• ক্রিকেট, অন্যান্য
  • " />

     

    মাশরাফি এখন অবসরের কথা ভাবতে পারে : গিবসন

    গত বিশ্বকাপের পর থেকেই মাশরাফি বিন মর্তুজার অবসর নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি থেকে আগেই অবসর নিয়েছেন, গত মার্চে ওয়ানডে অধিনায়কত্বকেও বিদায় বলেছেন তিনি। তবে এবার মাশরাফির ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় দলের বোলিং কোচ অটিস গিবসন।

    সোমবার দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গিবসন ইঙ্গিতটা দিয়েছেন, “মাশরাফির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দারুণ। সে নিজেকে এবং দেশকে অনেক গৌরব এনে দিয়েছে। ২০২৩ সালে আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যেকোনো কোচ এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করে দেবেন। রাসেল-ও (জাতীয় দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো) হয়ত এই বিষয়টি নিয়েই ভাবছে এখন। পেসার হিসেবে হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শফিউল ইসলাম, এবাদত হোসেনদের নিয়েই সে পেস লাইনআপ সাজাতে চাইবে। এবাদত এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলেনি। আর ফিট হয়ে উঠলে তাসকিন আহমেদ এবং খালেদ আহমেদও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এছাড়া হাসান এবং মেহেদি হাসান রানাদের মতো আরও অনেক তরুণ ক্রিকেটার রয়েছে দেশে।”


    আর এতো তরুণের ভিড়ে কোচের আগামী বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তাই মাশরাফির জায়গাটা বুঝতে পারছেন না সাবেক প্রোটিয়া কোচ গিবসন, “যদি রাসেল এখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে দল সাজায়, তাহলে সেই পরিকল্পনায় মাশরাফি কী ভূমিকা পালন করবে তা নিয়ে আমি অনিশ্চিত। আমার কাছে মনে হয় এখন তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের সময় হয়েছে। সে ভিন্ন উপায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ক্রিকেট জ্ঞান তরুণদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে পারে। আর সেটা করার জন্য তার খেলাটা জরুরী নয়।” জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে গিবসনের আগে কেউ মাশরাফির অবসর নিয়ে এতো খোলাখুলিভাবে মন্তব্য করেননি।

    তরুণ পেসারদের নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণের কথাও জানিয়েছেন গিবসন, “এবাদত ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে, এটা দেখে আমি বেশ খুশি হয়েছি। এছাড়া তাসকিনের সাথে আমার কথা হয়েছে, সেও খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে আমার আস্থা আছে। তার মাঝে বাংলাদেশের সেরা বোলার হয়ে ওঠার মতো প্রতিভা আছে। আমার তাকে নিয়ে অনেক আশা। তার মাঝে শেখার প্রবল আগ্রহ আছে, অ্যাকশনও দারুণ। আগামী কয়েক বছরে সে নিজের প্রতিভা কতটা কাজে লাগাতে পারে, সেটা দেখার বিষয়।”

    “বাংলাদেশে পেস বোলারদের স্কিল আছে, তবে মূল ঘাটতি অভিজ্ঞতায়। ঘরোয়া ক্রিকেটেই যা একটু খেলার সুযোগ পায়। জাতীয় দলে কোনও ম্যাচে যদি দুজন পেসার সুযোগ পায়ও, তবুও বিপদের সময় অধিনায়করা সোজা স্পিনারের হাতে বল তুলে দেন। এমন অবস্থায় পেসাররা চাপের মাঝে বোলিং করার সুযোগই পান না। গল্পটা বদলে যায় বিদেশে খেলতে গেলে। সেখানে পেসারদের বেশ বোলিং করতে হয়, সেটাও আবার অনবরত চাপের মাঝে। সেখানে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় ম্যাচ জেতাতে তারা ভূমিকা রাখতে পারে না। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে গভীরভাবে নজর দেওয়া উচিৎ।”