• ক্রিকেট, অন্যান্য
  • " />

     

    মারা গেলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়া টেস্ট অধিনায়ক ব্যারি জারমান

    মারা গেলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়া টেস্ট অধিনায়ক ব্যারি জারমান    

    মারা গেছেন অস্ট্রেলিয়ার ৩৩তম টেস্ট অধিনায়ক ও সাবেক উইকেটকিপার ব্যারি জারমান। ৮৪ বছর বয়সে ১৭ জুলাই স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে অসুস্থতার পর চলে গেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯টি টেস্ট খেলেছিলেন, তবে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছিলেন ১৯১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। 

    ১৯৫৯ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে অভিষেক হলেও পরের টেস্ট খেলার জন্য ১৯৬২ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাকে। ছয়টি সিরিজে ২৭টি টেস্ট ধরে তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাক-আপ উইকেটকিপার। কুইন্সল্যান্ডের ওয়ালি গ্রাউটকেই উইকেটকিপার হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিল নির্বাচকদের, যদিও গ্রাউটের জুয়া এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল। 

    ১৯৬৬ সালে গ্রাউট অবসর নেওয়ার পরই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পছন্দের উইকেটকিপার হিসেবে দলে জায়গা হয় জারমানের। ১৯৬৮ সালে বিল লরির চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়াকে এক টেস্টে নেতৃত্বও দেন তিনি। হেডিংলিতে সে টেস্ট ড্র করে অ্যাশেজ ধরে রাখে অস্ট্রেলিয়া। 

    জারমান পরের মৌসুমেও খেলেছিলেন। ১৩ মাসের ব্যবধানে ১২টেস্ট খেলার পর মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই অবসর নেন তিনি। অবসরের সময় অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপারদের মাঝে শুধু গ্রাউট ও বার্ট ওল্ডফিল্ডেরই প্রথম শ্রেণিতে জারমানের ৫৬০টির চেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল। ৪৩১টি ক্যাচ নেওয়ার সঙ্গে ১২৯টি স্টাম্পিং ছিল জারমানের। 

     


    ব্যারি জারমান (বাঁয়ে)/এএপি/গার্ডিয়ান


    ক্রিকেট ছাড়ার পর অ্যাডিলেডে একটা স্পোর্টস-স্টোর চালাতেন তিনি। ১৯৯৫ সালে আইসিসি নিরপেক্ষ ম্যাচ রেফারি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনে তাকে। 

    ২০০১ সাল পর্যন্ত ২৫টি টেস্ট ও ২৮টি ওয়ানডেতে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সালে জ্যামাইকায় ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট পিচের বাজে আচরণের কারণে এক ঘন্টার মাঝেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, জারমান রেফারি ছিলেন সে ম্যাচে। ২০০০ সালে সেঞ্চুরিয়নে হ্যান্সি ক্রনিয়ের বিখ্যাত ‘লেদার জ্যাকেট’ টেস্টেও ছিলেন তিনি। জুয়াড়িদের কাছ থেকে ‘লেদার জ্যাকেট’ পেয়ে বৃষ্টিবিঘ্নিত যে ম্যাচে ফল আনার জন্য ইনিংস ‘ফোরফিট’ করেছিলেন তখনকার দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ক্রনিয়ে। 

    গোটা জীবনই জারমান ছিলেন তার ‘সেন্স অফ হিউমার’-এর কারণে বিখ্যাত। তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রিউ সিনক্লেয়ার বলেছেন, “ক্রিকেট হয়েও গ্রীষ্মে কীভাবে বিয়ে করবে, এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল ব্যারিকে। তার জবাব ছিল এমন-- “উম, খেলা সন্ধ্যা ৬টার দিকে শেষ হয়, এরপর ঢের সময় থাকবে বিয়ের জন্য!” সে তার জীবন পুরো উপভোগ করে গেছে, কখনোই নিজের মত প্রকাশে পিছপা হয়নি। তার দৃষ্টিভঙ্গী সবসময়ই ছিল স্বচ্ছ, তার আশেপাশে থাকাটাই ছিল আনন্দের।

    “তার পরিবারের সদস্য-- স্ত্রী গেনোর, সন্তান ক্রিস্টেন, গেভিন, জেসন ও এরিনকে আমরা সমবেদনা জানাই।” 

    জারমানকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট মিস করবে, এমন বলেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান আর্ল এডিংসও।