• ক্রিকেট, অন্যান্য
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    ভিনদেশের টি-টোয়েন্টি লিগের ফাইনালে বাংলাদেশীরা : সাকিব-মোস্তাফিজকে ছোঁয়া হলো না তামিমের

    সাকিব আল হাসান-- দেশের বাইরে টি-টোয়েন্টি লিগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্বকারি। আইপিএল থেকে শুরু করে বিগব্যাশ, টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট থেকে শুরু করে পিএসএল বা সিপিএল-- সবই খেলেছেন তিনি। তামিম ইকবাল আইপিএলে একবার সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে সেবার ম্যাচ খেলা হয়নি। বিগব্যাশে এখনও খেলেননি তিনি। একটা জায়গায় সাকিবের চেয়ে অভিজ্ঞতায় একটু এগিয়ে তামিম, তিনি ২০১২-১৩ মৌসুমে খেলেছিলেন নিউজিল্যান্ডের লিগ সুপার স্ম্যাশে। ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের হয়ে খেলার সম্ভাবনা ছিল সাকিবেরও, তবে চোটের কারণে সেবার যাননি তিনি। 

    সেবার ফাইনালে খেলেছিলেন ওয়েলিংটন, তবে ৬ ম্যাচ খেলেই তামিম চলে এসেছিলেন। নিয়মিতদের চেয়ে অর্ধেক ম্যাচ খেললেও তামিমের চেয়ে সেবার বেশি রান ছিল ওয়েলিংটনের আর দুজনের, ৬৮ ও ৭৪ রানের দুটি ইনিংসও ছিল। 

    তামিমের সেই আক্ষেপটা হয়তো থেকে গিয়েছিল, এর আগে যে বিদেশের টি-টোয়েন্টি লিগের শিরোপার শেষ লড়াইয়ে নামা হয়নি তার। এবার পিএসএলে শুরুতে না থাকলেও প্লে-অফের আগে ডাক পেলেন। এর আগে তিন মৌসুমের প্রতিবারই এ টুর্নামেন্টে পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলেছিলেন তিনি, প্লে-অফ খেললেও ফাইনাল খেলা হয়নি। 

    লাহোর কালান্দারসের হয়ে এলিমিনেটর খেলতে হবে বলে প্রথম ম্যাচেই যাত্রা শেষ হয়ে যেতে পারতো তার, সেটি হয়নি, তামিম প্রথমবারের মতো খেলেছেন ফাইনাল। আগের দুই ম্যাচে ভাল শুরু এনে দেওয়াতে ভূমিকা রেখেছিলেন, এদিনও ভিন্নরকমের উইকেটে ভাল একটা ভিত গড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখলেন, ৩৮ বলে ৩৫ রান করে, যা তার দলের সর্বোচ্চ। তবে অসময়ে তিনি ও তার সতীর্থরা ফিরে আসায় এবং বাবর আজমের দুর্দান্ত ইনিংসে শিরোপা থেকে একটু দূরেই থামতে হলো তাকে। বাড়লো অপেক্ষাটাও। অন্য দেশে গিয়ে টি-টোয়েন্টি লিগের শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশীদের মাঝে থাকলো শুধু সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানেরই। 

    তামিমের আগে বাংলাদেশীদের বিদেশি লিগের ফাইনালে পারফরম্যান্সগুলির দিকেও এ সুযোগে ফিরে তাকানো যায় তাই… 

    সাকিব আল হাসান 

    আইপিএল ২০১২
    কলকাতা নাইট রাইডার্স-চেন্নাই সুপার কিংস 
    ১/২৫ (৩); ১১*(৭) 

    আইপিএলের দ্বিতীয় আসরে গিয়ে প্রথম ফাইনালের স্বাদ পেয়েছিলেন সাকিব। সে মৌসুমে এর আগে খেলেছিলেন ৭ ম্যাচ। চিপকের ফাইনালে আগে ব্যাটিং করে ১৯০ রান তুলেছিল চেন্নাই, যে ৩টি উইকেট গিয়েছিল, তার দুটিতে ছিল সাকিবের নাম-- ৩৮ বলে ৭৩ রান করা সুরেশ রায়নাকে ফেরানোর আগে মুরালি বিজয়ের ক্যাচ নিয়েছিলেন রজত ভাটিয়ার বলে। ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন যখন কলকাতার প্রয়োজন ছিল ১৯ বলে ২৭ রান। ১৯তম ওভারের ৫ম বলে জ্যাক ক্যালিসের উইকেট কাজটা কঠিন করে তুলেছিল কলকাতার, পরের দুই বলে মোমেন্টাম ফিরিয়ে এনেছিলেন সাকিব। শেষ বলটা প্রথমে বেন হিলফেনাস করেছিলেন নো, সেটিতে ডাবলস নেওয়ার পর পরেরটিতে চার মেরেছিলেন। শেষ ওভারে ডোয়াইন ব্রাভোকে তৃতীয় ও চতুর্থ বলে চার মেরে কলকাতাকে উল্লাসে ভাসিয়েছিলেন মনোজ তিওয়ারি।  


    আইপিএল ২০১৪ 
    কলকাতা নাইট রাইডার্স-কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব
    ০/২৬ (৪); ১২ (৭) 

    এক মৌসুম পর আবারও ফাইনালে, আগের মতোই চ্যাম্পিয়ন তার দল কলকাতা। এবার প্রতিপক্ষ ছিল পাঞ্জাব। চিন্নাস্বামিতে ঋদ্ধিমান সাহার সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৯৯ রান তুলেছিল পাঞ্জাব, তবে সে ডামাডোলেও ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়েছিলেন তিনি, ফাইনালে কলকাতার ৫ বোলারের মাঝে সবচেয়ে ভাল ইকোনমি ছিল তারই। এরপর পাঁচে নেমে দুই চারে করেছিলেন ৭ বলে ১২ রান। জর্জ বেইলির ডিরেক্ট থ্রোয়ে হয়েছিলেন রান-আউট, তবে মনীশ পান্ডের ৫২ বলে ৯৪ রানে ভর করে তিন মৌসুমের মাঝে দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছিল সাকিবের কলকাতা। 

    সিপিএল ২০১৬
    জ্যামাইকা তালাওয়াস-গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স
    ২/২৫ (৪)

    ২০১৩ সালে প্রথমবার খেলতে গিয়েছিলেন বার্বাডোসের হয়ে, সেবার খেলেছিলেন সেমিফাইনাল। প্রথম ফাইনাল খেললেন দ্বিতীয়বার খেলতে গিয়ে, জ্যামাইকা তালাওয়াসের হয়ে। ২০১৬ সালে ফাইনালের আগে ১০ ম্যাচ খেলে নিয়েছিলেন সমানসংখ্যক উইকেট, সঙ্গে করেছিলেন ১৬০ রান। সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে প্রথম ইনিংসের পরই ম্যাচের অনেকখানি হেরে গিয়েছিল গায়ানা, ৯৩ রানেই গুটিয়ে গিয়ে। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে সাকিব নিয়েছিলেন ২ উইকেট। তিনি ছাড়াও উইকেট নিয়েছিলেন বাকি ৪ বোলারই-- আন্দ্রে রাসেল, ইমাদ ওয়াসিম, কেসরিক উইলিয়ামস ও ওশ্যান থমাস। গায়ানার স্কোর জ্যামাইকা তাড়া করেছিল ৪১ বল বাকি থাকতেই।  

    আইপিএল, ২০১৮
    সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-চেন্নাই সুপার কিংস
    ২৩ (১৫); ০/১৫ (১)

    দীর্ঘদিনের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা ছেড়ে এবার হায়দরাবাদে এসেছিলেন সাকিব, নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে প্রথম মৌসুমেই গিয়েছিলেন ফাইনালে। আগে ব্যাটিং করেছিল হায়দরাবাদ, চারে নেমে সাকিব করেছিলেন ১৫ বলে ২৩ রান। এর সঙ্গে কেন উইলিয়ামসনের পর ইউসুফ পাঠান ও কার্লোস ব্রাথওয়েটে ভর করে ১৭৮ রান তুলেছিল হায়দরাবাদ। ১১তম ওভারে প্রথমবার বোলিং করতে এসেছিলেন, ১ম বলে শেন ওয়াটসনের পর শেষ বলে সুরেশ রায়নার কাছে ছয় খেয়ে সে ওভারে দিয়েছিলেন ১৫ রান। আর বোলিংয়ে আসেননি, ওয়াঙ্খেড়েকে সেদিন নিজের করে নিয়েছিলেন শেন ওয়াটসন, ৫৭ বলে অপরাজিত ছিলেন ১১৭ রানে। চেন্নাইয়ের কাছে হেরে বিদেশী লিগে এটি ছিল সাকিবের প্রথম পরাজিত দলে থাকা।
     


    সিপিএল, ২০১৯
    বার্বাডোস ট্রাইডেনটস-গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স
    ১৫ (১৫); ০/১৮ (২)

    ২০১৭ সালে খেলতে গিয়েই আবারও বার্বাডোসে ফিরেছিলেন সাকিব। তবে সেবার খেলেছিলেন মাত্র ৩ ম্যাচ, বার্বাডোসও বিদায় নিয়েছিল প্লে-অফের আগেই। এরপর ২০১৯ সালে আবারও ফাইনালে সাকিবের বার্বাডোস, আবারও শিরোপা। পাঁচে নেমে রান-আউট হওয়ার আগে সমানসংখ্যক বলে করেছিলেন ১৫ রান। শুরুতে জনসন চার্লস ও শেষে জোনাথন কার্টারের ঝড়ে বার্বাডোস তুলেছিল ১৭১, ২০ ওভার ব্যাটিং করেও ১৪৪ রানে আটকে গিয়েছিল গায়ানা। ২ ওভার বোলিং করে সাকিব দিয়েছিলেন ১৮ রান, তবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ঠিকই।  



    মোস্তাফিজুর রহমান 

    সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু
    আইপিএল ২০১৬
    ১/৩৭ (৪)

    সে আইপিএল ছিল মোস্তাফিজের। প্রথমবার খেলতে গিয়েছিলেন, প্রথমবারই বাজিমাত। ১৬ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। তার চেয়ে বেশি উইকেট ছিল ৪ জনের, সবার গড়ই ছিল তার চেয়ে বেশি, তবে তারা কেউই তার চেয়ে বেশি ওভার বোলিং করেননি তার চেয়ে কম ইকোনমি রেটে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অন্যতম ভরসার নাম ছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। সেটির প্রমাণ দিয়েছিলেন ফাইনালেও। 

    শেষ ৪ ওভারে ৬ উইকেট নিয়ে ৪৭ রান প্রয়োজন ছিল ২০৯ রান তাড়া করা বেঙ্গালুরুর। সে ৪ ওভারের অর্ধেক করেছিলেন মোস্তাফিজ, অর্ধেক করেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। ১৭তম ওভারে ফিরিয়েছিলেন শেন ওয়াটসনকে, সে ২ ওভারে ২২ রান দিলেও ভুবনেশ্বরকে নিরাপদে রাখতে পেরেছিলেন, হায়দরাবাদও ছিল নিরাপদেই। আইপিএলের সে আসরে সেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হয়েছিলেন তিনি, অমন পারফরম্যান্সের পর চ্যাম্পিয়ন দলে থাকাটা তার প্রাপ্যই ছিল, সেটি নিয়ে দ্বিমত করবেন কে! 


    এনামুল হক বিজয় 

    কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস-পেশোয়ার জালমি
    পিএসএল ২০১৭ 
    ৩(৯) 

    তিন নম্বরে নেমে ৯ বলে ৩ রান-- এনামুল হক বিজয়ের একমাত্র পিএসএল ম্যাচের স্কোরশিট। তবে সে ম্যাচটিই ছিল ফাইনাল। এর আগে-পরে সে লিগে আর কোনও ম্যাচ খেলেননি তিনি, খেলেননি আর কোনও বিদেশী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেও। 

    পিএসএলের প্রথম আসর সংযুক্ত আরব আমিরাতে হলেও দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল লাহোরে আয়োজন করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের বেশ কয়েকজন বিদেশী ক্রিকেটার নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন, এরপরই মূলত ডাক পড়েছিল বাংলাদেশ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের। সে ম্যাচে উইকেটকিপিং-ও করেননি, পেশোয়ার জালমির কাছে বড় ব্যবধানেও হেরেছিল তার দল।  

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন