• ফর্মুলা ওয়ান
  • " />

     

    টাসকান গ্রাঁ প্রি : ৮ টি গাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে বের হয়ে বিজয়ী হ্যামিল্টন

    ইতালির টাসকানি প্রদেশের মাজেলো সার্কিটের ফরমুলা ওয়ান ক্যারিয়ারের উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল টাসকান গ্রাঁ প্রি দিয়ে। কে জানতো মাজেলো সার্কিটের উদ্বোধনী রেসই এমন পাগলাটে আর দুর্ঘটনাময় হবে? দুইটি রেড ফ্ল্যাগ আর আটটি বিধ্বস্ত গাড়ির ধ্বংসস্তুপের মাঝ থেকে বিজয়ীর বেশে বের হয়ে এসেছেন যথারীতি লুইস হ্যামিল্টন। এটা তাঁর ক্যারিয়ারের ৯০তম জয়। ফরমুলা ওয়ানের কিংবদন্তী মাইকেল শুমাখারকে ধরতে আর একটি রেস জিততে হবে তাঁর। পোডিয়ামে তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর মার্সিডিজ টিমমেট ভ্যালটেরি বোটাস এবং রেড বুলের অ্যালেক্স অ্যালবন। থাইল্যান্ডের তরুণ ড্রাইভার আলেক্সান্ডার অ্যালবন-আনুসিনহার এটা প্রথম পোডিয়াম। ২০১২ সালে জাপানিজ গ্রাঁ প্রিতে কামুই কোবায়াশির পোডিয়ামের পর আবার ফরমুলা ওয়ান একজন এশিয়ান ড্রাইভারকে শীর্ষে দেখল। 

    আগের দিন কোয়ালিফাইং এ পোল পজিশান জিতেছিলেন হ্যামিল্টন। তবে পোল পজিশন থেকে রেস শুরু করলেও স্বভাববিরুদ্ধ বাজে স্টার্টের কারণে মার্সিডিজ সতীর্থ বোটাসের পিছে পড়ে যান হ্যামিল্টন রেসের শুরুতেই। তবে বোটাসের এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি কারণ প্রথম ল্যাপ শেষ হওয়ার আগেই দুটি বড় দুর্ঘটনায় ছয়টি গাড়ি রেস থেকে বাদ পড়ে যায়। প্রথম দুর্ঘটনার সূচনা ঘটান দুজন অভিজ্ঞ ড্রাইভার আলফা রোমিওর কিমি রাইকোনেন এবং হাসের রোমেইন গ্রোজন। দুর্ঘটনায় এরা দুইজন পার পেয়ে গেলেও সামনে থাকা রেড বুলের ম্যাক্স ভারস্টাপেন এবং গত সপ্তাহে মনজায় জয় পাওয়া আলফাটাওরির পিয়ের গ্যাজলির ভাগ্য অতটা সুপ্রসন্ন হয় নি। এই দুজনের রেসের ওখানেই ইতি হয়ে যায়, ট্র্যাকে হলুদ পতাকা দেখিয়ে নামানো হয় সেফটি কার। পতাকা হলুদ থেকে সবুজ হওয়ার সময়েই ঘটে দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে ভয়ানক দুর্ঘটনাটি। সবুজ সংকেত দেখেও সামনে থাকা বোটাস গতি বাড়াতে একটু দেরি করে ফেলেছিলেন, এর কারণে পিছের ড্রাইভাররা বিশেষ করে হাসের কেভিন ম্যাগনাসেন পড়ে যান দোটানায়। তিনি সবুজ সংকেত দেখে সাথে সাথে গতি বাড়িয়েও বোটাসের শ্লথ গতি থেকে আবার ব্রেক করেন, এতেই ঘটে যায় তুলকালাম। ম্যাগনাসেনের পিছে থাকা উইলিয়ামসের নিকোলাস লাতিফি কোনমতে তাকে পাশ কাটিয়ে গেলেও ম্যাগনাসেনের গাড়ির ওপর প্রচন্ড গতিতে আছড়ে পড়ে আন্তোনিও জিওভানাজ্জির আলফা রোমিও এবং জিওভানাজ্জির গাড়িকে পিছে থেকে ধাক্কা দেয় কার্লোস সাইঞ্জের ম্যাকলারেন। লাল সংকেত দেখিয়ে ওখানেই রেস থামিয়ে আবার স্টার্টিং গ্রিড থেকে শুরু করা হয়। 


    রেস আবার শুরু হলে হ্যামিল্টন বোটাসকে পিছে ফেলে এগিয়ে যান। পাহাড়ি মাজেলো ট্র্যাক এবং প্রচন্ড গরম আবহাওয়ার কারণে চাকা নিয়ে সমস্যায় ভুগছিলেন বোটাস। হ্যামিল্টনের আগেই পিট করে চাকা বদলে নিতে হয় তাঁকে। তবুও দুই মার্সিডিজ ড্রাইভার অন্যদের থেকে বেশ এগিয়েই ছিলেন, আর তৃতীয় অবস্থানের জন্য লড়াই করছিলেন রেনোঁর ড্যানিয়েল রিকার্ডো, রেসিং পয়েন্টের লান্স স্ট্রোল এবং রেড বুলের অ্যালেক্স অ্যালবন। এর মাঝেই ৪৭তম ল্যাপের দিকে ঘটে রেসের তৃতীয় দুর্ঘটনা। প্রচন্ড গরমের কারণে মোড় নেওয়ার সময় লান্স স্ট্রোলের গাড়ির পেছনের চাকা বিস্ফোরিত হয়ে তাঁর গাড়িকে ছুঁড়ে দেয় ব্যারিয়ারে। স্ট্রোল অক্ষত থাকলেও ব্যারিয়ার ওলটপালট হয়ে যাওয়ায় আবারও লাল পতাকা দেখিয়ে পুনরায় শুরু হয় রেস। 
    রেসের আর ১২ ল্যাপ বাকি থাকতে রিকার্ডোর কাছে একবার দিতীয় স্থান হারিয়েছিলেন বোটাস, তবে দ্রুতই তিনি সেটা পুনরুদ্ধার করেন এবং ঝামেলা ছাড়াই হ্যামিল্টনের পেছনে রেস শেষ করেন। ওদিকে গ্রিডে চতুর্থ অবস্থানে রেস শুরু করলেও, দ্বিতীয় রিস্টার্টের সময় ৭ম অবস্থানে পিছিয়ে যান রেড বুলের অ্যালেক্স অ্যালবন। তবে রেসের শেষ দিকে এসে আবারো চতুর্থ অবস্থান ফিরে ফান এই থাই তরুণ। রেসের তিন ল্যাপ বাকি থাকতে চমৎকার এক চালে রিকার্ডোকে ওভারটেইক করে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম পোডিয়াম নিশ্চিত করে ফেলেন অ্যালবন। রেস শেষে তিনি পান দিনের সেরা ড্রাইভারের সম্মান। ওদিকে নিজেদের ১০০০তম ফরমুলা ওয়ানের ফলাফল ফেরারির জন্য ছিল ভুলে যাওয়ার মত। লেক্লের শেষ করেছেন ৮এ এবং ভেটেল ১০এ শেষ করে কোনমতে ১টি পয়েন্ট জুটিয়েছেন।


    প্রতি রেসেই ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্সের পক্ষে সোচ্চার হ্যামিল্টন আজ ব্রিওনা টেইলরের হত্যার বিচারের দাবী করা টিশার্ট পরে এসেছিলেন। রেস শেষে রিস্টার্টের কৌশলের ব্যাপারে ফরমুলা ওয়ান কর্তৃপক্ষের বেশ সমালোচনা করেন তিনি। হ্যামিল্টন বলেন দ্রুতই এ ব্যাপারে কিছু না করা হলে এমন দুর্ঘটনা আরো হবে। এ ব্যাপারে অ্যালবন এবং বোটাসও একই সুরেই কথা বলেছেন। 
    এবার দুই সপ্তাহের একটা ছুটি পাবেন ফরমুলা ওয়ানের ড্রাইভাররা। এরপর সোচিতে রাশিয়ান গ্রাঁ প্রি দিয়ে ফরমুলা ওয়ান ফিরবে সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখে। শুমাখারের অনতিক্রম্য রেকর্ডটা সোচি অটোড্রোমেই ছুঁয়ে ফেলবেন হ্যামিল্টন এমনটাই আশা করা হচ্ছে।   

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন