• বুন্দেসলিগা
  • " />

     

    ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে টানা অষ্টম শিরোপা দেখছে বায়ার্ন মিউনিখ

    ফুলটাইম
    বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ০-১ বায়ার্ন মিউনিখ


    বাংলাদেশে বসে খেলা দেখে থাকলে টেলিভিশন ছেড়ে আপনি হয়ত থতমত খেয়ে গেছেন। এতো দর্শক এলো কোথা থেকে? এরপর ভুল ভেঙেছে। দেখেছেন গ্যালারি আছে আগের মতোই ফাঁকা। দুয়ো, হৈচৈ সব ‘নকল’।  সিগন্যাল ইদুনা পার্কের ৮৮ হাজার সমর্থকের অভাব মিটিয়েছেন একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। মাঠের খেলোয়াড়দের কানে পৌঁছায়নি সেই শব্দ। বদলে আপনি পেয়েছেন ফুটবল ম্যাচের পুরোনো 'তৃপ্তি'। তবে ডর্টমুন্ড সমর্থন করে থাকলে হতাশই হওয়ার কথা আপনার। বায়ার্ন মিউনিখ জয়ের সঙ্গে সম্ভবত শিরোপাটাও নিয়ে ফিরল তারা। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলের লড়াইয়ে জিতে বায়ার্ন এখন ৭ পয়েন্টের লিডে। বুন্দেসলিগায় ৭ ম্যাচ বাকি থাকতে টানা অষ্টম শিরোপা হাতছানি দিচ্ছে বায়ার্নকে।

    ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন জশুয়া কিমিখ। বিরতির দুই মিনিট আগে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ চিপে চোখ ছানাবড়া করা এক গোল করেছেন কিমিখ। জাতে ফুলব্যাক হলেও কিমিখের গোলে ছিল লিওনেল মেসি 'মার্কা' ছায়া। ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক রোমান বুর্কির পজিশন ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু উড়ে আসা স্বল্প গতির শট ঠেকাতে আরেকটু মুন্সিয়ানা দেখাতে পারতেন হয়ত। কিমিখের চোখে লেগে থাকার মতো গোলে তাই বুর্কির ভুলটাও ছিল চোখে পড়ার মতো।



    ডের ক্ল্যাসিকেরের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই হুলিয়ান ব্রান্ডটের শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেছিলেন জেরোম বোয়াটেং। ডর্টমুন্ডের অমন শুরু অবশ্য সময় বাড়ার সঙ্গে মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়। বায়ার্নই এরপর তোপ দেখিয়েছে। ১৮ মিনিটে একাদশে ফেরা সার্জ গ্যানাব্রির শটও গোললাইন থেকে ফিরেছে। এবার ম্যানুয়েল আকাঞ্জি বাঁচিয়েছিলেন ডর্টমুন্ডকে।

    গ্যানাব্রি ফিরেছিলেন বায়ার্নের একাদশে। তবে জেডন সানচো আরও একবার ছিলেন বেঞ্চেই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য ব্রান্ডটের জায়গায় মাঠে নেমেছিলেন সানচো। ম্যাচে ফিরতে হালান্ডের আর সানচো প্রভাব ফেলতে পারতেন। ৭১ মিনিটে সানচোর এক ক্রসে পা ছোঁয়ানোর চেষ্টা করতে গিয়েই কপাল গিয়েই কপাল পুড়েছে হালান্ডের। এর পরপরই হালান্ড মাঠ ছেড়েছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ১৯ বছর বয়সীর প্রথম ক্ল্যাসিকেরটা তাই স্মরণীয় হয়ে থাকার উপলক্ষ্য পায়নি। অন্যপ্রান্তে রবার্ট লেভানডফস্কিও দ্যুতি ছড়াতে পারেননি ততোক্ষণ পর্যন্ত। নিজের খারাপ দিনেও অবশ্য গোল প্রায় পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ৮২ মিনিটে তার বক্সের বাইরে থেকে করা শট ফেরত এসেছে বারপোস্টে লেগে।  হালান্ড আর লেভানডফস্কির প্রথম লড়াইটা তাই শেষ পর্যন্ত ম্যাড়মেড়েই হয়েছে একরকম।

    ডর্টমুন্ডের দুই উইংব্যাক রাফায়েল গেরেরো আর আশরাফ হাকিমি বেশিরভাগ সময়টাতেই ছিলেন রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত। আক্রমণভাগে এই দুইজনের সাহায্য ছাড়া ডর্টমুন্ডকেও মনে হয়েছে অসহায়। আর  এর আগে বায়ার্নের লেফটব্যাক আলফোন্সো ডেভিসেরর দুর্দান্ত গতির ট্র্যাকব্যাকের কাছেও বেশ কয়েকবার হার মেনেছেন হালান্ডরা। বায়ার্নের ৬ শট অন টার্গেটের বিপরীতে ডর্টমুন্ড ৫ বার অন টার্গেটে বল রাখলেও শেষ পর্যন্ত তাই আর লাভ হয়নি।

    এই নিয়ে বুন্দেসলিগায় টানা তৃতীয়বারের মতো ডর্টমুন্ডকে হারালো বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচ শেষে ফাঁকা মাঠে কিমিখের চিৎকার বুঝিয়ে দিয়েছে এই জয়ের মাহাত্ম্য। বুন্দেসলিগায় টানা ৮ বার শিরোপা ধরে রাখার নিদর্শন তো নেই! বাকি রাস্তাটা এবার স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছে হান্সি ফ্লিকের দল।