• ইউয়েফা সুপার কাপ
  • " />

     

    অতিরিক্ত সময়ের গোলে বায়ার্নের সুপার কাপ জয়

    ফুল টাইম

    বায়ার্ন মিউনিখ ২ -১ সেভিয়া


    ম্যাচটি জিততে বায়ার্নকে সত্যিই কষ্ট করতে হয়েছে। শেষ কবে বায়ার্নকে একটি ম্যাচ জিততে এতটা ঘাম ঝরাতে হয়েছে, সেটা মনে করা মুশকিল। ১৩ মিনিটে পিছিয়ে পড়া থেকে শুরু, এরপর সমতায় ফিরলেও জয়সূচক গোল আর আসে না। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ১০৪ মিনিটে জাভি মার্টিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত হয় বায়ার্নের। মৌসুমের প্রথম শিরোপা হিসেবে ইউয়েফা সুপার কাপ উঁচিয়ে ধরেছেন মুলার-লেভানডফস্কিরা।

    হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় ম্যাচটি দেখতে হাজির হয়েছিলেন প্রায় ১৫ হাজার দর্শক। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তারা দুই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নের ‘শো-পিস’ ম্যাচটি উপভোগ করেছেন। করোনা মহামারী শুরুর পর এই প্রথম ইউরোপিয়ান কোনো ম্যাচে দর্শকরা মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ পেলেন। জার্মান সরকার বারবার সতর্ক করে দিলেও অনেক বায়ার্ন সমর্থক ম্যাচটি দেখতে জার্মানি থেকে হাঙ্গেরিতে এসেছিলেন।


    চ্যাম্পিয়নস লিগে কাউকে পাত্তা দেয়নি বায়ার্ন। একের পর এক প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে শিরোপা জিতে নেয়। তবে সেভিয়াকে শুরু থেকেই সমীহ করে খেলছিল বায়ার্ন। রেকর্ড ছয়বারের ইউরোপা লিগ জয়ীদের দলে বড় নাম খুব বেশি না থাকলেও দলটি অত্যন্ত পরিশ্রম করতে জানে। আর বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকে বেশ সুগঠিত হয়ে খেলছিল সেভিয়া।

    সেই ধারাতেই ১৩ মিনিটে বায়ার্নের বক্সের ভেতর ঢুঁকে যান এই মৌসুমে বার্সেলোনা থেকে সেভিয়ায় আসা ইভান রাকিটিচ। বক্সের মধ্যেই তাকে ফাউল করে বসেন ডেভিড আলাবা। আর সেখান থেকে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ‘নো-লুক’ স্পট কিকে ম্যানুয়েল নয়ারকে পরাস্ত করেন সেভিয়ার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লুকাস ওকাম্পোস।

    গোলের ফোয়ারা ছোটানোর বদলে উল্টো পিছিয়ে পড়ে বায়ার্ন মিউনিখ। তবে তাদেরও সমতাসূচক গোলটি পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে লেভানডফস্কি বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বলটিকে ডান পা দিয়ে নামিয়ে লিওন গোরেতস্কার কাছে দেন। সেখান থেকে দারুণ প্লেসিং শটে দলকে সমতায় নিয়ে আসেন তিনি।


    তবে এরপর আর দুই দল গোলের দেখা পায়নি সহজে। আর গোল করলেও সেটি অফসাইডের কবলে পড়ে বাতিল হয়ে গেছে। লেভানডফস্কি এবং লেরয় সানের দুটি গোল এভাবে বাতিল হয়ে গেছে। যদিও ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষদিকে গোলের অন্যতম সেরা সুযোগটি পেয়েছিল সেভিয়া। বদলি হিসেবে নামা ইউসুফ আন-নাসিরির সামনে ছিলেন শুধু বায়ার্ন গোলরক্ষক নয়ার। তাকে পরাস্ত করতে পারলেই শিরোপা। কিন্তু সেখান থেকে বল জালে পাঠাতে পারেননি তিনি। হাতের আলতো ছোঁয়ায় সেভিয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করেন নয়ার।

    নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ গোলে সমতায় তছিল দুই দলই। তাই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচের ১০৪ মিনিটে অবশেষে আকাঙ্ক্ষিত গোলটি পায় বায়ার্ন। বক্সের বাইরে থেকে আলাবার শট ঠেকিয়ে দিলেও তা ক্যাচ করতে পারেননি সেভিয়া গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। আর তাতেই সর্বনাশ হয়ে সেভিয়ার। বল ঠেকিয়ে দিয়ে সেটি সোজা গোলমুখে থাকা জটলার মধ্যে ঠেলে দেন বুনু। আর সেখান থেকে হেডে বল জালে জড়িয়ে বায়ার্নের শিরোপা নিশ্চিত করেন মার্টিনেজ।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন