• ক্রিকেট, অন্যান্য
  • " />

     

    'ভারতের ইতিহাসসেরা অলরাউন্ডার হতে পারতাম', আক্ষেপ ইরফান পাঠানের

    ক্যারিয়ারের পরের দিকে আরেকটু সমর্থন পেলে ‘ভারতের ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডার’ হয়ে ওঠার সামর্থ্য ছিল তার, এমন মনে করেন ইরফান পাঠান। দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে সেসবের স্বীকৃতি মেলেনি বলেও ধারণা তার। 

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঠানের আগমণ ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। টিন-এজার হিসেবেই অভিষেক হয়েছিল তার, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে। তবে টেস্ট ক্যারিয়ার থমকে গেছে ২৯ টেস্টেই, ৫ বছরের একটু বেশি সময়ের মাঝেই। ওয়ানডেতে খেলেছেন ২০১২ সাল পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিও তাই। বয়স ২৮ বছর পূর্ণ করার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শেষ হয়ে গেছে তার। 

    রেডিফকে দেওয়া সাক্ষাতকারে যা বলেছেন, তাতে স্পষ্ট পাঠানের আক্ষেপটা, “অর্জনের দিক দিয়ে আমার আরও অনেক কিছু থাকতে পারতো। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, অন্তত ওয়ানডেতে ভারতের ইতিহাসসেরা অলরাউন্ডার হতে পারতাম আমি। সেটা হয়নি, কারণ ২৭ বছর বয়সেই ভারতের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছি আমি।” 

    “ইংল্যান্ড পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের মতো ক্রিকেটারকে আমি ৩৫-৩৭ বছর পর্যন্ত খেলতে দেখি। অবশ্যই সেখানে কন্ডিশন আলাদা। তবে ৩৫ পর্যন্ত খেলতে পারলেও অনেককিছুই ভাল হতে পারতো। তবে এখন আর কিছু বাকি নেই। সব শেষ।” 

    ওয়ানডেতে শুরুতে নতুন বল হাতে নিলেও পরের দিকে পুরোনো বলেই বোলিং করতে হয়েছে তাকে। দলে যখনই খেলছেন, নিজেকে ম্যাচ-উইনার দাবি করেছেন তিনি, “যেসব ম্যাচই খেলেছি, ম্যাচ-উইনার হিসেবে খেলেছি। এমন একজন হিসেবে খেলেছি, যে দলে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। যদি একটা উইকেটও নিই-- দলের প্রথম উইকেটটা-- সেটাও দলের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব রেখেছে। যে ইনিংসই ব্যাটিং করেছি, সেটা পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এসবই আমার সারাজীবনের অর্জন।” 

    সব মিলিয়ে ২৯ টেস্টে ৩১.৫৭ গড়ে ১১০৫ রান ও ১০০ উইকেট পাঠানের, ওয়ানডেতে ২৩.৩৯ গড়ে ১৫৪৪ রানের বিপরীতে ২৯.৭২ গড়ে আছে ১৭৩ উইকেট। 

    তবে সংখ্যা দিয়ে বিচার করার সময় দলে তার ভূমিকার কথা বিবেচনা করা হয় না, এমন মনে করেন তিনি, “প্রথম বদলি হিসেবে বোলিংয়ে আসলে আপনাকে কোচ ও অধিনায়কের পরিকল্পনা অনুযায়ী রক্ষণাত্মক বোলিং করতে হবে। রান আটকানোর ভূমিকা পালন করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আপনি বেশি রান না দিয়ে ফেলেন। আপনার ভূমিকা আলাদা হলে সংখ্যাও আলাদা হবে।”  

    “আমার আসলে মনে হয়, এটা নিয়ে লোকের কথা বলা উচিৎ ছিল। তাদের বলা উচিৎ ছিল, ‘হ্যাঁ, ইরফান উইকেট নিত, তবে এখন তাকে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে প্রথম বদলি বোলার হিসেবে ব্যবহার করছি আমরা, যে সাত-আটে ব্যাটিং করতে পারে, যেটা এখনকার ওয়ানডে ক্রিকেটে খুবই প্রয়োজন।’ যদি কোনও অলরাউন্ডার ওভারে ছয়ের মতো রান দেয়, প্রতি ম্যাচে একটি করে উইকেট নেয়, তাহলে আপনি খুশি থাকেন এখন। কিন্তু ইরফান পাঠানকে নিয়ে খুশি হতে পারেননি। কেন?” 

    সে প্রশ্নটা এখন করে অবশ্য আর সে অর্থে লাভ নেই এ বছরের জানুয়ারিতে ক্রিকেটকে বিদায় বলা পাঠানের, আক্ষেপটাও হয়তো এ কারণেই তার। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন