• ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফর ২০২০
  • " />

     

    ছবি কথা কয় : ওয়ার্ন, কেপি, হ্যাম্পশায়ার ও স্লিপ-কর্ডন

    ছবিতে মুহুর্ত থমকে দাঁড়ায় বা বন্দী হয়ে থাকে। ছবি মানে গল্প। ছবি সে গল্পের অনেক কিছু বলে, অনেক কিছু বলে না। তবে সে ছবির সঙ্গে জড়িয়ে যায় সেসব গল্প। আমাদের নতুন সিরিজে ছবি নিয়ে গল্প বলার চেষ্টা করেছি আমরা, হয়ত সে গল্প এ ছবিতে আছে, কিংবা নেই। অথবা স্রেফ আমরা দেখি না। 


    দুজন দাঁড়িয়ে। পেছনদিক থেকে তোলা ছবিতে জার্সি নাম্বার আর নাম স্পষ্ট। হাতজোড়া দুজনেরই সামনে ভাঁজ করে রাখা, পা পিটি-ক্লাসের আরামে দাঁড়াও-এর বর্ধিত সংস্করণ। দুজন সমান্তরাল নয় অবশ্যই, একজন আরেকজনের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে। বাঁ দিকের ছায়া দীর্ঘ হয়নি খুব একটা তাদের। স্লিপ-কর্ডনের রীতি মেনে চললে বুঝা যায়, বাঁহাতি কেউ ব্যাটিংয়ে। ইয়ান ওয়ার্ড? মাইকেল ইয়ার্ডি? নাকি সাসেক্সের শেষ ব্যাটসম্যান জেসন লিউরি। 

    উৎকন্ঠা? উদ্বেগ? অপেক্ষা? একঘেয়েমি? কী খেলা করছে ওই দুজনের ওপর? দাঁড়ানোর ভঙ্গি দেখে নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই। 

    নাম্বার ২৩, শেন ওয়ার্ন। নাম্বার ২৪, কেভিন পিটারসেন। সাসেক্সের ঘরের মাঠ হোভ। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন ওয়ানের ম্যাচ। পিটারসেনের হ্যাম্পশায়ার অভিষেক। ওয়ার্ন তার অধিনায়ক। ২০ মে, ২০০৫। 

    এর আগে-পরের ছবি দেখে মনে হয়, ওয়ার্ন কিছু একটা বুঝাচ্ছেন পিটারসনকে। কোথায় দাঁড়াতে হবে, বা কীভাবে। গেটি ইমেজে ওই ম্যাচের ওই ইভেন্টে ২২টি ছবি আছে। অন্তত ১৬টি ছবিতে আছেন ওয়ার্ন, ৯টিতে পিটারসেন। পিটারসেন সবকটি ছবিতেই আছেন ওয়ার্নের সঙ্গে, একই ফ্রেমে। 


    ___________ 


    ওল্ড ট্রাফোর্ডে এক বৃষ্টিস্নাত দিনে শেন ওয়ার্ন নিজের অমরত্বের দেয়ালের শক্ত একটা গাঁথুনি দিয়েছিলেন। পরে কাউন্টিতে তার খেলার কথা ছিল ওল্ড ট্রাফোর্ডেই, ল্যাঙ্কাশায়ারে। প্রায় চুক্তি করেও ফেলেছিলেন। পরে ইংল্যান্ডে তার নতুন এজেন্ট, আর তার সূত্রে পাওয়া ‘আরও ভাল’ প্রস্তাব, সঙ্গে পুরোনো বন্ধু রবিন স্মিথ-- ওয়ার্ন গেলেন রোজ বোউল, বা এখনকার এজিয়েস বোউলে-- হ্যাম্পশায়ারে। 

    ২০০০ সালে ডিভিশন টু-তে ছিল হ্যাম্পশায়ার। পরের মৌসুমে অ্যাশেজ, এরপর ব্যক্তিগত কারণ, তার পরের মৌসুমে ড্রাগ কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ ওয়ার্নের কাউন্টি খেলা হলো না আর। ২০০৪ সালে হ্যাম্পশায়ারেই ফিরলেন ওয়ার্ন, এবার অধিনায়ক হয়ে। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচ তাদের। রাস্তায় সতীর্থদের মুখে শুনলেন তিনি একটা নাম-- কেভিন পিটারসেন। অবশ্য নামের সঙ্গে ‘দুর্নাম’-ও শুনলেন। রগচটা, তবে মারতে পারেন খুব। 

    ম্যাচে দুই দফা ওয়ার্নের বলে নিজেকে সরিয়ে নিলেন পিটারসেন। এবার সামনে এগিয়ে ভাল-মন্দ শুনিয়ে এলেন ওয়ার্ন। দুই বল পর ব্যাট-প্যাডে আউট পিটারসেন। ওয়ার্ন তাকে বিদায় জানালেন ইংরেজি এফ বর্ণের শব্দটা দিয়ে। “কেভিন পিটারসেন? তেমন কেউ না”, ওয়ার্ন ভেবেছিলেন। 
     


    ©রিচার্ড হিথকোট/গেটি ইমেজ


    সে বছরের শেষ দিকে ইয়ান বোথামের ফোন পেলেন তিনি। পিটারসেন ওয়ার্নের অধীনে খেলতে চান, বোথাম তাকে বলেছেন, খেলা শিখতে হলে ওয়ার্নের চেয়ে ভাল কাউকে পাবে না। বোথাম তখন পিটারসেনের ম্যানেজার। ওয়ার্ন পিটারসেনকে ফোনে বললেন, তার নামে খুব একটা ভাল কিছু শোনেননি, অন্তত ‘টিমম্যান’ হিসেবে। তবে কারও কথায় সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। নিজে বাজিয়ে দেখতে চান একবার। 

    হ্যাম্পশায়ার কর্তাদের নিয়ে ওয়ার্ন গেলেন পিটারসেনের সঙ্গে মিটিংয়ে। তাদের সবার পরনে প্যান্ট, জ্যাকেট। পিটারসেন এলেন স্লিভলেশ শার্ট আর শর্টস পরে। নটিংহ্যামশায়ারে মন টিকছে না তার। পরিবর্তন করতে চান চারপাশের আবহটা। 

    পিটারসেন এলেন হ্যাম্পশায়ারে। ওয়ার্ন বললেন, নতুন করে শুরু করতে হবে সবকিছু।  

    ___________ 


    পিটারসেন ততদিনে ইংল্যান্ডজুড়ে রান করে বেড়াচ্ছেন। 

    এর আগে জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে এসেছেন, মায়ের সুবাদে বৃটিশ পাসপোর্ট ছিল তার। প্রথমে বলেছিলেন, কখনোই দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে যাবেন না তিনি। কদিন পর নটিংহ্যামশায়ারের ‘আকর্ষণীয় চুক্তির প্রস্তাব’ উপেক্ষা করতে পারলেন না তিনি। পিটারসেনের ‘ইংলিশ’ হয়ে ওঠার লড়াই শুরু হলো। নটসদের হয়ে খেললেন চার মৌসুম। তবে শেষ মৌসুমটা খেলেছিলেন-- তার ভাষায়-- 'জোর করেই'। 

    ২০০৫ সালে গেলেন ওয়ার্নের অধীনে হ্যাম্পশায়ারে, ততদিনে যারা উঠে গেছে ডিভিশন ওয়ানে। 

    আগের মৌসুমে মাইকেল ক্লার্ক খেলে গেছেন সেখানে। ক্লার্কের সঙ্গে যা করেছিলেন, পিটারসেনের সঙ্গে ওয়ার্ন সেটিই করলেন। খেলার সবকিছু শেয়ার করা, স্লিপে দাঁড়িয়ে কথা বলে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মতটা জেনে নেওয়া। দুজনকে নিজের অধীনে পেয়ে খুশি হয়েছিলেন ওয়ার্ন। 

    ‘পাপ’ আর ‘কেভ’, ওয়ার্নের কাছে এ দুজন ক্রিকেটারের জন্য আলাদা একটা জায়গা আছে।

    ___________ 

     

    ‘উই উইশ ইউ ওয়্যার ইংলিশ’। 

    শেন ওয়ার্ন হাসেন। কখনও কানের কাছে হাত এনে ইশারা করেন, তিনি শুনতে পাচ্ছেন না। কখনও মাথার হ্যাটটা হাতে নিয়ে অভিবাদন জানান দর্শকদের। ইংলিশ দর্শকরা কোরাস ধরেছেন, “ওয়ার্ন যদি ইংলিশ হতেন…”।

    ২০০৫ অ্যাশেজের শেষ টেস্ট। ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ার্নের শেষ। সেই ইংলিশ গ্রীষ্ম, সেই সিরিজ অভাবনীয় সব মুহুর্ত উপহার দিয়েছে। ৪ টেস্টের পরও অ্যাশেজ ঝুলছে সুতোর ওপর। ২-১-এ এগিয়ে ইংল্যান্ড। ১৬ বছরের বেশি-- কিংবা এক মহাকাল-- অপেক্ষা চলছে তখন ইংল্যান্ডের, অ্যাশেজ ফিরে পাওয়ার। 
     

    আরও পড়ুন- 'শচীন হু?'


    সবকিছু এসে ঠেকেছে ওভালে। ওয়ার্ন আবারও চড়াও হয়েছেন ইংলিশদের ওপর, প্রথম ইনিংসে। অবশ্য অ্যান্ড্রিউ স্ট্রাউসের সেঞ্চুরি প্রতিরোধ গড়েছে। তাকে ফিরিয়ে আরেকবার ৫ উইকেট পেয়েছেন ওয়ার্ন। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড লিড নিয়েছে ৬ রানের। বৃষ্টি লুকোচুরি খেলেছে, ওভালে নাটক জমেছে। কখনও অস্ট্রেলিয়ানরা মেঘলা আকাশে সানগ্লাস পরে নেমেছেন, ইংলিশ দর্শকরা মাথায় ছাতা ধরেছেন, অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা খুলে ফেলেছেন শার্ট। আবেগের বহিঃপ্রকাশের বৈপরীত্য খেলা করছে শুধু। 

    দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭ রানে ১ উইকেটে ব্যাটিং করছিল ইংল্যান্ড। হুট করেই গ্লেন ম্যাকগ্রার কবলে পড়লো তারা। ম্যাকগ্রা হ্যাটট্রিকের সামনে। 

    এলেন পিটারসেন। 

    ___________ 

     

    অ্যাশেজের আগের বছরই ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয়ে গিয়েছিল পিটারসেনের। জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এরপর কীসের যেন রাগ ঝেড়েছেন। পিটারসেন তখন ‘ইংলিশ’ হওয়ার চেষ্টা করছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা দুয়ো দিচ্ছে। শেষদিকে এসে অবশ্য ঠিকই অভিবাদন জানিয়েছিল তারা। 

    বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে নেওয়া হয়নি, ব্রিস্টলে অস্ট্রেলিয়ানদের ওপর ঝেড়েছেন আরেকদফা রাগ। হা করে থাকা অস্ট্রেলিয়ানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন ম্যাচটা। ওয়ার্নের মতে, পিটারসেন এমন ক্রিকেটার, যিনি টানা ৩-৪ ম্যাচ খারাপ করবেন, এরপর কোথা থেকে এসে ম্যাচ বের করে নিয়ে যাবেন। 

    লর্ডসে হারা ম্যচে জোড়া ফিফটি করেছেন, ওভালে শেষ ম্যাচে সিরিজ নির্ধারণী আরেকটা মুহুর্তের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি। অধিনায়ক মাইকেল ভনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কী করবেন। ভন বলেছিলেন, “পিষে ফেলো”। 
     


    বাঁচলেন পিটারসেন


    ম্যাকগ্রার হ্যাটট্রিক বলটা কাঁধে লেগে স্লিপে গেল, বিলি বাউডেনের ভাল এক সিদ্ধান্তে বেঁচে গেলেন পিটারসেন। তবে নড়বড়ে তিনি। ওয়ার্নকে ফ্রন্টফুটে খেলতে এসে এজড হলেন, বল অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে ফাঁকি দিয়ে তার প্যাডে লেগে গেল উল্টোদিকে ঝুঁকে পড়া ম্যাথু হেইডেনের কাছে। আরেকবার বাঁচলেন। 

    ব্রেট লির ফুললেংথের বলটা ড্রাইভ করলেন। এজড হলেন। এর আগে একটা চারে পিটারসেনের দুই অঙ্ক পেরিয়েছেন সবে। ইংল্যান্ডের লিড তিন অঙ্কে যায়নি তখনও। অ্যাশেজ এদিক-ওদিক করছে তখনও। পিটারসেন সবকিছু পেতে গিয়ে আবার সবকিছু হারিয়ে বসতে ধরেছেন। 

    ___________ 

    একই ফ্রেমে পিটারসেন ও ওয়ার্ন। 

    প্রথম স্লিপে ওয়ার্ন। মাথায় হ্যাট। ডানহাতে মেয়ে ব্রুকের দেওয়া রিস্টব্যান্ড, সে সিরিজে ওয়ার্ন সেই রিস্টব্যান্ডটায় চুমু খেয়েছেন অনেকবার। তখনকার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় চুকে গেছে তার, সন্তানদের সঙ্গে এনেও অস্ট্রেলিয়া ফিরে গেছেন তার স্ত্রী। মেয়ে রিস্টব্যান্ডটা একলা বাবাকে দিয়ে গেছে, যেটায় লেখা-- ‘স্ট্রেংথ’। 

    পিটারসেনের এজটা ঠিক তার বরাবর। বলের ট্র্যাজেকটরি এমন, ওয়ার্ন আয়েশ করে হাতে পুরবেন। পিটারসেন পেছনে তাকিয়ে, অ্যাডাম গিলক্রিস্টও তাই। গিলক্রিস্ট একটা লাফ দিলেন একটু পর। ওয়ার্ন পেছন ছুটেছেন। হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া বলটা ধরতে। বারকয়েক বলটা নেড়েচেড়ে দেখলেন, এরপর ছুঁড়ে দিলেন। ব্রেট লির মাথায় হাত। গিলক্রিস্ট তার স্বভাববশত দুই হাতে গ্লাভস ঠিক ঠিক করতে যেন অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে থাকলেন। 

    পিটারসেন পেছন ফিরে আছেন, উৎকন্ঠার ভাবটা স্পষ্ট এই ফ্রেমে। 
     


    'ওয়েল প্লেইড, কেপি'


    ওয়ার্ন বুঝলেন, পিটারসনেকে আটকানোর উপায় নেই আর। ম্যাকগ্রা, লি, টেইট। বা ওয়ার্ন, পিটারসেনের হাত থেকে রেহাই পেলেন না কেউ। লির প্রায় ৯৫ মাইলের গতির বলকে পুল করে ছয় মারলেন, ওয়ার্নকে পাঠালেন লং অফে। 

    ম্যাকগ্রার বলে যতক্ষণে বোল্ড হলেন, পিটারসেনের নামের পাশে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ১৮৭ বলে ১৫৮। ১৫ চার। ৭ ছয়। কেভিন পিটার পিটারসেনের এক জীবনের ইনিংস। ইংল্যান্ডের লিড ৩১৪। একটু পর ওয়ার্ন ইংলিশ দর্শকদের কাছ থেকে বিদায় নেবেন। আর অ্যাশেজ ইংল্যান্ডের হবে। 

    আপাতত ওভালের দাঁড়িয়ে দেওয়া অভিবাদনের জবাব দিতে ব্যস্ত ‘কেপি’। চলতি পথে থামতে হলো একটু। ওয়ার্ন ছুটে এসেছেন। এক হাতে হ্যাটটা খুলে আরেক হাতে হ্যান্ডশেক করে গেলেন।

    ৫ টেস্টে ১৯.৫২ গড়ে ৪০ উইকেট নিয়েছিলেন ওয়ার্ন, সঙ্গে করেছিলেন ২৪৯ রান। ক্যারিয়ারে এর চেয়ে ভাল অ্যাশেজ যায়নি তার। তবে ওভালে তিনি অভিবাদন জানিয়ে গেলেন পিটারসেনকে। 

    ___________ 


    ওয়ার্ন পিটারসেনকে হ্যাম্পশায়ারে আলাদা চোখে দেখতেন।  সে সিরিজেও দেখেছিলেন। পুরোটা সময়ই তাকে মনে করেছেন ‘স্পেশাল’। তবে তাকে সামলাতে তাকে সম্পৃক্ত করতে হবে দলের সিদ্ধান্ত-গ্রহণে, বুঝাতে হবে তার প্রয়োজনীয়তাটা-- ওয়ার্ন বিশ্বাস করেন সেটা। হয়তো নিজের সঙ্গে কোথাও মিল পেয়েছিলেন তার। 

    ওয়ার্ন হ্যাম্পশায়ারের হয়ে খেলেছেন এরপর আরও ৩ মৌসুম, ২০০৭ সাল পর্যন্ত। ২০০৫ সালে, কেপি যেবার খেলেছিলেন, ২.৫ পয়েন্টের জন্য ডিভিশন ওয়ানের চ্যাম্পিয়নশিপ হারিয়েছিল হ্যাম্পশায়ার। ওয়ার্ন কাউন্টিতে আর কারও হয়ে খেলেননি। ওয়ার্নের কাছে হ্যাম্পশায়ার এখনও ‘বিশেষ’ কিছু। ২০১২ সালে হ্যাম্পশায়ার তাদের মাঠ এজিয়েস বোউলে একটা স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছে ওয়ার্নের নামে। 

    পিটারসেন অবশ্য হ্যাম্পশায়ারে ২০০৫-এর ওই মৌসুমের পর চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছিলেন ১টি ম্যাচ, ওয়ানডে কাপে ২টি। ইংল্যান্ড দলে নিয়মিত হওয়ার পর লন্ডনে সময় বেশি কাটতো তার, বারকয়েক হেলিকপ্টারে চড়েও গিয়েছিলেন হ্যাম্পশায়ারের হয়ে খেলতে। তবে শেষ পর্যন্ত সেসব কাজ করেনি। হ্যাম্পশায়ারে মোট ৭টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি, ৬ বছর ধরে। 

    পিটারসেন পরে পাড়ি জমিয়েছিলেন সারেতে। 
     


    বন্ধু তুমি.../গেটি ইমেজ


    তবে ইংল্যান্ডে তার সময়টা কঠিন হয়ে পড়েছে ধীরে ধীরে। এরপর এসেছে ‘টেক্সটগেট’, কোচ, অধিনায়ক, দলের সঙ্গে ঝামেলা। কখনও ওয়ার্নকে ‘দল থেকে বাদ পড়ার হতাশা জানিয়ে মেসেজ দিতে গিয়ে টুইট করে ফেলেছেন’, কখনও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের ‘আমি এখানে সুখী নই’ ধরনের মেসেজ পাঠিয়েছেন। 

    ২০১৪ সালের পর আর ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা হয়নি তার। ৩৪ বছর বয়সেই থমকে গেছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। তার চেয়ে ভাল গড়ে তার চেয়ে বেশি রান আর কেউ টেস্টে করেননি ইংল্যান্ডের হয়ে, যারা খেলা শেষ করেছেন। তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে মাত্র ১ জনের। ২০০৫ অ্যাশেজ জয়ের পর নিউ ইয়ারস অনার্স লিস্টে ‘এমবিই’ পেয়েছিলেন তিনি। পরে আত্মজীবনীতে বলেছিলেন, শুরুর দিকে ‘বেশি ইংলিশ’ হতে গিয়েছিলেন, যেটি উচিৎ হয়নি। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান, ইংল্যান্ড তার দ্বিতীয় ঘর-- যেখানে তার বসবাস, তার স্ত্রী ও ছেলে ইংলিশ, যেমন তার মা। 

    ২০১৪ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে শুধু হ্যাম্পশায়ার ছাড়ার কারণটা ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি, সেটাও গ্রায়েম সোয়ানের কোনও কথার জবাবে। ২০১৮ সালে নিজের আত্মজীবনীতে শেন ওয়ার্ন আলাদা একটা অধ্যায় রেখেছিলেন হ্যাম্পশায়ারের জন্য। 

    সাউথাম্পটনের সেই মাঠে গেলে এখনও ওয়ার্নের ছায়া পাবেন আপনি। মাঠে স্লিপে দাঁড়ানো ওয়ার্নের ছায়া হয়তো সেখানে পড়ে না আর, তবে শেন ওয়ার্ন স্ট্যান্ডে আলো তো পড়েই। কেপি সেখানে এসেছিলেন, চলেও গেছেন-- তার প্রাপ্তি হয়তো সেখান থেকে কিছু সংখ্যা। আর ওয়ার্নের সঙ্গে ওই বন্ধুত্ব। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন