাতি ও মেসিকে দুই পাশে খেলিয়ে গ্রিযমানকে মাঝে খেলানোর একটি চেষ্টা দেখা গেছে বার্সার খেলায়। সে সমন্বয়ও সেভাবে ছন্দ তুলতে পারেনি। 

    রদ্রিগো মূলত নাম্বার নাইন নন। যথেষ্ট স্পেস দরকার হয় তার, গতি আছে- সেটা দিয়েই ডিফেন্ডারদের টপকে যেতে ভালোবাসেন। ফিনিশিংয়েও ধার আছে রদ্রিগোর খেলায়। সেক্ষেত্রে রদ্রিগো আসলে হতে পারেন ফাতির রিপ্লেসমেন্ট। আপাতত সুয়ারেজের অভাবটা রদ্রিগোকে দিয়ে বার্সা মেটানোর চেষ্টা করলে সেটা অবাক করার মতোই হবে। 

    রদ্রিগোর ভালো-মন্দ  



     

    আপাততদৃষ্টিতে আপনি ভাবতে পারেন রদ্রিগোকে কিনে আক্রমণভাগে স্কোয়াড ডেপথ বাড়াতে চাইছে বার্সা। তাতে তরুণ ফাতির ওপরও চাপ কমার কথা। 

    রদ্রিগো ড্রিবলিংয়ে ভালো, দ্রুত গতির হওয়ায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারেন এক মুহুর্তে। তবে সামনে যথেষ্ট স্পেস না পেলে সেই খেল অবশ্য দেখাতে পারেননা। যে দলগুলো রক্ষণে বেশি মনোযোগী তাদের বিপক্ষে তাই নিয়মিত ভুগতে হয় রদ্রিগোকে। একই কারণে আবার কাউন্টার অ্যাটাকে দ্বিগুণ ধারালো স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

    এই মৌসুমে অবশ্য ছন্দ পতন হয়েছে রদ্রিগোর। লা লিগায় ১৮ ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইটি গোল করতে পেরেছেন ২৮ বছর বয়সী। রদ্রিগো তার সেরা মৌসুমটি কাটিয়েছিলেন ২০১৭-১৮ তে। লা লিগায় ৩৭ ম্যাচে ১৬ গোলের সঙ্গে ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন স্পেনের বিশ্বকাপ দলেও। তবে গত দুই মৌসুম ধরে সেই ধারাটা আর টেনে আনতে পারেননি রদ্রিগো। পারফরম্যান্সের যখন নিম্নগামী তখনই কেন রদ্রিগো? বার্সা সমর্থকেরা সে প্রশ্ন তুলতেই পারেন।