• ক্রিকেট, অন্যান্য
  • " />

     

    শাহিন আফ্রিদির চারে চার ও ছয় বোল্ডের 'ইতিহাস'

    সেই ওভারের প্রথম উইকেটটা পাওয়ার পর যেন স্বস্তিই প্রকাশ করলেন বেশি। উইকেট পাচ্ছিলেন না এ টুর্নামেন্টে, এদিন নিজের শেষ ওভার করতে এসে পেলেন তৃতীয়টি। তবে এরপর শাহিন শাহ আফ্রিদির উচ্ছ্বাসের মাত্র বাড়তে থাকলো, উদযাপনেও ছাপ পড়লো সেসবের। এক, দুই, হ্যাটট্রিকের পর যে তিনি করে ফেললেন ডাবল হ্যাটট্রিকই।

    টি-টোয়েন্টিতে ৭ম বোলার হিসেবে টানা চার বলে চার উইকেট নিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। এই চারটির সব উইকেটই বোল্ড, ইনিংসে তার নেওয়া ৬ উইকেটও তাই-- দুটিই নতুন রেকর্ড। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ভাইটালিটি ব্লাস্টে মিডলসেক্সের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছেন হ্যাম্পশায়ারের হয়ে খেলা পাকিস্তান পেসার, রবিবার সাউথ গ্রুপের ম্যাচে সাউতহ্যাম্পটনের এজিয়েস বোউলে। 

    ১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করা মিডলসেক্স ইনিংসের ১৮তম ও নিজের ৪র্থ ওভার করছিলেন আফ্রিদি, ৪ উইকেট বাকি রেখে মিডলসেক্সের প্রয়োজন ছিল ২২ রান। তবে ঠিক সেখানেই আটকে গেছে তারা, ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ ডেলিভারিতে আফ্রিদি একে একে বোল্ড করেছেন অ্যান্ড্রিউ সিম্পসন, স্টিভেন ফিন, থিলান ওয়ালাল্লাউইতা ও টিম মারটাহকে। এর আগে তিনি বোল্ড করেছিলেন স্টিভি এস্কিনাজি ও জন সিম্পসনকে। 

    আফ্রিদির আগে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ‘টানা চার’-এর এই কীর্তি ছিল জিম অ্যালেনবি, আল-আমিন হোসেন, আন্দ্রে রাসেল, রশিদ খান, লাসিথ মালিঙ্গা ও অভিমন্যু মিথুনের। তবে আফ্রিদির মতো সবকটিই বোল্ড ছিল না আর কারোর। টি-টোয়েন্টি এর আগে আরও ৩৭ বার দেখেছে ইনিংসে ৬ বা এর বেশি উইকেট- তবে এতগুলি বোল্ড দেখেনি আগে। 
     


    এদের মাঝে শ্রীলঙ্কা পেসার মালিঙ্গা ও আফগানিস্তান লেগস্পিনার রশিদের রেকর্ডটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে, দুটিই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে। মালিঙ্গা পাল্লেকেলেতে পরে ব্যাটিং করা নিউজিল্যান্ড ইনিংসের ৩য় ওভারের ৩য় ডেলিভারি থেকে টানা ৪ উইকেট নিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। আর রশিদ দুই ওভার মিলিয়ে দেরাদুনে ধসিয়ে দিয়েছিলেন আইরিশদের। 

    ২০১৯ সালেই ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে কর্নাটক পেসার মিথুনের টানা ৪ উইকেট এসেছিল হরিয়ানার ইনিংসের শেষ ওভারে। 

    সবার আগে এই কীর্তি ছিল লেস্টারশায়ার পেসার অ্যালেনবির, ২০০৮ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। এরপর ২০১৩ সালে মাস তিনেকের ব্যবধানে এই রেকর্ড গড়েছিলেন রাসেল ও আল-আমিন। সেপ্টেম্বরে বেঙ্গালুরুতে রাসেল খেলছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের হয়ে, ভারত ‘এ’ দলের ইনিংসের ১৯তম ওভারে রাসেল এই ‘ডাবল’ হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

    আর ডিসেম্বরে সিলেটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাদশের হয়ে আবাহনীর বিপক্ষে বিজয় দিবস কাপে খেলছিলেন আল-আমিন, আবাহনী ইনিংসের শেষ ওভারের শেষ ৪ বলে তার শিকার হয়েছিলেন নাজমুল হোসেন, সোহরাওয়ার্দি শুভ, নাঈম ইসলাম ও নাবিল সামাদ। সে ওভারের প্রথম বলে আল-আমিন আবার ফিরিয়েছিলেন মেহদি হাসান সিদ্দিককে, ফলে ৬ বলে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। 

    ৪ বলে ৪ উইকেটে আফ্রিদিসহ আছেন ৭ জন, ৫ বলে ৪ উইকেট নেওয়া আছেন আরও ৫ জন- আসিফ আফ্রিদি, মাইকেল বেটস, সিঙ্গিরাই মাসাকাদজা, অমিত মিশ্র ও টিম সাউদির। কার্যত ৬ বলে ৫ উইকেটের রেকর্ডটি একমাত্র আল-আমিনেরই তাই। সেদিন ১৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, এর সবকটিই শেষ ওভারে! 


    এ তালিকায় অ্যালেনবি ও রাসেলের দলই শুধু হেরেছিল। ১৯ রানে ৬ উইকেট নেওয়া আফ্রিদির দল হ্যাম্পশায়ারের জয়টা অবশ্য শুধুই স্বান্ত্বনার। স্বান্ত্বনার চেয়ে বোধহয় ‘স্বস্তি’ শব্দটা বেশি খাটবে এখানে আফ্রিদি ও হ্যাম্পশায়ার দুইয়ের ক্ষেত্রেই। ১০ ম্যাচে দুই জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে তারা, এর আগে সর্বশেষ এসেক্সের বিপক্ষে জয়ের পর টানা ৭ ম্যাচ হেরেছিল তারা। 

    পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরের পর এই টুর্নামেন্টে সমারসেটের হয়ে আগে থেকেই চুক্তি থাকা বাবর আজমের সঙ্গে থেকে গিয়েছিলেন আফ্রিদি ও ইমাদ ওয়াসিম, পরেরজন খেলেছেন নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে। বাবর ও ইমাদ আলো ছড়ালেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন শাহিন। এর আগে ৬ ইনিংসে তিনি ছিলেন উইকেটশূন্য। বীভৎস টুর্নামেন্টের শেষটা অন্তত হাসিমুখে করতে পারলেন তিনি। শাহিনের ১৯ রানে ৬ উইকেটের ফিগার হ্যাম্পশায়ারের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সেরা, আর তার হ্যাটট্রিক তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়। 

    সব মিলিয়ে ১৯ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার, সবকটিই বোল্ড। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বোল্ডের রেকর্ড এখন তারই। 

    টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডটি কলিন অ্যাকারম্যানের, গত বছর গ্রেস রোডে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ১৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন লেস্টারশায়ার অফস্পিনার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই রেকর্ডটি ভারতের দীপক চাহারের, গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে নাগপুরে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি ৭ রান দিয়ে। 


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন